বৈশ্বিক মেমোরি চিপ বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোকে পাশ কাটিয়ে শীর্ষস্থান দখল করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। এ লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছে দেশটির সরকার। শিল্প পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মেমোরি চিপ বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্য ও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ইকোসিস্টেম দেশটিকে বিশ্বব্যাপী এআই চিপ তৈরিতে সুবিধা দিয়ে থাকে। খবর সিএনবিসি।
এশিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ডাল্টন ইনভেস্টমেন্টের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেমস লিম বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার মেমোরি চিপগুলো শক্তিশালী। এআইয়ের জন্য প্রচুর মেমোরির প্রয়োজন হয়। তাছাড়া মেমোরি চিপ বাজারে দক্ষিণ কোরিয়ার আধিপত্য দেশটিকে বড় ধরনের সুবিধা দেয়।’
২০২৭ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ তিনটি পাওয়ারহাউজের মধ্যে একটি হয়ে উঠতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া। তাছাড়া দেশটি এর ডিজিটাল কৌশল নির্ণয়ে অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে অনুসরণও করে। দেশটির বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী জং হো লি সিএনবিসিকে জানান, তাদের লক্ষ্য মেমোরি সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান বজায় রাখা। এআই সেমিকন্ডাক্টরের মতো দ্রুতবর্ধনশীল ও প্রতিশ্রুতিশীল ক্ষেত্রগুলোয় দক্ষিণ কোরিয়া বিশিষ্ট খেলোয়াড় হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী রীতিমতো আলোচনা সৃষ্টি করেছে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল চ্যাটজিপিটি। এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উচ্চদক্ষতাসম্পন্ন মেমোরি চিপের প্রয়োজন হয়। এ ধরনের জেনারেটিভ এআই মডেল চিপে অতীত কথোপকথন এবং ব্যবহারকারী সম্পর্কে বিশদ তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা থাকতে হয়। যেন তা মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। মেমোরি চিপগুলো কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটে স্টোরেজ ডিভাইস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
জেনারেটিভ এআই হচ্ছে এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা টেক্সট, ছবি, কোডসহ আরো অনেক কিছু তৈরিতে সক্ষম। বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ র্যানডম অ্যাক্সেস মেমোরি চিপমেকারদের মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি প্রতিষ্ঠান স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্স। নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কোম্পানিগুলো এআই গবেষণা ও উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ করছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
মার্চে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন সেমিকন্ডাক্টর তৈরিতে ৩০০ ট্রিলিয়ন ওন বা ২২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। গবেষণা সংস্থা ট্রেন্ডফোর্সের তথ্যানুসারে, ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের বাজার হিস্যা ছিল যথাক্রমে ৪০ দশমিক ৭ এবং ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। মাইক্রন ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে ছিল তৃতীয় অবস্থানে।
চ্যাটজিপিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান জুনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময় দেশটিকে এআই চিপ উৎপাদনের নেতৃত্ব দেয়ার কথা জানান। স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের মতো প্রধান চিপমেকারদের সঙ্গে অংশীদারত্বের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার স্টার্টআপগুলোয় বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন অল্টম্যান।
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রচুর বিনিয়োগ করছে। ২০২২ সালে দেশটির বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে এআই সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১ দশমিক শূন্য ২ ট্রিলিয়ন ওন বা ৭৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তহবিল বরাদ্দ দেয়া হবে। এদিকে নতুন ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে হাই-এন্ড চিপ তৈরিতে কাজ করার জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ দেশটি ৮২ হাজার ৬২০ কোটি ওন বরাদ্দের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।










