চাকরি খোঁজার সহজ সমাধান হতে পারে অনলাইনে ঢুঁ মারা। কোম্পানিগুলো বিভিন্ন প্লাটফর্মে কর্মীর খোঁজে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। এর অনেকগুলোই ‘ঘরে বসে সহজেই আয় করুন’ ঘরানার বক্তব্য হরহামেশাই দেখা যায়। প্রযুক্তির প্রসারে যেমন চাকরির সুযোগ বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ভুয়া চাকরির ফাঁদও। এসব ক্লিকভিত্তিক চটকদার বিজ্ঞাপনে বাস্তবে কাজের সুযোগ তো পাওয়া যা-ই না, বরং টাকা খুইয়ে কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হয়ে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হতে হয়।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসেই চাকরির স্ক্যামে ভুক্তভোগীর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ২২ কোটি ডলারে। এসব স্ক্যামের বড় অংশজুড়ে রয়েছে তথাকথিত ‘টাস্ক স্ক্যাম’, যেখানে ভিডিওতে লাইক দেয়া বা ছবি রেটিংয়ের মতো কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফাঁদ পাতা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে হলে কিছু সাধারণ বিষয় মাথায় রাখলেই অনেকটা নিরাপদ থাকা সম্ভব। এপি অবলম্বনে অনলাইনভিত্তিক চাকরির স্ক্যাম থেকে সুরক্ষিত থাকার কয়েকটি কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—
অপরিচিত বার্তা থেকে সাবধান
অপ্রত্যাশিতভাবে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কেউ আকর্ষণীয় চাকরির প্রস্তাব দেন, তাহলে সাবধান হতে হবে। প্রতারকরা অনেক সময় এমনভাবে কথা বলেন, যাতে তাদের বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। কিন্তু এটি আসলে একটি প্রস্তুত স্ক্রিপ্ট বা সফটওয়্যার-চালিত বার্তা হতে পারে।
টাকা দিয়ে চাকরি নয়
চাকরি পেতে বা কাজের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে বলা হলে বুঝতে হবে এটি স্পষ্টত প্রতারণা। স্ক্যামাররা প্রথমে কিছু কাজ করিয়ে অ্যাপে বা ওয়েবসাইটে আয়ের নমুনা দেখান। পরে তা তুলতে চাইলে বিনিময় হিসেবে প্রথমে অর্থ পাঠানোর কথা বলা হয়। একবার টাকা দিলে সে অ্যাকাউন্টের অ্যাকসেস আর পাওয়া যায় না, নয়তো সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
সন্দেহজনক কাজের বিবরণ এড়ানো
যেসব বিজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে কাজের বিবরণ উল্লেখ করা নেই কিংবা তাতে বলা হয়, ‘অভিজ্ঞতা ছাড়াই তৎক্ষণাৎ নিয়োগ’, সেক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি সমচেয়ে বেশি। আসল কোম্পানি বা নিয়োগদাতা সাধারণত কাজের ধরন, দায়িত্ব ও শর্তাবলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে।
ইন্টারভিউ ছাড়া নিয়োগে সতর্কতা
একটি চাকরি পেতে সাধারণত কিছু ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়—আবেদন, পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, যাচাই ইত্যাদি। কিন্তু স্ক্যামাররা আবেদন করলেই ‘নিয়োগ নিশ্চিত’ ধাঁচের বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। যাচাই প্রক্রিয়ায় না গিয়েই নিয়োগের জন্য তাগাদা দেয়। এ ধরনের অফার এলে কোম্পানির নাম সার্চ করে তার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট, গ্লাসডোর বা ক্রাঞ্চবেসের মতো প্লাটফর্মে প্রোফাইল সম্পর্কে খোঁজ নেয়া জরুরি।
অবাস্তব বেতন বা সুবিধা মানেই সন্দেহ
যদি কোনো চাকরির অফারে অতি উচ্চ বেতন, তাৎক্ষণিক পদোন্নতি বা অদ্ভুত রকমের সুবিধার কথা বলা হয়, তবে সেটি সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। বাস্তবতা যাচাই না করে কখনই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু সতর্ক না হলে সুযোগের চেয়ে ঝুঁকিই বেশি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অনলাইনে কোনো চাকরির প্রস্তাব পেলেই সেটি যাচাই করে দেখা জরুরি—তা যতই বাস্তব মনে হোক না কেন। কারণ একবার প্রতারণার শিকার হলে শুধু টাকা নয়, বিশ্বাসও হারানোর ঝুঁকি থাকে।










