যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে একটি বড় প্রকল্পের নেতৃত্ব দেবে লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রকল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সরকার ও সেনাবাহিনীকে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসবাদ, সাইবার আক্রমণ ও অন্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় আরো কার্যকরভাবে সহায়তা করা হবে। খবর বিবিসি।
প্রকল্পটির জন্য যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ১০ লাখ পাউন্ডের একটি গবেষণা চুক্তির অনুমোদন দিয়েছে। লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজসহ সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কনসোর্টিয়ামকে নেতৃত্ব দেবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য এআইভিত্তিক ‘ওয়ারগেম’ তৈরি, যা বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকরণ করবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে।
লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর জুলিয়ান ফ্রি জানান, এআই ব্যবহার করে আমরা আমাদের ও শত্রুপক্ষের কৌশল ও পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করতে পারব। সম্ভব হলে আরো ভালো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যাবে।
এ ওয়ারগেমগুলোর মাধ্যমে সরকার ভবিষ্যতের বিভিন্ন জাতীয় নিরাপত্তা সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবে। এর মধ্যে থাকবে সামরিক বাহিনী ছাড়াও পুলিশের মতো অন্যান্য জরুরি পরিষেবার ভূমিকা, শত্রু রাষ্ট্রের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক বিঘ্ন, বা পরিবেশগত সংকটের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলা।
লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি এআই কেন্দ্রের প্রধান প্রফেসর ফিওনা স্ট্রেন্স জানান, এই গবেষণা প্রকল্পে মূলত লিংকনশায়ারের খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের জন্য তৈরি এআই ব্যবহার করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এ বিশাল সক্ষমতাকে প্রতিরক্ষা সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করছি। তিনি আরো বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে এআই ব্যবহার করছে, তবে এআই প্রযুক্তি এত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে তার তাল মিলিয়ে চলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই গবেষণা চলমান না রাখলে পিছিয়ে পড়া স্বাভাবিক।
লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় এরই মধ্যে এআই গবেষণা ও প্রকল্পে ব্যাপকভাবে যুক্ত এবং ৮৪টি স্থানীয় এআই কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছে, যেগুলোর মধ্যে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টি গ্রেটার লিংকনশায়ার রিজিওনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ক্লাস্টার এবং ডিসিশনওয়ার্কস প্রকল্পের অংশ, যা একাডেমিক, বেসরকারি ও সরকারি খাতকে একত্রিত করে গবেষণা ভাগাভাগি ও নতুন সুযোগ তৈরি করে।










