অনলাইন কনটেন্টের ক্ষেত্রে শিশুদের বয়স যাচাইকরণের নতুন নিয়মকে ‘বড় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের প্রধান মেলানি ডস। চলতি মাসের শেষ দিকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা। তবে অনেক অভিভাবক ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, শিশুর অনলাইন সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। খবর দ্য গার্ডিয়ান

গত রোববার বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অফকম প্রধান জানান, চলতি মাসের ২৫ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এ নিয়মগুলো অনলাইন প্লাটফর্মে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বড় পরিবর্তন আনবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি কার্যকর হওয়া এ আইনগুলোর ফলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অনুপযুক্ত কনটেন্ট—যেমন পর্নোগ্রাফি, আত্মহত্যা ও আত্মঘাতমূলক কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে অথবা কঠোর বয়স যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করতে হবে।’ এটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ উদ্যোগকে ঘিরে কিছু সমালোচনাও রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তাদের মধ্যে একজন ইয়ান রাসেল, যার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে মলি ২০১৭ সালে আত্মহত্যা করে। জানা যায়, মলি আত্মহত্যার আগে বিষণ্ণতা, আত্মঘাতমূলক ও আত্মহত্যা সম্পর্কিত হাজার হাজার অনলাইন পোস্ট দেখেছিল।

রাসেল মনে করেন, অফকমের প্রচারণা দেখে মনে হচ্ছে সবকিছু এক মাসের মধ্যেই বদলে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, তারা এখনো যথেষ্ট শক্তভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারকে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা এখন এক ধরনের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। একদিকে স্বজনহারা পরিবারগুলো, অন্যদিকে বড় প্রযুক্তি প্লাটফর্মগুলোর চাপ।

২০২৩ সালে গৃহীত অনলাইন সেফটি আইন অনুযায়ী এ নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। তবে ২০২২ সালে মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ওপর রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে আইনটির কিছু অংশ বাতিল করা হয়েছিল।

অন্যদিকে কিছু সংসদ সদস্য ও পর্যবেক্ষক বলছেন, আইনটি ভুল তথ্য বা ‘মিসইনফরমেশন’ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। গত বছর সাউথপোর্টে হত্যাকাণ্ড ও দাঙ্গার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

তবে অফকম প্রধান বলেছেন, যদি পার্লামেন্ট ভুল তথ্য নিয়ন্ত্রণসহ আরো ক্ষমতা দেয়, তাহলে তারা তা বাস্তবায়নে প্রস্তুত।