প্রযুক্তি খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিরোধ অন্যতম আলোচ্য বিষয়। সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ উৎপাদনসংক্রান্ত প্রযুক্তি থেকে শুরু করে উপাদান সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর এবার নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাইডেন প্রশাসন। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) মডেল ও সফটওয়্যার ব্যবহার থেকে চীনকে বিরত রাখতে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে দেশটি। খবর রয়টার্স।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে। ফলে দেশটির নিজস্ব ও ক্লোজড সোর্স এআই মডেল রফতানি করা যাবে না। এছাড়া এসব মডেলের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও তথ্যও গোপন রাখতে হবে।

সামরিক খাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চীন এগিয়ে যাচ্ছে এমন শঙ্কায় আধুনিক এআই চিপের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রযুক্তিবিদদের মতে নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা মানের আগের অবস্থাকে আরো কঠিন করে তোলা। এ বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের চীন দূতাবাসে যোগাযোগ করা হলেও উত্তর পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে মাইক্রোসফটের অর্থায়নে ওপেনএআই, অ্যালফাবেট মালিকানাধীন গুগলের ডিপমাইন্ড ও প্রতিযোগী অ্যানথ্রোপিকসহ বিভিন্ন কোম্পানি ক্লাউডনির্ভর এআই মডেল তৈরি করেছে। সরকারি নজরদারি ছাড়াই কোম্পানিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব মডেল বিক্রি করছে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের গবেষকদের শঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র নয় এমন দেশগুলো এসব মডেলের অপব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে এসব মডেলে থাকা বিপুল তথ্য হাতিয়ে নিয়ে সাইবার হামলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী কনটেন্ট তৈরি করতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, এআই মডেলের রফতানি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সরকার গত বছরের অক্টোবরে একটি নির্বাহী আদেশের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারে। একটি মডেলের প্রশিক্ষণে কী পরিমাণ কম্পিউটিং পাওয়ার প্রয়োজন এর ভিত্তিতে নির্বাহী আদেশটি দেয়া হয়েছিল। 

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সম্প্রদায়, থিংক ট্যাংক এবং শিক্ষাবিদরা উন্নত এআই সক্ষমতার অপব্যবহার ও ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। গ্রিফন সায়েন্টিফিক অ্যান্ড র‍্যান্ড করপোরেশনের গবেষকরা জানান, উন্নত এআই মডেলগুলো এমন তথ্য সরবরাহ করতে পারে, যার মাধ্যমে জৈব অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি জানায়, অপরাধীরা এআইয়ের সহায়তায় বড় পরিসরে শক্তিশালী সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে। এ সমস্যা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র এআই চিপ ও টুল রফতানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এছাড়া কোনো বিদেশী গ্রাহক যদি মার্কিন ক্লাউড কোম্পানির পরিষেবা গ্রহণের মাধ্যমে এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে।