অর্থনৈতিক নীতির অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জোর দিচ্ছেন দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সর্বজনীনের দিকে। ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশে সর্বজনীন ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে কোটি ডলারের বিলও পাস করেছেন তিনি। সম্প্রতি হোয়াইট হাউজ দেশটির ৫০টি প্রদেশে উচ্চগতিসম্পন্ন ব্রডব্যান্ড সেবা সর্বজনীন করার লক্ষ্যে ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দের ঘোষণা দেয়। খবর রয়টার্স। 

ব্রডব্যান্ড ইক্যুইটি অ্যাকসেস অ্যান্ড ডিপ্লয়মেন্ট প্রোগ্রামের অধীনে ২০২১ সালে অবকাঠামো আইনের অংশ হিসেবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা দেয়া হয়। ওই তহবিল থেকেই সর্বজনীন ইন্টারনেট সেবার অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা বিভিন্ন অঞ্চলে ইন্টারনেট প্রাপ্তি সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধান নিশ্চিতে কাজ করবে।  

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধিক জনবহুল প্রদেশ টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়া। এ দুই প্রদেশে যথাক্রমে ৩১০ ও ১৯০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা অন্যতম শীর্ষ বরাদ্দ। তুলনামূলক কম জনবহুল রাজ্য যেমন ভার্জিনিয়া, আলাবামা ও লুইসিয়ানায় ব্রডব্যান্ড অ্যাকসেসের অভাব থাকলেও তালিকার শীর্ষ ১০ বরাদ্দ থেকে বাদ পড়েছে। তাছাড়া এ প্রদেশগুলোয় গ্রামীণ এলাকার পরিমাণ বেশি ও বড় বড় শহরের তুলনায় কম ইন্টারনেট সংযোগ বিদ্যমান। 

হোয়াইট হাউজে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘‌উচ্চ গতির ইন্টারনেটের বিপরীতে এখন পর্যন্ত এটি সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। বর্তমান অর্থনীতিতে বিদ্যুৎ, পানি বা অন্যান্য মৌলিক পরিষেবার মতো সবার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’ 

রয়টার্সে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, প্রতিটি প্রদেশের জন্য ন্যূনতম বরাদ্দকৃত তহবিলের পরিমাণ ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে ভার্জিন আইল্যাল্ডের মতো প্রদেশগুলোয় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। 

প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ইন্টারনেট সম্পর্কিত ঘোষণাটি মূলত আগামী নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত। মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহার মার্কিন অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জো বাইডেন কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছেন, বেকারত্বের হার হ্রাস করেছেন, মূল্যস্ফীতি ও সম্ভাব্য মন্দার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেছেন ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোটাররা এ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে। 

আমেরিকার প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৫ লাখ অঞ্চল রয়েছে, যেখানে কোনো ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেই। এদিকে ভেরিজোন, কমকাস্ট, চার্টার কমিউনিকেশন ও এটিঅ্যান্ডটির মতো ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলো কম জনসংখ্যার গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহে অনাগ্রহী। কারণ এ ধরনের অঞ্চলে বিনিয়োগ ব্যয়বহুল হলেও খুব বেশি লোক ইন্টারনেট পরিষেবা গ্রহণ করে না। ফলে বিনিয়োগ ফলপ্রসূ হয় না। তবে কভিড-১৯ শাটডাউনের সময় শিক্ষার্থীদের যখন বাধ্য হয়ে অনলাইন ক্লাস করতে হয়েছিল তখন এ অঞ্চলগুলোয় ইন্টারনেট সংযোগের অভাবের বিষয়টি সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। এ অবস্থায় প্রত্যাশা করা হচ্ছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ইন্টারনেট প্রাপ্তি সম্পর্কিত প্রাথমিক পরিকল্পনা জমা দেয়া হবে। তখন প্রতিটি প্রদেশের জন্য বরাদ্দকৃত মোট তহবিলের ২০ শতাংশ অর্থ দেয়া হবে। একবার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়ে গেলে সরকার অবশিষ্ট অর্থ ছাড় দেবে।