অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়াতে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ আমদানিতে অনুমতি গ্রহণের পাশাপাশি শুল্কারোপ করেছিল ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে যন্ত্রাংশ আমদানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোন বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা শেষে সম্প্রতি আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। খবর গিজমোচায়না।

প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে অন্যতম বাজার হয়ে উঠছে ভারত। বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের কারণে অ্যাপলসহ বিভিন্ন কোম্পানি এরই মধ্যে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম দেশটিকে স্থানান্তর করেছে। ভারত সরকারও উৎপাদন বাড়াতে ও কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে এবার শুল্ক হার কমানোর মাধ্যমে অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দেশটির অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরল।

প্রযুক্তিবিদ ও বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, ভারতে স্মার্টফোনের উৎপাদন বাড়াতে এবং দাম নাগালের মধ্যে রাখতে আমদানি শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে আনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে যেসব কোম্পানি স্মার্টফোন তৈরি করে থাকে তারা ক্যামেরা লেন্স, ব্যাক কভার, প্লাস্টিক ও ইস্পাতের তৈরি মেকানিক্যাল যন্ত্রাংশ, জিএসএম অ্যান্টেনাসহ অন্যান্য উপাদান কম শুল্কে আমদানি করতে পারবে। 

শুল্ক হার কমানোর নতুন এ ঘোষণার কারণে অ্যাপল, স্যামসাং, শাওমি, অপো, ভিভো, রিয়েলমি ও ওয়ানপ্লাসের মতো উৎপাদনকারীরা আরো বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে। পাশাপাশি ভারতে কার্যক্রম শুরুর জন্য অন্যদেরও আগ্রহী করে তুলবে।

ট্যাক্স কনসালটেন্সি সংস্থা মুর সিঙ্ঘির পরিচালক রজত মোহান বলেন, ‘স্মার্টফোন তৈরিতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক কমানোর ফলে বড় উৎপাদনকারীদের সুবিধা হবে। কোম্পানিগুলো ভারতে বড় পরিসরে মোবাইল অ্যাসেম্বলিং ইউনিট স্থাপন করতে পারবে এবং এর মাধ্যমে দেশটি থেকে স্মার্টফোন বাজারজাত বাড়াবে।’

২০২২ সালে ভারতে ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে স্থাপিত কারখানায় আইফোন ও এয়ারপডসের উৎপাদন শুরু করে। অন্যদিকে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট শাওমি ২০১৪ সাল থেকে দেশটিতে পাঁচটি কারখানায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কারখানা থেকে রেডমি, এমআই ও পকো ডিভাইস তৈরি এবং বাজারজাত করা হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং ২০০৭ সাল থেকে ভারতে পণ্য উৎপাদন করছে। কোম্পানির ছয়টি কারখানায় গ্যালাক্সি, এম ও এ সিরিজের স্মার্টফোন তৈরি করা হচ্ছে। তাই বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ ঘোষণা কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের বিভিন্ন পরিষেবার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাজার ভারত। গত বছর কোম্পানিটি ভারতকে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।  ভারতকে কোম্পানিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন হাবে রূপান্তরিত করাই এর লক্ষ্য।  এর অংশ হিসেবে এবার দেশটিতে স্মার্টফোন উৎপাদনের কথা ভাবছে কোম্পানিটি। এছাড়া ভারতে ক্রোমবুক ল্যাপটপও তৈরি করতে যাচ্ছে গুগল। এশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি বাজারে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। স্মার্টফোন বিক্রিতে অ্যাপলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠেছে ভারত। কোম্পানিটি কয়েক বছর আগে থেকেই ভারতে আইফোন তৈরি শুরু করে। কোম্পানিটির বিক্রি প্রবৃদ্ধিতে দেশটি বড় প্রভাবক হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।