প্রচলিত ধারণা হলো ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্তরা কর্মক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী নয়। তবে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইউনিভার্সিটি অব বাথের এক গবেষণার তথ্য বলছে, এ ধারণা ভুল। বর্তমান ডিজিটাল যুগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য আরো বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে ঠিকই। আবার একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআইকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মপরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত ব্যক্তিদের উৎপাদনশীল ও সন্তোষজনক কর্মজীবন উপভোগের সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে।

‘ওয়ার্কিং লাইভস উইথ ডিমেনশিয়া: আ ডিজিটাল ফিউচারস পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, ডিজিটাল বিপ্লব ভিন্নধর্মী চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে বৈষম্য আরো বাড়িয়ে দিতে পারে, তবে প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কর্মপরিবেশকে উন্নত, অভিযোজিত ও প্রয়োগের মাধ্যমে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের কর্মজীবন অব্যাহত রাখতে সহায়তা করতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব বাথের স্কুল অব ম্যানেজমেন্টের বিশেষজ্ঞ ড. জেমস ফ্লেচার বলেন, ‘মূল কথা হলো—আমাদের জনসংখ্যা ও কর্মশক্তি উভয়ই দ্রুত বার্ধক্যের দিকে যাচ্ছে, যেখানে ডিমেনশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। সঠিকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনলে এ রোগে আক্রান্তদের কর্মপরিবেশে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব এবং তা করা উচিত। বাস্তবতা হলো, বর্তমানে বিষয়টির কোনো অর্থবহভাবে সমাধান করা হচ্ছে না। এবং খুব কম ক্ষেত্রেই এ বিষয়ের কৌশলগত পরিকল্পনা দেখা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পূর্বধারণা আছে যে, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ডিজিটাল প্রযুক্তি সামলাতে পারেন না বা এর সুফল ভোগ করতে পারেন না। এবং তাদের প্রায়শই সবচেয়ে বেশি বয়স্কদের সঙ্গে একই দলে ফেলা হয়। কিন্তু বিষয়টি অন্যভাবে দেখা দরকার—একজন অভিজ্ঞ ৬০ বছর বয়সী কর্মী, যার প্রাথমিক পর্যায়ের ডিমেনশিয়া রয়েছে, তিনি ডিজিটাল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিপ্লবের মধ্য দিয়েই বড় হয়েছেন—সঠিক সহায়তা পেলে তার এখনো অনেক কিছু দেয়ার আছে।’

ড. ফ্লেচারের ভাষ্যমতে, কর্মপরিবেশে তুলনামূলকভাবে সহজ কিছু পরিবর্তন—যেমন আলোক ব্যবস্থাপনা, উপযুক্ত ফন্ট ও রঙের ব্যবহার, এবং ক্যালেন্ডার, ভয়েস-অ্যাকটিভেটেড কন্ট্রোল এবং স্বয়ংক্রিয় রিমাইন্ডার সরবরাহের মতো পদক্ষেপ—ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের জন্য বড় পার্থক্য তৈরি করে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এআই এখন অনেক ভালো সুযোগ এনে দিচ্ছে—এটি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের মুখোমুখি হওয়া অনেক সমস্যার দারুণ সমাধান দিতে পারে। যেমন প্রয়োজনীয় শব্দ মনে করিয়ে দেয়া, লেখা সাজানো এবং সঠিক ক্রমে শব্দ বসানো। এর সঙ্গে যদি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের জন্য হাইব্রিড কর্মপদ্ধতির সুযোগ যোগ হয়, তাহলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের উভয়ের জন্যই সুফল পাওয়া সম্ভব।’

(সায়েন্স ডেইলি অবলম্বনে)