অর্থনৈতিক নানা সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্মার্টফোন বাজার টানা সাত প্রান্তিক ধরে নিম্নমুখী ছিল। তবে এ সংকটাবস্থা কাটিয়ে গত বছরের শেষ প্রান্তিকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে খাতটি। বছরওয়ারি হিসাবে বাজার ৪ শতাংশ বেড়েছে এবং এ সময় ২ কোটি ৩৮ লাখের বেশি স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে। 

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিসের গবেষণা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত বছরের শুরুতেও অঞ্চলটির স্মার্টফোন বাজার দুর্বল অবস্থানে ছিল। মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় অনেকাংশেই নিম্নমুখী ছিল। বছর শেষে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে খাতটি। উৎপাদনকারী পর্যায়ে বিভিন্ন মডেল উন্মোচন ও উদ্যোগ নেয়ার কারণে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে।

ক্যানালিসের বিশ্লেষক শেং উইন চোউ বলেন, ‘স্মার্টফোন নির্মাতারা অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ঊর্ধ্বমুখী গতিপথকে কাজে লাগাচ্ছে।’ 

কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৮ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় শীর্ষে রয়েছে স্যামসাং। তবে বছরওয়ারি হিসাবে কোম্পানির বিক্রি ১৭ শতাংশ কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটি প্রিমিয়াম সেগমেন্টকে প্রাধান্য দেয়ায় মিডরেঞ্জ ও সাশ্রয়ীমূল্যের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি বলে জানা গেছে। 

স্যামসাংয়ের পর প্রথমবারের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে ১৬ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ট্রানশন। বছরওয়ারি হিসেবে কোম্পানিটি ১৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসসহ একাধিক নতুন বাজারে কোম্পানি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বলেই এ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

তৃতীয় স্থানে থাকা শাওমি ও অপো উভয়ের বাজার হিস্যা ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে শাওমি ৪৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখতে পেলেও অপো ২৭ শতাংশ অবনমনের মধ্যে ছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে কম পণ্য উন্মোচন করেছে শাওমি। যে কারণে বিদ্যমান পণ্য বিক্রিতে প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষক শেং উইন চোউ বলেন, ‘তৃতীয় প্রান্তিকে প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ ক্যাটাগরিতে একাধিক ডিভাইস বাজারজাত করা হয়। যে কারণে চতুর্থ প্রান্তিকে অধিকাংশ কোম্পানি মিডরেঞ্জ ও সাশ্রয়ীমূল্যের ক্যাটাগরিকে প্রাধান্য দিয়েছে।’ দামের দিক থেকে ফিলিপাইনসের বাজার বেশ সংবেদনশীল। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটির স্মার্টফোন বাজার বছরওয়ারি হিসাবে ৩২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

ক্যানালিসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের বাজার পুনরুদ্ধারের বিষয়ে বিশ্লেষকরা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পুনরুদ্ধার হয়নি। বিশেষ করে দেশটির অন্যতম দুই কোম্পানি মোবাইলওয়ার্ল্ড ও এফপিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। 

ক্যানালিসের আরেক বিশ্লেষক লি জুয়ান চিউ বলেন, ‘২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে যে পরিমাণ স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে তার ৮২ শতাংশই ছিল ২৯৯ ডলার বা তার কম দামি ডিভাইস।’ এ দামের ডিভাইস বাজারজাতের কারণে ট্রানশন প্রথমবারের মতো স্মার্টফোন বিক্রিতে এ অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কোম্পানি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

লি জুয়ান চিউ জানান, চলতি বছর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্মার্টফোন বিক্রি ৭ শতাংশ বাড়বে। কেননা এ বছর অনেক গ্রাহক স্মার্টফোন পরিবর্তন করবে। তবে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো উচ্চ সুদ হার ও মূল্যস্ফীতির কারণে ভোক্তা চাহিদায় বিরূপ প্রভাব পড়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।