সাম্প্রতিক বছরগুলোয় গেমিং দুনিয়া কনসোল ও ডেস্কটপ পিসির বাইরেও অনেক প্রসারিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় নতুন প্রযুক্তি হলো গেমিং হ্যান্ডহেল্ড ও গেমিং ল্যাপটপ, যা চলার পথে গেম খেলার অভিজ্ঞতা দেয়। কিন্তু ব্যবহারকারীভেদে কোনটি বেশি উপযুক্ত হতে পারে তা নিয়ে গিজমোচায়নার এ প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে—

বহনযোগ্যতা

বহনযোগ্যতা বা পোর্টেবিলিটির ক্ষেত্রে গেমিং হ্যান্ডহেল্ড স্পষ্টতই এগিয়ে। নিনতেন্দো সুইচ বা স্টিম ডেকের মতো ডিভাইসগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা সহজে বহন করা যায়। এগুলো হালকা, ছোট এবং এতে বিল্ট-ইন স্ক্রিন ও কন্ট্রোলার থাকে। যেখানেই থাকুন—বাসে, প্লেনে বা ঘরের সোফায় বসে এগুলো সহজেই ব্যাগে রেখে ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে গেমিং ল্যাপটপ যেমন অ্যালিয়েনওয়্যার এম১৮ আর২ বা আসুস আরওজি জেফিরাস, বহনযোগ্য হলেও এগুলো তুলনামূলকভাবে অনেক ভারী। এগুলোর ওজন ৪-৬ পাউন্ড। এছাড়া আরামদায়কভাবে ব্যবহার করতে জায়গার প্রয়োজন হয়। ফলে এগুলো ঘরে বা স্থির অবস্থায় গেম খেলার জন্য বেশি উপযোগী।

পারফরম্যান্স

পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে গেমিং ল্যাপটপ অনেক এগিয়ে। এতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেসর, যেমন ইন্টেল আই৭ বা আই৯ বা এএমডি রাইজেন৭ এবং শক্তিশালী গ্রাফিকস কার্ড, যেমন এনভিডিয়া আরটিএক্স সিরিজ থাকে। ল্যাপটপ যেমন অ্যালিয়েনওয়্যার এম১৮ আর২ বা এমএসআই টাইটান জিটি৭৭ ডেস্কটপের মতো পারফরম্যান্স দিতে পারে।

গেমিং হ্যান্ডহেল্ড যেমন স্টিম ডেক পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ, কারণ এগুলো আকার ও ব্যাটারি খরচের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কম শক্তিশালী চিপ ব্যবহার করে। হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস সাধারণত কম গ্রাফিকসনির্ভর গেমের জন্য বা পোর্টেবল হার্ডওয়্যার অনুযায়ী অপ্টিমাইজড গেম খেলার জন্য উপযুক্ত।

ডিসপ্লে ও কন্ট্রোল

গেমিং ল্যাপটপ সাধারণত বড় স্ক্রিনের (১৫ থেকে ১৭ ইঞ্চি) সুবিধা দেয়, যেখানে গেমিং হ্যান্ডহেল্ডের স্ক্রিন সাধারণত সাত-আট ইঞ্চি হয়। যদিও ল্যাপটপের স্ক্রিন রেজল্যুশন ও আকারে বড়, হ্যান্ডহেল্ডের স্ক্রিন ছোট হলেও তাতে ইমারসিভ গেমিং অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।

কন্ট্রোলের ক্ষেত্রে ল্যাপটপে কিবোর্ড ও মাউস বা এক্সটার্নাল কন্ট্রোলার ব্যবহার করা হয়, যা প্রতিযোগিতামূলক গেমিংয়ের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসে বিল্ট-ইন গেমপ্যাড থাকে, যা ক্যাজুয়াল গেমিংয়ের জন্য যথেষ্ট কার্যকর।

ব্যাটারির স্থায়িত্ব

ব্যাটারি লাইফের দিক থেকে হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস এগিয়ে। নিনতেন্দো সুইচ এক চার্জে ৪-৬ ঘণ্টা এবং স্টিম ডেক ৩-৫ ঘণ্টা পর্যন্ত টানা গেমিং করার সুবিধা দেয়।

গেমিং ল্যাপটপ সাধারণত এক চার্জে ১-৩ ঘণ্টার বেশি চলে না, বিশেষত যখন গ্রাফিকসনির্ভর গেম খেলা হয়। কিছু ল্যাপটপ যেমন আসুস আরওজি জেফিরাস জি১৪ ব্যাটারি দক্ষতায় উন্নতি করেছে। তবে তা এখনো হ্যান্ডহেল্ডের মতো দীর্ঘস্থায়ী নয়।

মূল্য ও মূল্যমান

মূল্যের দিক থেকে গেমিং হ্যান্ডহেল্ড অনেক সাশ্রয়ী। নিনতেন্দো সুইচের দাম ৩০০ ডলার থেকে শুরু হয় এবং স্টিম ডেকের দাম ৩৯৯-৬৪৯ ডলার।

অন্যদিকে গেমিং ল্যাপটপের দাম ১-৩ হাজার বা তার বেশি হতে পারে। এটি নির্ভর করে স্পেসিফিকেশনের ওপর। ল্যাপটপ মাল্টিটাস্কিং ও উচ্চ পারফরম্যান্স দেয়। তবে হ্যান্ডহেল্ড ক্যাজুয়াল গেমারদের জন্য কম খরচে একটি কার্যকর বিকল্প।

ব্যবহারকারীর যদি পোর্ট্যাবিলিটি, সহজ ব্যবহার ও সাশ্রয়ীপ্রধান চাহিদা হয়, তাহলে গেমিং হ্যান্ডহেল্ড যেমন স্টিম ডেক বা নিনতেন্দো সুইচ সেরা পছন্দ হতে পারে। তবে যদি উচ্চ পারফরম্যান্স, মাল্টিটাস্কিং ও উচ্চ মানের গেম চালানোর সক্ষমতা চান, তাহলে গেমিং ল্যাপটপ বেশি উপযুক্ত।