অ্যান্টিমনোপলি বা একচেটিয়া ব্যবসাবিরোধী আইন লঙ্ঘনের দায়ে মার্কিন চিপ জায়ান্ট এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে চীন। বিগত কয়েক বছরে দেশটির বেশকিছু প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এ তদন্তকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে চীনের জবাব হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর আল জাজিরা।
চীনের রাষ্ট্রীয় একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, অ্যান্টিমনোপলি (অ্যান্টিট্রাস্ট) আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে চীনের স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব মার্কেট রেগুলেশন। তদন্তকারীরা কোম্পানিটির ৬৯০ কোটি ডলারে ইসরায়েলি-আমেরিকান কোম্পানি মেলানোক্স টেকনোলজিস অধিগ্রহণের বিষয়টিও পর্যালোচনা করবে। প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং পণ্য তৈরিতে পারদর্শী। তবে তদন্তের বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
২০২০ সালে চীনের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে মেলানোক্স অধিগ্রহণের বিষয়টি অনুমোদন করেছিল। এর মধ্যে একটি শর্ত ছিল, এনভিডিয়া চীনা সরবরাহকারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করবে না।
এনভিডিয়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালানোর জন্য উন্নত মানের চিপ ডিজাইন করে। বাজারমূল্যের দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কোম্পানি। এর বাজার মূলধন ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি।
তবে এআই চিপ খাতে এনভিডিয়ার আধিপত্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রকদের নজরে এসেছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসও এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত করেছিল।
এদিকে বেইজিংয়ের তদন্তের খবর প্রকাশের পর গত সোমবার এনভিডিয়ার শেয়ারমূল্য ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে যায়। এনভিডিয়া তাৎক্ষণিকভাবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
সম্প্রতি চীনা চিপ শিল্পের বিকাশ ঠেকাতে তৃতীয় দফায় রফতানি নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয় মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ। এর মাধ্যমে ১৪০টি চীনা কোম্পানিকে বাণিজ্য বিভাগের কালো তালিকার এন্টিটি লিস্টে যুক্ত করা হয়। এর পরই এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে তদন্তের কথা জানায় চীন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ের মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়াম ও অ্যান্টিমনি রফতানি নিষিদ্ধ করেছে চীন। মূল্যবান এসব ধাতু চিপ, সোলার প্যানেল ও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে বেইজিংয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে ‘প্রতীকী’ বলে মন্তব্য করেছেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ইয়ান চং।










