চাহিদার বিপরীতে বেশি সরবরাহের ঝুঁকিতে রয়েছে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাত। সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় এ কথা জানিয়েছে চীনের চিপ কোম্পানি সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (এসএমআইসি)। খবর টেকটাইমস ও সিএনবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের কারণে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চিপ ব্যবহার করছে চীন। এছাড়া বর্তমানে দেশটিতে কম উন্নত চিপের দাম নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা চলছে। এর মধ্যেই নতুন করে এ সতর্কবার্তা প্রকাশ্যে এল।
সম্প্রতি কোম্পানির আয় প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কো-সিইও ঝাও হাইচুন, চিপ উৎপাদন খাতে ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, হঠাৎ করেই কয়েক কোটি চিপের ক্রয়াদেশ প্রতিযোগীদের কাছে চলে গেছে।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসএমআইসি বিশ্বব্যাপী চিপ উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মূলত উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অংশে নতুন কারখানা স্থাপন করছে এবং সামনের মাসগুলোয় আরো নির্মাণ করবে। এসব কারণে উৎপাদন হারও বাড়ছে। নতুন করে উৎপাদন বাড়লে তা বর্তমানে বাজার পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০০৯ সালের পর এ খাতে লভ্যাংশ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্যের বরাতে সিএনবিসি জানায়, এসএমআইসির প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদন বর্তমান পরিস্থিতির প্রতিফলন। বছরওয়ারি হিসাবে কোম্পানির আয় ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১৭৫ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। কিন্তু কোম্পানির মুনাফা ৬৮ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৭ কোটি ১৭ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।
চীনের কোম্পানিগুলো অধিক চিপ উৎপাদনের জন্য প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে। মূলত হুয়াওয়েসহ অন্য দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এ কারণে অতিরিক্ত সরবরাহের এ সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন প্রযুক্তিবিদরা।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এসএমআইসি। বৈশ্বিক পর্যায়ে বিশেষ করে চীনের বাজারে চিপের চাহিদা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কোম্পানির মতে, নতুন উৎপাদন সক্ষমতার কারণে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ স্বল্পমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
বাজার বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে কম উন্নত এসব চিপ বাজার ব্যবস্থায় কেমন প্রভাব ফেলবে, সেটি মুখ্য হয়ে উঠেছে। সেমির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ৪২টির বেশি চিপ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হবে, যার মধ্যে ১৮টিই চীনকেন্দ্রিক। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে কম উন্নত চিপ তৈরি করা হবে। এ সমস্যা সমাধানে ধারণ সক্ষমতার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। বর্তমানে চলমান প্রতিযোগিতার মধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে এসএমআইসি।










