দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারতের বাজারে আইফোন বিক্রিতে ভালো অবস্থান ধরে রেখেছে অ্যাপল। তবে ওয়্যারেবল ডিভাইস, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের ব্যবসায় অনেকটাই পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ প্রযুক্তি জায়ান্ট। এসব খাতে কোম্পানির বিক্রি ও আয় দুই-ই কমেছে। খবর ইটি টেলিকম।
বাজার অনুসরণকারীদের তথ্যানুযায়ী, গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী নতুন ডিভাইসের ফিচার আপডেট না করার পাশাপাশি ডিভাইস পরিবর্তনে অনাগ্রহ বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) তথ্যানুযায়ী, ভারতের বাজারে স্মার্টওয়াচ বিক্রি ও আয়ের দিক থেকে অ্যাপল ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যেখানে আইপ্যাডের বিক্রি ও আয় যথাক্রমে ১১ ও ২৭ শতাংশ কমেছে। এছাড়া ম্যাকবুক বিক্রি ৩৭ ও আয় ৪৯ শতাংশ কমেছে। তবে অ্যাপলের ডেস্কটপ বিক্রি ৭ শতাংশ বেড়েছে। এর বিপরীতে ভারতের বাজারে আইফোন বিক্রির মাধ্যমে কোম্পানিটির আয় ৪২ ও বিক্রি ৩৯ শতাংশ বেড়েছে বলে জানা গেছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, গত বছর আইপ্যাড বিক্রি ২ এবং ওয়াচের বিক্রি ৫৭ শতাংশ কমেছে। সংস্থাটির একজন সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট আনশিকা জেইন বলেন, ‘গত দুই বছরে অ্যাপল ওয়াচ কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। যদিও শুধু অ্যাপল ডিভাইসের সঙ্গেই এটি ব্যবহার করা যেত। কিন্তু ফিচারে পরিবর্তন না থাকায় নতুন ডিভাইস আনা হলেও সেগুলোর চাহিদা তৈরি হয়নি। যে কারণে আইফোন ব্যবহারকারীরা নতুন ডিভাইস কেনার সময় বাড়াচ্ছে।’
আইডিসির ওয়্যারেবল বিভাগের সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক বিকাশ শর্মা জানান, আইফোন কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফাইন্যান্সিং সুবিধা পাওয়া গেলেও অন্যান্য ডিভাইসে এগুলো ছিল না। এটিও বিক্রি কমে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ।
তিনি বলেন, ‘অ্যান্ড্রয়েড থেকে যারা আইফোনে স্থানান্তরিত হয়েছে তাদের এখন মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে। যে কারণে তাদের পক্ষে এখন নতুন কোনো ডিভাইস কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’
আইডিসির তথ্যানুযায়ী, গত বছর ভারতে ৫ কোটি ৩৪ লাখ স্মার্টওয়াচ বিক্রি হয়েছে। যেখানে অ্যাপল, স্যামসাং ও গুগল সম্মিলিতভাবে মাত্র ১১ লাখ ডিভাইস সরবরাহ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির বাজারে কোম্পানিগুলোর হিস্যা ৪ দশমিক ৫ থেকে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে স্থির হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি বছর আইফোন বিক্রি ও আয়ের দিক থেকে অ্যাপল ২০২৩ সালের প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কাউন্টারপয়েন্টের বিশ্লেষক জেইন বলেন, ‘গ্রাহকরা অ্যাপল ওয়াচে রক্তচাপ পরিমাপের ফিচার যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। গত বছর এটি চালুর কথা ছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘স্মার্টফোনের দিক থেকে ভারতীয়দের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে অ্যাপল। কিন্তু ওয়্যারেবলের দিক থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’
গত বছর পুরনো ও নতুন আইফোনের চাহিদা থাকায় ভারতের বাজার থেকে বড় আয় করতে সক্ষম হয়েছে কুপারটিনোর এ প্রযুক্তি জায়ান্ট।
অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক আয়সংক্রান্ত বিষয়ে সম্প্রতি বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ভারতের বাজার থেকে অ্যাপল সর্বোচ্চ আয় করেছে।










