তথ্যপ্রযুক্তি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনে নীতিগত সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী নেতারা।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বেসিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসপিএবি) এবং ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) যৌথ উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ, বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ, আইএসপিএবি সভাপতি মো. ইমদাদুল হক এবং ই-ক্যাবের সহসভাপতি সৈয়দা আম্বারীন রেজা উপস্থিত ছিলেন।
বেসিস সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ‘বেসিসের বাজেট প্রস্তাবনাকে মাথায় রেখে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর অব্যাহতির মেয়াদ তিন বছর বাড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ কর অব্যাহতি শুধু তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে তা নয় বরং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রফতানিমুখী উৎপাদন শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে দেশের ক্লাউড সার্ভিস এবং ওয়েব হোস্টিংয়ের ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজারের মাত্র ১০ শতাংশ দেশীয় উদ্যোক্তাদের হাতে রয়েছে। নতুন করে একে করের আওতায় আনা হলে তা দেশীয় উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করবে।’
বাক্কো সভাপতি ওয়াহিদ শরীফ বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর অব্যাহতি নিঃসন্দেহে প্রত্যক্ষভাবে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন উদ্ভাবন এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অবদান রাখবে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন রফতানিমুখী শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
আইএসপিএবির সভাপতি মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আইএসপি প্রতিষ্ঠানের সব সেবাকে আইটিইএসের অন্তর্ভুক্ত না করা, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ১০ শতাংশ (এআইটি) ও অনু, ওএলটির ওপর বর্তমানে ৩৭ শতাংশ ভ্যাট ও শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত সব সামগ্রীর ওপর শুল্ক না কমায় ইন্টারনেট সেবার প্রসার ও ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হবে বলে আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন মনে করে।’
ই-ক্যাবের সহসভাপতি সৈয়দা আম্বারীন রেজা বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আইটি ও আইটিইস খাতের বিদ্যমান সুবিধাগুলো বহাল রেখে এর সঙ্গে সহায়ক খাতও বিকাশের সুযোগ করে দেয়া উচিত। কারণ অনেক সময় সাপোর্ট ইন্ডাস্ট্রির কারণে মূল ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডিজিটাল পেমেন্টকে উৎসাহিত করতে এ সেক্টরে পেমেন্ট চার্জ সমমানের ন্যূনতম ২ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভ প্রদান করার দাবি জানাচ্ছি। যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পেমেন্ট চার্জ কেটে রেখে অবশিষ্ট টাকা ই-কমার্স ও আইটি প্লাটফর্মকে ফেরত দেয়া হয়, তাই উৎসে কর কর্তনের কোনো সুযোগ নেই।’










