চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে মাইক্রোসফট। এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে কোম্পানির ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ (এআই)। প্রযুক্তি খাতে নানা অস্থিরতা সত্ত্বেও বছরের প্রথম তিন মাসে মার্কিন এ প্রযুক্তি জায়ান্টের মুনাফা বেড়েছে ১৮ শতাংশ। কোম্পানির সাম্প্রতিক প্রকাশিত আয়ের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। খবর এপি।

সফটওয়্যার বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তি খাত ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে মাইক্রোসফটের এ ফলাফল বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত প্রান্তিকে মাইক্রোসফটের নিট মুনাফা ছিল প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার, যা শেয়ারপ্রতি দাঁড়ায় ৩ ডলার ৪৬ সেন্ট। এ সময় কোম্পানির আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ও প্রত্যাশার চেয়েও বেশি হয়েছে।

মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী (সিইও) সত্য নাদেলা জানান, গত প্রান্তিকে কোম্পানির শক্তিশালী আয়ের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে ক্লাউড ব্যবসার প্রবৃদ্ধি। এ খাতে মাইক্রোসফটের আয় হয়েছে ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এছাড়া জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের আয় বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ২ হাজার ৬১৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুনাফা সত্ত্বেও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা অনুভূত হয়েছে কোম্পানির পার্সোনাল কম্পিউটিং ব্যবসায়, যার কেন্দ্রে রয়েছে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ও হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত লাইসেন্স ফি। এ খাতে কোম্পানির আয় হয়েছে ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া ল্যাপটপ ও এক্সবক্স পরিষেবা থেকেও আয় বেড়েছে এ সময়।

সত্য নাদেলা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যেকোনো ব্যবসার উৎপাদন বাড়ানো, খরচ কমানো ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন অপরিহার্য উপাদান।’

মাইক্রোসফট প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কয়েকটি কোম্পানির মধ্যে একটি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে ফেরার পর অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বিল গেটসের প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা জানান, শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক ওঠানামাসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক ও অন্যান্য পদক্ষেপের ফলে বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। মাইক্রোসফটের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে উবে গেছে ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ।

একাধিক প্রতিবেদন বলছে, জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে মাইক্রোসফটের শেয়ারদর প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। তবে কোম্পানির আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে।

১৯৭৫ সালে ‘মাইক্রোকম্পিউটারের সফটওয়্যার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির নাম এসেছে মাইক্রোপ্রসেসর ও সফটওয়্যার শব্দ দুটি থেকে। মাইক্রোসফট সবচেয়ে পরিচিত উইন্ডোজের জন্য। জার্মানভিত্তিক অনলাইন ডাটা প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত ১০০টি ডেস্কটপ কম্পিউটারের মধ্যে ৭২টিতেই চলছে উইন্ডোজ। মাইক্রোসফটের সর্বশেষ ভার্সন হলো উইন্ডোজ ১১। এর পরবর্তী সংস্করণ উইন্ডোজ ১২ চলতি বছর মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।