মেটা প্লাটফর্ম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বট আনার পরিকল্পনা করছে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের মতোই আচরণ করবে। এ বটগুলো মানুষের মতো পোস্ট, শেয়ার, লাইক ও অন্যান্য কাজ করতে সক্ষম হবে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে ব্যবহারকারীদের এআই ক্যারেক্টার তৈরির সুবিধা দেয় কোম্পানিটি। তবে ফিচারটি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহার করা যাচ্ছে এবং তৈরি করা ক্যারেক্টার পাবলিক পোস্টে শেয়ার করার সুযোগ নেই। খবর গ্যাজেটস থ্রিসিক্সটি।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, বিভিন্ন উপায়ে উভয় প্লাটফর্মে এআইয়ের সন্নিবেশের চেষ্টা করছে সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। এরই মধ্যে এআই চ্যাটবট, ইনস্টাগ্রাম ডিএমে এআই রাইটিং টুল, ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রিয়েটরদের জন্য এআই অ্যাভাটারসহ আরো কয়েকটি ফিচার চালু করেছে মেটা। কোম্পানিটির জেনারেটিভ এআইয়ের পণ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কনর হেইস বলেন, ‘এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত অ্যাকাউন্ট হতে যাচ্ছে কোম্পানির পরবর্তী পদক্ষেপ। আমরা আশা করছি, সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এআই বটগুলো আমাদের প্লাটফর্মে অন্য সাধারণ অ্যাকাউন্টগুলোর মতোই কাজ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌এই এআই অ্যাকাউন্টগুলোর প্রোফাইলে অন্যান্য সাধারণ অ্যাকাউন্টের মতো বায়ো ও প্রোফাইল ছবি থাকবে। অ্যাকাউন্টগুলো এআই কনটেন্ট তৈরি ও শেয়ার করতে পারবে। প্লাটফর্মটিকে আরো মজাদার ও আকর্ষণীয় করতে প্রাধান্যের ভিত্তিকে প্রকল্পটিতে কাজ করছে মেটা।’

কোম্পানির ভাষ্যানুযায়ী, আরো এআই টুল ও এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারের মাধ্যমে মেটা মালিকানাধীন সামাজিক অ্যাপগুলোর ব্যবহার ও মিথস্ক্রিয়া বাড়বে।

বর্তমানে প্রযুক্তি বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআইয়ের ব্যবহার এখন অনেক ক্ষেত্রেই ঘটছে। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনেও এর প্রভাব বেশ ব্যাপক। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ভুল তথ্য ছড়ানো। যেহেতু অ্যাকাউন্টগুলো এআই মডেলের মাধ্যমেই পরিচালিত হবে, তাই এতে ভুল করার সম্ভাবনা থেকে যায়। যত বেশি পরিমাণে অ্যাকাউন্ট খোলা হবে, তত ভুল তথ্য ছড়ানোর সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। তাই এর নিরাপত্তা, নৈতিকতা ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে যথেষ্ট চিন্তা করা দরকার বলে মনে করেছেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা আরেকটি বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তা হলো বর্তমান এআই মডেলগুলোর সৃজনশীলতার অভাবে প্লাটফর্মে নিম্নমানের কনটেন্ট ছড়িয়ে যেতে পারে। মান কমে গেলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী হারাতে পারে।