গত বছর কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল তৈরি করার বদলে ব্যবহারযোগ্য ও কার্যকর পণ্য তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়া হয়েছে। প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অরবিন্দ নারায়ণন বলেন, ‘২০২৩ সালে কোম্পানিগুলো শক্তিশালী এআই মডেল প্রকাশ করেছে। তবে সেগুলোকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয় খুব একটা স্পষ্ট করে উল্লেখ ছিল না। ২০২৪ সালে সেগুলোকে কার্যকর পণ্য হিসেবে তৈরি করার দিকে মনোযোগ দেয়া হয়েছে, যেন মানুষ এগুলো ব্যবহার করতে পারে।’ খবর এপি।
চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই এখন গুগল সার্চ ও ছবি সম্পাদনার টুলসসহ অনেক প্রযুক্তি সেবার অংশ হয়ে গেছে। ওপেনএআই ২০২৩ সালে জিপিটি-৪ চালু করার পর এআই মডেলগুলো আর আগের মতো বড় বা উন্নত হওয়ার মতো তেমন পরিবর্তন হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে এআই সম্পর্কিত আশা ও ভরসার জায়গা এখন আরো বাস্তবসম্মত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মাঝে এখন আর এআইকে বিপদ হিসেবে দেখা হয় না, বরং এটি একটি সাধারণ প্রযুক্তি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এআই গবেষণা ও উন্নয়নে বিশাল খরচের ফলে ভবিষ্যতে মুনাফা হবে কিনা এ সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রযুক্তি নির্বাহীরা প্রায়ই ওয়াল স্ট্রিট বিশ্লেষকদের কাছ থেকে পেয়ে থাকেন। চ্যাটজিপিটি বা গুগলের জেমিনি মতো টুলগুলোর জন্য এআই সিস্টেম তৈরি করতে শক্তিশালী, বিদ্যুৎ খরুচে কম্পিউটিং সিস্টেম ও ব্যয়বহুল এআই চিপে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ সিস্টেমগুলো এতটাই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এসব চালানোর জন্য পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করার চুক্তি করেছে।
গোল্ডম্যান স্যাক্সের বিশ্লেষক কাশ রাঙ্গান বলেন, ‘এ প্রযুক্তিতে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে।’ অন্য এক বিশ্লেষক প্রশ্ন করেছিলেন, এআই কি সত্যিই সেসব জটিল সমস্যার সমাধান করছে, যা এর পেছনে ব্যয়কে যুক্তিযুক্ত করবে? তিনি আরো বলেছিলেন, এআই কি কখনো মানুষের দক্ষতার মতো কাজ করতে সক্ষম হবে? তবুও রাঙ্গান আশাবাদী ও বিশ্বাস করেন, এআই এরই মধ্যে বিক্রয়, নকশা ও অন্যান্য পেশায় ‘ধীরে ধীরে আরো উৎপাদনশীল’ প্রমাণিত হচ্ছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, যতটা মনে করা হয়েছিল এআই তার চেয়ে আরো ব্যয়বহুল ও কম উৎপাদনশীল হয়েছে।
যেহেতু এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে, অনেকেই চিন্তা করছেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের কাজে সহায়তা আসবে নাকি তাদের চাকরি হারাতে হবে।
সিসকোর ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন শাখা আউটশিফটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিজয় পান্ডে জানান, আরো সহায়ক করার জন্য এআই বিশ্লেষণক্ষমতা উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেভেলপাররা এমন উন্নত এআই ‘এজেন্ট’ তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যা জটিল কাজ পরিচালনা করতে ও ধাপে ধাপে পরিকল্পনা করে বড় সমস্যা সমাধান করতে পারে। ২০২৫ সালের মধ্যে প্রযুক্তি এ দিকেই অগ্রসর হওয়ার আশা করছেন বিশ্লেষকরা।










