চলতি বছরের শুরুটা আশানুরূপ হয়নি অ্যাপলের। সম্প্রতি প্রকাশিত আয় প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ৯ হাজার ৮০ কোটি ডলার আয় করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১১ হাজার কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার কিনে নেয়ার (বাই ব্যাক) কথাও জানিয়েছে কোম্পানিটি। খবর সিএনএন।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের মোট আয় আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ কমেছে। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আইফোনের বিক্রি কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির আয় অনেকাংশেই কমেছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে আইফোন বিক্রি সামগ্রিকভাবে ১০ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাজারে আসা আইফোন ফিফটিনের চাহিদা কমায় আয়েও বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
৩১ মার্চ শেষ হওয়া প্রান্তিকে অ্যাপল ৪ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার মূল্যের আইফোন বিক্রি করেছে। এ সময় কোম্পানির নিট আয় ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কম। অন্যদিকে ম্যাক ডিভাইস বিক্রি ৪ শতাংশ বেড়ে ৭৫০ কোটি এবং পরিষেবা খাতের আয় ২ হাজার ৩৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি।
আইপ্যাড বিক্রির মাধ্যমে প্রথম প্রান্তিকে অ্যাপলের আয় ৫৬০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম। শিগগিরই আইপ্যাড লাইনআপে নতুন পণ্য ও অ্যাকসেসরিজ উন্মোচন করবে অ্যাপল এমন গুঞ্জনের মধ্যেই আয় প্রতিবেদন প্রকাশ্যে এল।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, জুনে শেষ হতে যাওয়া প্রান্তিকে অ্যাপলের আইপ্যাড ও পরিষেবা খাত দুই অংকের প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। ওয়্যারেবল, হোম ও অ্যাকসেসরিজ খাতে অ্যাপলের আয় হয়েছে ৭৯১ কোটি ডলার। যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল এ খাতে আয় ৮২৮ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
মূলত ভিশন প্রো হেডসেট বাজারজাতের কারণে আয় বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এ হেডসেটের উন্নয়নে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে অ্যাপল বড় বিনিয়োগ করেছে।
অ্যাপলের আইফোন বিক্রি কমার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে চীনের বাজার হারানো। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদ, অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতা বাজার ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে। তবে টিম কুকের দাবি, দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতে দেশটিতে আইফোনের বিক্রি পুনরায় বেড়েছে।
বাজার গবেষণা সংস্থা আইডিসির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী অ্যাপলের স্মার্টফোন বিক্রি ১০ শতাংশ কমেছে। মূলত হুয়াওয়ে, শাওমিসহ চীনা কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় অ্যাপলের বিক্রি কমেছে।
আইডিসির গবেষণা পরিচালক নাবিলা পোপাল বলেন, ‘এটি অ্যাপলের জন্য খুবই কঠিন পরিস্থিতি। তবে গত চার বছরের পরিস্থিতি বিবেচনায় অ্যাপল সবচেয়ে স্থিতিশীল ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে।’
বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি শীর্ষে উঠে আসতে জেনারেটিভ এআইসহ অন্য বিষয়ে গবেষণা বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন টিম কুক।









