মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ সংকটসহ নানা কারণে সেলফোনের বৈশ্বিক বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দেশ এখনো উদ্যোগ নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রযুক্তি খাতে সুসংবাদ নিয়ে এসেছে এশিয়ার দেশ ভারত। খবর ইটি টেলিকম।
বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যানুযায়ী, দেশটির সেলফোন বাজার অস্থিতিশীলতা থেকে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ছুটির মৌসুমের পাশাপাশি সাশ্রয়ীমূল্যে ফাইভজি ডিভাইস বাজারজাত ও বিক্রি পরিস্থিতি স্বাভাবিকে সহায়তা করছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ, আইডিসি ইন্ডিয়া ও সিএমআর ইন্ডিয়া জানায়, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে ৩ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৩ কোটি ৬০ লাখ ইউনিট স্মার্টফোন জাহাজীকরণ হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় যা ৬ শতাংশ কম। তবে প্রথম প্রান্তিকে যে ১৯ শতাংশ পতন হয়েছিল তার তুলনায় ভালো। প্রাথমিক প্রতিবেদনে কাউন্টারপয়েন্ট জানায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাহাজীকরণের হার ১১ শতাংশের মতো বেড়েছে।
আরেক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যানালিস দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১-২ শতাংশ অনুক্রমিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। গ্রাহক চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আসায় সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। সে সঙ্গে ক্যানালিসের প্রত্যাশা, কভিড-১৯ মহামারীর জন্য যে চাহিদা তৈরি হয়েছিল চলতি বছরের শেষ দুই প্রান্তিকে তা পুনরায় ফিরে আসবে। সে সময় মূল্যস্ফীতিও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং অনেক গ্রাহক তাদের সেলফোন আপডেট করতে চাইবে।
কাউন্টারপয়েন্টের রিসার্চ অ্যানালিস্ট শিল্পী জেইন বলেন, ‘সেরা অফারসহ সেলফোন কেনার জন্য গ্রাহক এখন প্রমোশনাল সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে।’
কাউন্টারপয়েন্টের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে মূল্যস্ফীতি দুই বছরের সর্বনিম্নে ছিল। এর ফলে গ্রাহক ব্যয় পুনরায় বেড়েছে এবং জুনে অফলাইন দোকানগুলোয় উপচেপড়া ভিড় ছিল। এর মধ্যে অপো ও ভিভো উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে।
জেইন বলেন, ‘উচ্চ চাহিদার কারণে ওয়ানপ্লাসও কিছু মডেল সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছিল।’ কাউন্টারপয়েন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোনের বাজার স্যামসাংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। প্রথম প্রান্তিকে বিপর্যয়ের মুখে থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে শাওমি ও রিয়েলমি ডিভাইস জাহাজীকরণে ভালো প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে।
ফাইভজি সেলফোনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাহাজীকরণের পরিমাণও বেড়েছে। মে মাসে মোট ১০ কোটি ইউনিট জাহাজীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। কেননা সে সময় ১০-১৫ হাজার রুপির মধ্যে বিভিন্ন মডেলের ফাইভজি সেলফোন বাজারে প্রবেশ করেছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, এর মাধ্যমে এপ্রিল-মে প্রান্তিকে সেলফোনের গড় বিক্রি মূল্য ২৭৪-২৫৭ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে ফাইভজি স্মার্টফোনের বিক্রিমূল্য ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৩৯১ ডলারে নেমে আসে বলেও জানানো হয়েছে।
জুন-জুলাই মাসে ২০ হাজার রুপির বেশি সেলফোন বাজারে প্রবেশ করায় গড় বিক্রিমূল্য কিছুটা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ। সিএমআর ইন্ডিয়ার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ফাইভজি সেলফোনের জাহাজীকরণ ৪১ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৭০ লাখ ইউনিটে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ফোরজি সেলফোন উন্মোচন ৪৫ শতাংশ কমেছে। সিএমআর ইন্ডিয়ার তথ্যানুযায়ী, এ সময় ফাইভজি সেলফোনের বাজার হিস্যা ছিল ৪৯ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে এ হার ছিল ৩১ শতাংশ।










