বিগত বছর টেলিযোগাযোগ ও টেলিভিশন পরিষেবা খাতে বৈশ্বিক ব্যয় ১ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২২ সালের তুলনায় তা ২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। পূর্বাভাস অনুসারে চলতি বছর এ খাতে ব্যয় ১ লাখ ৫৩ হাজার কোটি ডলার ছাড়ালেও প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী থাকবে। সম্প্রতি আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড সেমিঅ্যানুয়াল টেলিকম সার্ভিস ট্র্যাকার প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। কেননা পুরো বছর যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে তা আইডিসির পূর্বাভাসের তুলনায় কম ছিল। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রত্যাশার তুলনায় অগ্রগতি মন্থর হওয়ায় মন্দাভাব শুরু হয়। এজন্য মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং বাজার সংমিশ্রণের কারণে প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা অঞ্চলও একই রকম অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল কিন্তু এসব অঞ্চলে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মিল রেখে টেলিকম অপারেটরদের শুল্ক বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিলেন নিয়ন্ত্রকরা। এক্ষেত্রে একটি ভোক্তা মূল্যসূচক অনুসরণ করা হয়েছিল। শুল্কহার নির্ধারণের কারণে গ্রাহকও স্বস্তা প্যাকেজ ও অপারেটরের দিকে ঝুঁকেছে।

অন্যদিকে বৈশ্বিক সংযোগ পরিষেবা বাজারের জন্য পাঁচ বছরের ইতিবাচক পূর্বাভাস দেয়া হলেও আগের তুলনায় কিছুটা কম ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো রেফারেন্স সুদ হার কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এতে করে দ্রুত সময়ের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাও কমে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলস্বরূপ, বাজারের পরিবেশ আরো কয়েক বছর অপেক্ষাকৃত প্রতিকূল থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে অনেক টেলিযোগাযোগ কোম্পানি শুল্ক হার বাড়াতে চাইবে। বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ভবিষ্যতে শুল্ক বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাবও কমে আসবে।

চীনের মন্থর অর্থনীতি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধি নিম্নমুখী রাখার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে ভারতসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল বাজারও প্রবৃদ্ধিতে ফিরবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। এটা স্পষ্ট, কানেক্টিভিটি পরিষেবা বাজারের বিকাশ খুবই মন্থর। সেই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ খাতে প্রত্যাশিত আয় বৃদ্ধি মালিকদের খুব বেশি সন্তুষ্টির কারণ হতে পারেনি।

আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড টেলিকম সার্ভিস বিভাগের গবেষণা পরিচালক ক্রেসিমির অ্যালিক বলেন, ‘বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। এর প্রভাবে টেলিকম অপারেটররা নতুন শক্তিশালী মিত্র পেয়েছে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে।’