বিশ্বজুড়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যবহৃত মাইক্রোসফটের শেয়ারপয়েন্ট সার্ভার সফটওয়্যারে বড় ধরনের সাইবার হামলার হয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট নিজে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স ও সিকিং আলফা।

জরুরি সতর্কতা জারি করে স্থানীয় সময় গত শনিবার মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ‘অ্যাক্টিভ অ্যাটাক’ বা সক্রিয় আক্রমণের মাধ্যমে কোম্পানির অন-প্রেমিস সার্ভারগুলোকে (কোনো কোম্পানির নিজস্ব অফিস বা ডাটা সেন্টারে রাখা সার্ভার) লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। সাইবার হামলাটি বিশেষ করে মাইক্রোসফটের শেয়ারপয়েন্ট সার্ভারের ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের সংস্করণের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছে।

উল্লেখ্য, শেয়ারপয়েন্ট সার্ভার সফটওয়্যার হলো একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম, যা অফিস বা প্রতিষ্ঠানের কাজ ও তথ্য একসঙ্গে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়।

মাইক্রোসফট বলছে, এ ধরনের হামলাকে ‘জিরো-ডে’ আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অর্থাৎ, হামলাকারীরা এমন এক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে যেটি আগে থেকে কোম্পানির নজরে আসেনি। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় করার আগেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, মাইক্রোসফট ৩৬৫-ভিত্তিক ক্লাউড সংস্করণ ‘শেয়ারপয়েন্ট অনলাইন’ আক্রমণের শিকার হয়নি।

মাইক্রোসফটের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা সিসা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাইবার ডিফেন্স কমান্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে গুরুত্বসহকারে কাজ করছি।’

এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের দ্রুত নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সফটওয়্যার জায়ান্টটি জানিয়েছে, সিস্টেমের এমন দুর্বলতার কারণে ‘স্পুফিং’ আক্রমণ সম্ভব। এ ধরনের আক্রমণে হামলাকারীরা নেটওয়ার্কে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ছদ্মবেশ গ্রহণ করতে পারে। ফলে তারা অর্থনৈতিক বাজার, সংস্থা বা প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভুয়া তথ্য দিয়ে করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (এফবিআই) এই হামলার বিষয়ে অবগত এবং তারা অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত চালাচ্ছে। তবে এফবিআই বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বলেছে, অজ্ঞাত হামলাকারীরা সাম্প্রতিক কয়েকদিনে সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দুর্বলতার কারণে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার সার্ভার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

যেসব প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা আপডেট করতে পারছে না, তাদেরকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে সার্ভারগুলোকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে মাইক্রোসফট। যেন হামলার ঝুঁকি কমানো যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন-প্রেমিস বা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সার্ভার ব্যবহারের ফলে নিয়ন্ত্রণ বাড়ে, কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে নিয়মিত আপডেট ও মনিটরিং জরুরি। ক্লাউড-ভিত্তিক সেবা অনেক ক্ষেত্রে নিরাপদ, কারণ সেগুলো নিয়মিত আপডেট ও মনিটরিংয়ের আওতায় থাকে।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, শেয়ারপয়েন্টের ২০১৬ ও ২০১৯ সংস্করণের নিরাপত্তা দুর্বলতা ঠিক করতে আপডেট তৈরির কাজ করছে কোম্পানিটি।