আজকের যুগে আইটি ও প্রযুক্তি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শিল্প খাত। বিশ্বকে আরো স্বয়ংক্রিয় করতে ও মানুষের শ্রম কমাতে এসব শিল্প অন্যান্য খাতের সঙ্গে কাজ করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে নতুন ব্যবসা (স্টার্টআপ) শুরু করার ক্ষেত্রে সফল হওয়ার চেয়ে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। অনলাইন রিসোর্স ও ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের চলতি মাসের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট ৬৩ শতাংশ ব্যবসাই যাত্রার প্রথম বছরের মধ্যে ব্যর্থ হয়।
সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০টির বেশি প্রযুক্তি কোম্পানি চালু করা হয়। এগুলো থেকে বছরে ১০ কোটি ডলারের বেশি আয় করার প্রত্যাশা থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বাজারের মূল্য ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার। ডিমান্ডসেইজ আরো বলছে, টেক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠাতাদের গড় বয়স ৩৯ বছর। এসব কোম্পানির কর্মচারীদের গড় বেতন বছরে ১ লাখ ২ হাজার ডলার।
স্টার্টআপ ব্যর্থতার হার উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সমস্যা। গবেষণা বলছে, চলতি বছর প্রযুক্তি শিল্পসহ প্রায় ৯০ শতাংশ স্টার্টআপ একটা নির্দিষ্ট সময় পরও কাঙ্ক্ষিত সফলতা পায়নি, ফলে এগুলো বন্ধ করে দিতে হয়। ৭০ শতাংশ স্টার্টআপের কার্যক্রম দুই-পাঁচ বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১০ শতাংশ তাদের প্রথম বছরও পার করতে পারে না। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম বলছে, একটি নতুন ব্যবসা শুরু করতে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ডলার খরচ হয়। খুচরা, অ্যাকাউন্টিং, নির্মাণ ও ল্যান্ডস্কেপিং স্টার্টআপগুলো শুরুর খরচ গড়ে ৫ হাজার ডলার।
স্টার্টআপগুলো দলগত বিরোধ, মানবসম্পদ সম্পর্কিত সমস্যা, আর্থিক জটিলতা ও ব্যবস্থাপনার অপর্যাপ্ততা এবং সঠিক বিপণন কৌশল না জানার কারণে ব্যর্থ হয়। ৪২ শতাংশ স্টার্টআপ বাজারের চাহিদা না বোঝার কারণে সফল হতে পারে না। এছাড়া কিছু স্টার্টআপ প্রযুক্তি সম্পর্কিত সমস্যার কারণে ব্যর্থ হয়। যেমন যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা, পুরনো সিস্টেম ইত্যাদি।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বেশির ভাগ ব্যবসা অনলাইনে চলে আসার কারণে স্টার্টআপগুলোর পণ্য ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে অধিকাংশ স্টার্টআপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর নির্ভর করবে ও তাদের প্রবৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে প্রযুক্তির।










