সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে প্রায় এক দশক পার করছে অ্যান্ড্রয়েড। ২০২৪ সাল শেষে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেমের বাজারের ৭১ দশমিক ৮৫ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে আছে অ্যান্ড্রয়েড, যেখানে আইফোনের হিস্যা ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্র্যান্ডের বাজারে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে স্যামসাং। ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের গত মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তবে বিশ্বব্যাপী ওএস বাজারে অ্যান্ড্রয়েডের আধিপত্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে এ পরিস্থিতি খানিকটা আলাদা। এখানে অ্যান্ড্রয়েডের হিস্যা ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ আর আইফোনের বাজার হিস্যা ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
অ্যান্ড্রয়েড টেক জায়ান্ট গুগলের তৈরি বহুল ব্যবহৃত একটি মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম। এটি মূলত স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের মতো টাচস্ক্রিন ডিভাইসের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। অ্যান্ডি রুবিন, রিচ মাইনার, নিক সিয়ার্স ও ক্রিস হোয়াইটের হাত ধরে ২০০৩ সালের অক্টোবরে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় এ অপারেটিং সিস্টেম। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেলভটেক বলছে, ওই সময় প্রথমে ডিজিটাল ক্যামেরার জন্য একটি উন্নত অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে প্রতিষ্ঠাতা শিগগিরই বুঝতে পারেন যে ক্যামেরার বাজার খুবই ছোট, তাই তারা মোবাইল ফোনের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করেন। অ্যান্ডি রুবিনের ডাকনাম থেকেই কোম্পানি ও অপারেটিং সিস্টেমের অফিশিয়াল নাম দেয়া হয় ‘অ্যান্ড্রয়েড’।
২০০৫ সালে অ্যান্ড্রয়েড ইনকরপোরেশনকে ৫ কোটি ডলারের বিনিময়ে কিনে নেয় গুগল। এরপর অ্যান্ড্রয়েডের টিম গুগলে যোগ দিয়ে মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার কাজ শুরু করে। এ সময় অ্যান্ড্রয়েডকে ওপেন সোর্স করার সিদ্ধান্ত নেয় গুগল, যেন ফোন নির্মাতা ও ডেভেলপাররা এটি ব্যবহার করতে পারে। এরই সঙ্গে সিস্টেমটির গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপকভাবে বাড়তে থাকে। ২০০৮ সালে প্রথম অ্যান্ড্রয়েড ফোন উন্মোচনের পর থেকে একাধিক অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো এখন ৩০০ কোটির বেশি ডিভাইসে ব্যবহার হচ্ছে।
গিজচায়নার তথ্যানুযায়ী, গুগলের সর্বশেষ ১৫ সংস্করণের নাম ছিল ‘ভ্যানিলা আইসক্রিম’। এ অপারেটিং সিস্টেমের পরবর্তী সংস্করণ অ্যান্ড্রয়েড ১৬ চলতি বছর এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে মুক্তি পেতে পারে। সম্প্রতি প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গুগল এবার ইংরেজি ‘ডব্লিউ’ দিয়ে শুরু হওয়া ডেজার্ট নামের পরিবর্তে এ সংস্করণের জন্য ‘বাক্লাভা’ নামটি ব্যবহার করতে পারে। বেশির ভাগ অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ সাধারণত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে মুক্তি পায়, অর্থাৎ গ্রীষ্মের শেষ বা শরতে। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যান্ড্রয়েড ১৬ মুক্তি পেতে পারে। গুগল ২০০৯ সালে বাজারে আসা অ্যান্ড্রয়েড ১.৫ ‘কাপকেক’ থেকে শুরু করে অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের জন্য ডেজার্ট থিমযুক্ত কোড নাম ব্যবহার করে আসছে। প্রতিটি সংস্করণ ইংরেজি অক্ষরের ক্রমানুযায়ী সাজানো হয়েছে, যেমন অ্যান্ড্রয়েড ১০ ছিল ‘কুইন্স টার্ট’ ও অ্যান্ড্রয়েড ১২ হচ্ছে ‘স্নো কোন’। গুগল একবার বলেছিল, ‘যেহেতু এ ডিভাইসগুলো আমাদের জীবনকে এত মধুর করে তোলে, তাই প্রতিটি অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের নাম একটি ডেজার্টের নামে রাখা হয়েছে।’
চলতি বছর সার্চ ইঞ্জিনের বাজারেও গুগলের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে। স্ট্যাটকাউন্টারের গত নভেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সালের পর গুগলের বাজার হিস্যা ৯০ শতাংশের নিচে নেমেছে খুব কম সময়।










