ঘটনাবহুল ২০২৩ শেষে ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে কিছুটা স্থিতিশীল ছিল। যদিও গত বছর কিছু কর্মী ছাঁটাই হয়েছে এ খাতে, তবে আগের বছরের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। অর্থাৎ বড় আকারের ছাঁটাইয়ের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন বলছে, শেষ হওয়া বছরে প্রযুক্তি শিল্পে প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে কর্মী ছাঁটাই। গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক ছাঁটাই হয়েছিল ২০২৩ সালে। এ বছরে ১ হাজার ২০০-এর বেশি কোম্পানি ২ লাখ ৬০ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। ২০২৪ সালে প্রযুক্তি খাতে চাকরি হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ কর্মী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৩ সালের কর্মী ছাঁটাইয়ের মূলে ছিল অর্থনৈতিক মন্দা, যেখানে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধি বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। ভোক্তা ব্যয়ের হ্রাস, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদামতো পণ্য কেনা কমে যাওয়া প্রযুক্তি খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিপরীতে ২০২৪ সালে প্রযুক্তি পণ্য ও সেবার চাহিদায় কিছুটা প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ২০২২ ও ২০২৩ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) চাকরির জন্য হুমকিস্বরূপ হিসেবে দেখা হলেও গত বছর এ প্রযুক্তি কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এআই ডেভেলপমেন্ট, মেশিন লার্নিং ও ডাটা সায়েন্সের মতো ক্ষেত্রে পেশাদারদের চাহিদা বেড়েছে।
গত বছর কর্মী ছাঁটাই নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ইন্টেল ও টেসলা। গত আগস্টে প্রায় ১৫ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার ঘোষণা দেয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানি জানায়, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি ডলার সাশ্রয় করা। ইন্টেলের সিইও প্যাট্রিক পি. গেলসিঞ্জার বলেছিলেন, ‘উচ্চ খরচ, কম মুনাফা, কঠিন প্রতিযোগিতা ও আর্থিক অবস্থার অবনতি এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।’ অবশ্য ডিসেম্বরে সিইও পদ থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকেও সরে দাঁড়ান তিনি। এদিকে গত এপ্রিলে ইলোন মাস্কের নেতৃত্বাধীন ইলেকট্রনিক ভেহিকল কোম্পানি টেসলা কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। এ ছাঁটাইয়ের ফলে ব্যাটারি নির্মাতা, সফটওয়্যার ডেভেলপারসহ প্রযুক্তি শিল্পের ৫০টি বিভিন্ন কোম্পানিতে মোট ২১ হাজার ৪৭৩ জন কর্মী চাকরি হারান।










