আজকের প্রযুক্তিনির্ভর যুগে সাইবার অপরাধ জীবনের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সাল শেষে বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধ থেকে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৯৫ হাজার কোটি ডলার হতে পারে বলে জানিয়েছে সাইবার অর্থনীতিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সাইবার সিকিউরিটি ভেঞ্চারস। সংস্থাটি বলছে, যদি সাইবার অপরাধকে একটি দেশ হিসেবে ধরা হতো, তাহলে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতো। ২০২৫ সালের মধ্যে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়ে ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি ডলার ছুঁতে পারে বলে ধারণা করছে তারা।

সাইবার অপরাধীরা প্রতারণার জন্য সাধারণত ও সহজ কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে, যেমন ফিশিং বা সংবেদনশীল তথ্য চুরি। এগুলো ঠেকানো সম্ভব, যদি কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলা যায়। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে এমন চারটি ভুল পরিহার করা যেতে পারে—

সহজ পাসওয়ার্ড ব্যবহার

সাইবার নিরাপত্তায় শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বড় হাতের অক্ষর, প্রতীক ও ভাঙা বা অসম্পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে তৈরি করা পাসওয়ার্ড সাইবার অপরাধীদের জন্য তথ্য চুরি করা কঠিন করে তোলে। অনেক অনলাইন প্লাটফর্ম অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় এ ধরনের কঠিন পাসওয়ার্ড তৈরি বাধ্যতামূলক করে। প্রযুক্তি দুনিয়ায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বাড়াতে হবে।

ডিভাইস আপডেট না করা

ডিভাইসের সফটওয়্যার আপডেট করা অনেক সময় ঝামেলার মনে হতে পারে। কিন্তু এটি ব্যক্তির সাইবার নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ২০২০ সালে কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ব্যবহারকারী আপডেট ইনস্টল করতে দ্বিধাগ্রস্ত হন। কারণ আপডেটের ফলে ফন্ট বা ফিচার পরিবর্তন হয়, ফলে ডিভাইস ব্যবহারের সময় এটি অচেনা মনে হয়। গুরুত্বপূর্ণ আপডেট না করা ডিভাইসকে সাইবার আক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে। আপডেটগুলো ডিভাইসের ত্রুটি সরিয়ে দেয় ও নিরাপত্তা জোরদার করে।

ফোনে স্ক্রিন লক না থাকা

ফোনে দৈনন্দিন ব্যবহার ও বিনোদনের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাপ থাকে। এতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ই-মেইল এবং কাজের ডাটার মতো ব্যক্তিগত তথ্যও সংরক্ষিত থাকে। ফোনটি যদি পাসওয়ার্ড, পিন কোড বা প্যাটার্ন পাসকোড দিয়ে সুরক্ষিত না থাকে, তবে এসব তথ্য খুব সহজেই চুরি হতে পারে। যদি কেউ ফোনটি চুরি করে, কোনো অতিরিক্ত পরিশ্রম ছাড়াই সে ব্যবহারকারীর সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অ্যাকসেস করতে পারে। তাই ফোনে স্ক্রিন লক ব্যবহার করা ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

ওয়েবক্যাম সবসময় সুরক্ষিত ভাবা

ওয়েবক্যাম হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে হ্যাকাররা কম্পিউটার ক্যামেরার অ্যাকসেস পেতে পারে ও সামনে বসা ব্যক্তির (তার অজান্তে) কার্যক্রম দেখতে পারে। এক্ষেত্রে নিজেকে চিন্তামুক্ত রাখতে, ওয়েবক্যাম কিংবা ল্যাপটপের ক্যামেরায় ফিজিক্যাল প্রাইভেসি শাটার ব্যবহার করা যায়। অনেক ল্যাপটপ ও ডেস্কটপে ক্যামেরা কভার বা শাটার থাকে। এসব শাটার ব্যবহার করে ক্যামেরা বন্ধ করে রাখা যায়।

শুধু ব্যক্তি না, এ ধরনের ঝুঁকিতে আছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সাপ্তাহিক গড়ে ১ হাজার ৮৭৬টি সাইবার আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে। এ সংখ্যা ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭৫ শতাংশ ও আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।

স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে