চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে বিক্রি কমেছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ শতাংশ। টানা ছয় প্রান্তিক পর এটাই বাজারে প্রথম পতন, যা শিল্পের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর লাইট রিডিং।
সংস্থাটি বলছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও ভোক্তাদের সতর্ক মনোভাবের মধ্যেও বড় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো বিক্রি বা বাজার হিস্যার দিক থেকে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৯ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে স্যামসাং, যেখানে ‘গ্যালাক্সি এ’ সিরিজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বড়। এরপর ১৬ শতাংশ হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে অ্যাপল এবং ১৫ শতাংশ হিস্যা নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে চীনের শাওমি। শীর্ষ পাঁচে বাকি দুটি স্থান দখল করেছে ভিভো ও ট্র্যানশন।
ক্যানালিসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রুনার বিয়রহোভদে বলেন, ‘দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজারে কিছুটা মন্থরতা এসেছে। মহামারীর সময় কেনা ডিভাইসের বদল কমে যাওয়া এবং ভোক্তাদের দুর্বল চাহিদা এর প্রধান কারণ।’
তিনি আরো বলেন, ‘বড় স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো এখন উৎপাদন ও ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করছে। আবার একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ বাঁচাতে ও কার্যক্রমকে দক্ষ রাখতেও নানা কৌশল প্রয়োগ করছে। অনেক স্মার্টফোন নির্মাতা দ্বিতীয় প্রান্তিকে বড় লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল, কিন্তু অতিরিক্ত পণ্যের ঝুঁকি এড়াতে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি অন্য রকম ছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে অ্যাপল, স্যামসাং, মটোরোলার মতো কোম্পানিগুলো পণ্য মজুদ করে রেখেছিল এবং পুরো প্রান্তিকজুড়ে বেশি ডিভাইস বিক্রি করতে পেরেছে। জটিল রাজনৈতিক ও নীতির ঝুঁকি মোকাবেলায় এটা ছিল কোম্পানিগুলোর প্রয়োজনীয় কৌশল।
ক্যানালিসের স্মার্টফোন গবেষণা বিভাগের প্রধান অ্যাম্বার লিউ বলেন, ‘বছরের প্রথমার্ধে অনেক ভোক্তাই কেনাকাটা পিছিয়েছেন। তবে সামনের শপিং ফেস্টিভ্যাল ও বছরের শেষের আয়োজনে কেনাকাটা আবারো চাঙ্গা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
তার মতে, স্মার্টফোন বিক্রিতে সাফল্যের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দাম নির্ধারণ ও সঠিক প্রচারণা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রমাণ মিলেছে চীনের ৬১৮ শপিং ফেস্টিভ্যালে। যেখানে হুয়াওয়ে ও অ্যাপল এ দুই কৌশলের কারণে ভালো সাড়া পেয়েছে।
বছরের দ্বিতীয়ার্ধে স্মার্টফোন শিল্প আবারো প্রবৃদ্ধি দেখতে পারে উল্লেখ করে অ্যাম্বার লিউ জানান, সাম্প্রতিক উন্মোচনে পাতলা ডিজাইন, নতুনত্ব ও গোপনীয়তা সুরক্ষার মতো ফিচারগুলো ভোক্তাদের আকর্ষণ করছে। বেশির ভাগ ক্রেতা পুরনো ডিভাইস বদলে সাশ্রয়ী মূল্যের ভালো ফোন খুঁজবেন। এছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত স্মার্টফোনের মজুদ আছে। তাই নতুন মডেল দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী তিনি।
বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে ডিভাইস বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ইউনিট। পাশাপাশি বছরের প্রথম তিন মাসে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে চীনা কোম্পানিগুলোর বিক্রি বেড়েছে।










