চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ক্লাউড অবকাঠামো খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে তা ৭ হাজার ৯৮০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। বাজার গবেষণা সংস্থা ক্যানালিস প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বৈশ্বিক পর্যায়ে মোট ব্যয়ের ৬৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস), মাইক্রোসফট অ্যাজুর ও গুগল ক্লাউড। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিগুলোর ব্যয় সম্মিলিতভাবে ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
এন্টারপ্রাইজ বা ব্যবসায়িক পর্যায়ে ক্লাউড পরিষেবা গ্রহণের হার বেড়ে যাওয়ায় তিনটি কোম্পানির প্রবৃদ্ধিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে এডব্লিউএস ও গুগল ক্লাউডকে ছাড়িয়ে গেছে মাইক্রোসফট। কোম্পানিটির বিক্রি বছরওয়ারি হিসেবে ৩১ শতাংশ বেড়েছে, যা এডব্লিউএসের ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির দ্বিগুণ। অন্যদিকে গুগল ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।
বড় বাজার হিস্যা থাকলেও পুরো সময়ই অন্য কোম্পানির সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস। চলতি মাসে কোম্পানিটি তাদের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম সেলিপস্কির প্রস্থানের ঘোষণা দিয়েছে। তিনি তিন বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাজার বিশ্লেষক ও গবেষকদের মতে, ক্লাউড পরিষেবা খাতে বিনিয়োগের দিক থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন অন্যতম বড় প্রভাবক। এআই অ্যাপ্লিকেশন ও তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ক্লাউড স্টোরেজ সহায়ক। বিশ্বব্যাপী এআই ইন্টিগ্রেশনের চাহিদা বাড়ছে। আর এটি ক্লাউড প্রযুক্তির সঙ্গে এআই একত্রীকরণে পরিষেবা কোম্পানিগুলোকে উৎসাহ দিচ্ছে।
অন্যদিকে এন্টারপ্রাইজ বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ক্লাউড খাতে তাদের বিনিয়োগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করছে। এডব্লিউএস, মাইক্রোসফট ও গুগলের সঙ্গে বিভিন্ন এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকরা কয়েক বছরের জন্য চুক্তি করছে। এর মাধ্যমে ক্লাউড পরিষেবা গ্রহণে কোম্পানিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
ক্যানালিসের এক বিশ্লেষক ই ঝ্যাং বলেন, ‘তিনটি কোম্পানির কৌশলেও বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। আর এটি তাদের প্রবৃদ্ধিতেও পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে মাইক্রোসফটের এন্ড-টু-এন্ড পোর্টফোলিও বড় ধরনের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আর গুগলের শক্তিশালী দিক হচ্ছে এর এআই সক্ষমতা।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি জেনারেটিভ এআইয়ের বিকাশ ও বিদ্যমান পণ্যে এআই যুক্ত করার জন্য অ্যানথ্রোপিকে ৪০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে এডব্লিউএস। এটি কোম্পানিকে বাজার প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে রাখবে।’
ক্যানালিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এখন পর্যন্ত ৩১ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে বৈশ্বিক ক্লাউড পরিষেবা বাজারের শীর্ষে রয়েছে এডব্লিউএস। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগের প্রধান নির্বাহীর প্রস্থান বাজার হিস্যা পুনরুদ্ধারে নতুন করে কাজ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২৫ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাইক্রোসফট অ্যাজুর। ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখেছে। কোম্পানির তথ্যানুযায়ী, এআই-নির্ভর পরিষেবার চাহিদা মোট আয়ের ৭ শতাংশ। ওপেনএআইয়ের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি চালু রাখার বিষয়েও জানিয়েছে কোম্পানিটি।
১০ শতাংশ বাজার হিস্যা ও ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে গুগল ক্লাউড। ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিক শেষে গুগল ক্লাউড ৮ হাজার ৭০ কোটি ডলার আয় করেছে। যেখানে আগের বছরের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ১৩০ কোটি ডলার। এপ্রিলে গুগল নেক্সট সম্মেলনে উন্মোচন করা জেমিনি ওয়ান পয়েন্ট ফাইভ প্রো এখন ১৮০টির বেশি দেশে চালু রয়েছে।










