টেলিকম ও ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বৈশ্বিক পর্যায়ে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছে ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান খাতগুলোয় কাজ করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেডিট রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপির একজন শীর্ষ নির্বাহী এ কথা জানান। খবর ইটি টেলিকম।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম ক্যানসলার, বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার দিক থেকে ভারতের টেলিকম ও ইলেকট্রনিকস খাতগুলো এগিয়ে রয়েছে। কেস স্টাডিতে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল দেশে পরিণত হচ্ছে।’
শীর্ষ নির্বাহী আরো জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে ভারত ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে আরো ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
অ্যাডাম ক্যানসলার বলেন, ‘জি২০ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে ভারত দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ভবিষ্যতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করবে।’
আর্থিক তথ্য ও বিশ্লেষণী সংস্থাটির মতে, এক দশকে ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রতিফলিত করে। আগের দেয়া এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের ১১০ কোটি অধিবাসী ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাবে। এছাড়া ই-কমার্সের ক্রমবর্ধমান বাজার ও ফোরজি থেকে ফাইভজি স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে স্থানান্তর হওয়ার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে মূলধন কোম্পানির সংখ্যাও বাড়বে।
ভারতে শ্রমবাজার তরুণনির্ভর। সরকার গৃহীত পদক্ষেপের কারণে ৩০টির বেশি খাতে উচ্চতর দক্ষতা অর্জনে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাজ করছে। ক্যানসলার বলেন, ‘ভারতে বর্তমানে তিনটি বিষয় রয়েছে, যেগুলোর ওপর আমরা নজর রাখছি। এগুলো হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রম বাজারের সম্ভাবনা ও বিশ্ব বাণিজ্যে ভারতের ভূমিকা।’
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্যানুযায়ী, সরবরাহ চেইনে বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগাচ্ছে ভারত। ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের জিডিপিতে উৎপাদন খাতের অংশগ্রহণ হার ২০ শতাংশে উন্নীত হবে। একই সময় পরিষেবা খাতের হিস্যাও ৫৬ শতাংশ ছাড়াবে বলে জানানো হয়। সংস্থাটি জানায়, এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববাণ্যিজ্যে ভারতে রফতানি ১৩০ শতাংশ ও আমদানি বেড়ে ১২৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
২০২০ সালে টাওয়ার ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্রাস্ট অধিগ্রহণে ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে সিঙ্গাপুরের জিআইসি ও কানাডার ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট। এটি আগে ভারতে টেলিকম খাতের সম্পদ ছিল।
অন্যদিকে গত বছর ভারতের ওয়্যারেবল ডিভাইসের বাজার ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় মোট উৎপাদিত ডিভাইসের পরিমাণ বেড়ে ১৩ কোটি ৪২ লাখ ইউনিট হয়েছে। ২০২৩ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ২ কোটি ৮৪ লাখ ইউনিট ডিভাইস বাজারজাত করা হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।
গত বছর উৎসবের সময় প্রচারমূলক অফার ও ডিসকাউন্টসহ কোম্পানিগুলো একাধিক নতুন ওয়্যারেবল ডিভাইস বাজারে এনেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এ খাতে বেশি পণ্য মজুদ থাকার মতো জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বছরওয়ারি হিসেবে বাজার বাড়লেও দেশটিতে ওয়্যারেবল ডিভাইসের গড় বিক্রিমূল্য অনেকটাই কমেছে। যেখানে ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গড় বিক্রিমূল্য ২৫ ডলার ছিল, ২০২৩ সালে তা কমে ২১ ডলার ২০ সেন্টে নেমে এসেছে।










