পৃথিবীর নিম্নকক্ষে স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) ও মহাকাশ বর্জ্যের (স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ) পরিমাণ বেড়েই চলেছে। এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, মহাকাশযান ও স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী দেশ ও কোম্পানিগুলো যদি প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা সরবরাহ না করে, তাহলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ অচল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর রয়টার্স।

গত অক্টোবরের শেষের দিকে মহাকাশ ট্রাফিক সমন্বয় সম্পর্কিত জাতিসংঘের একটি প্যানেল মহাকাশে বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তায় গুরুত্বারোপ করে। প্যানেল সদস্যরা মহাকাশ বর্জ্য সম্পর্কিত একটি শেয়ার্ড ডাটাবেজ তৈরির পরামর্শ দেন। এসব পরিচালনা ও নিরীক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার কথাও জানান।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি স্লিংশট এরোস্পেসের তথ্যানুযায়ী, নিম্নকক্ষে ১৪ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। এর মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি রকেট উৎক্ষেপণ, সংঘর্ষ ও অন্যান্য কারণে যেসব ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, তার সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। যেগুলোর মধ্যে মাত্র কয়েক হাজার টুকরো পর্যবেক্ষণে রাখার মতো যথেষ্ট বড়।

প্যানেল কো-চেয়ার ও ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক আরতি হোল্লা-মাইনি বলেন, ‘মহাকাশ ট্রাফিক ব্যবস্থা সমন্বয়ে সময় অপচয় করার সুযোগ নেই। মহাকাশে অনেক কিছুই উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তার জন্য আমাদের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, করতে হবে। স্যাটেলাইটগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধে পরিচালনকারী কোম্পানি ও দেশের মধ্যে যথাযথ তথ্য ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা করতে হবে, তা পাবলিক বা প্রাইভেট যেকোনো উপায়ে হতে পারে।’

তিনি জানান, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে বৈশ্বিক যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন সিস্টেম ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পেছনে থাকা প্রযুক্তিতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

মহাকাশ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য মহাকাশ অনুসন্ধানকারী দেশ ব্যবহার করতে পারে এমন কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নেই। তাছাড়া এ ধরনের ব্যবস্থায় মহাকাশ প্রযুক্তি সম্বলিত দেশগুলোকে যুক্ত করা কঠিন। কারণ অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কিছু দেশ তথ্য ভাগাভাগি করতে আগ্রহী হলেও অন্যরা জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। কারণ স্যাটেলাইট বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাছাড়া বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গোপনীয় তথ্য রক্ষা করতে চায়। এজন্য ডাটা ভাগাভাগিতে তারা অনাগ্রহ দেখিয়েছে।