ছাপা বইয়ের ডিজিটাল সংস্করণই হলো ই-বুক, যা ই-রিডার, কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে পড়া যায়। ই-বুকের প্রধান সুবিধা এর সহজলভ্যতা, তাৎক্ষণিক ডাউনলোড ও একাধিক বই একসঙ্গে বহন করা করা। প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে ই-বুকের চাহিদা বাড়ছে। বাজার গবেষণা সংস্থা মার্কেটডটইউএসের গত অক্টোবরের প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বব্যাপী ই-বুক বাজারমূল্য ২০২৩ সালের ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২০৩৩ সালে ২ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার হবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪-৩৩ সাল পর্যন্ত এ বাজার বার্ষিক ৫ দশমিক ১ শতাংশ হারে বাড়বে।
বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে দেশের বাজারেও জনপ্রিয় হচ্ছে ই-বুক। এক দশক আগে যাত্রা শুরু করা ‘বইঘর’ তিন বছর ধরে ই-বুক ও অডিও বুকের ক্ষেত্রে দারুণভাবে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। দেশে তো বটেই, অনেক দেশে তাদের বিপুলসংখ্যক পাঠক আছেন বলে জানিয়েছে প্লাটফর্মটি।
বইঘর গ্লোবাল সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘ই-বুক ও অডিও বুকের চাহিদা আগের থেকে অনেক বেড়েছে। প্রতিনিয়ত আমরা পাঠকের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। থ্রিলার, রহস্য, রোমাঞ্চ, মোটিভেশন, একাডেমিক প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।’ তার মতে, মুদ্রিত বইয়ের আবেদন কখনো ফুরোবে না। পাশাপাশি ই-বুক ও অডিও বুকের চাহিদা দিনে দিনে আরো বাড়বে, কেননা ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে চলতে-ফিরতেও ই-বুক পড়া যায়, অডিও বুক শোনা যায়।
এদিকে ডিজিটাল মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে দেশ-বিদেশে সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ২০২০ সালে যাত্রা করে ‘বইটই’ অ্যাপ। রিদ্মিক ল্যাবসের এ ই-বুক প্লাটফর্মের দাবি, বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ পাঠক ও ১০ হাজারেরও বেশি বই নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-বুক লাইব্রেরি বইটই। তারা জনপ্রিয় প্রকাশক ও লেখকদের পাশাপাশি নবীন লেখকদের জন্যও বই প্রকাশের সুযোগ রেখেছে।
রিদ্মিক ল্যাবসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হাসনাত জানান, গত এক বছরে তাদের বই বিক্রি ১২৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে নতুন করে আট লাখ পাঠক তাদের অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন, যা দিন দিন বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির প্রসার ও সহজলভ্যতার কারণে পাঠকরা দ্রুত ও সুবিধাজনকভাবে ই-বুকের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। তাছাড়া পরিবেশের জন্য কাগজের ব্যবহার হ্রাস করা এবং দ্রুত বিতরণের সুবিধা ই-বুকের চাহিদা ক্রমাগত বাড়াচ্ছে।’
ই-বুকের দাম সাধারণত মুদ্রিত বইয়ের অর্ধেকেরও কম, অনেক সময় এক-তৃতীয়াংশও হয়। যেহেতু কাগজ ও মুদ্রণের খরচ নেই, তাই অনেক লেখক তাদের কিছু বই ফ্রিতেও প্রকাশ করে থাকেন।
মার্কেটডটইউএসের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার বাড়ায় ই-বুকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে অনেক মানুষ প্রচলিত বইয়ের তুলনায় ডিজিটাল কনটেন্ট বেশি পছন্দ করেন, কারণ এটি সহজলভ্য ও তুলনামূলক সস্তা।










