২০২৪ সালের অক্টোবরে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিক্রি ৫ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শিল্পটির ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে অক্টোবরে। সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) গত বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
এসআইএর তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর অক্টোবরের বিক্রির পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ১ ও ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালের একই সময় সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার মূল্যের। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছর শেষে এ খাতে বিক্রি বাড়বে ১৯ শতাংশ।
মাসিক সেমিকন্ডাক্টর বিক্রির তথ্য বিশ্ব সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিসটিকস (ডব্লিউএসটিএস) সংস্থা দ্বারা সংগৃহীত হয়। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পূর্বাভাস হালনাগাদ করেছে। ২০২৪ সাল শেষে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি ১৯ শতাংশ বেড়ে ৬২ হাজার ৬৯০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৫ সালে এ শিল্প ১১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৯ হাজার ৭২০ কোটি ডলারে দাঁড়াবে।
এ বিষয়ে এসআইএর প্রেসিডেন্ট ও সিইও জন নিউফার বলেন, ‘বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০২৪ সালের শেষে এসে বড় সাফল্য অর্জন করেছে। কারণ অক্টোবরে শিল্পটি মাসিক হিসাবে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সেমিকন্ডাক্টরে বিক্রি করেছে এবং গত সাত মাসে বিক্রি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তার মতে, ২০২৪ সালে মোট বার্ষিক বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ বাড়বে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। আর ২০২৫ সালে বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণ হারে বাড়বে।’
এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর খাতে অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিক্রি বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, চীন ১৭, এশিয়া-প্যাসিফিক/অন্য অঞ্চলে প্রায় ১২ ও জাপানে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে ইউরোপে বিক্রি কমেছে ৭ শতাংশ।
এর আগে এসআইএর গত মাসের প্রতিবেদন জানায়, চলতি বছর তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিক্রি হয়েছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য। সংখ্যাটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ দশমিক ২ ও আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের এ প্রবৃদ্ধিতে ৪৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে আমেরিকার অঞ্চল। এছাড়া এ বাজারে সর্বোচ্চ মাসিক বিক্রির রেকর্ড ছিল গত সেপ্টেম্বরে। সংস্থাটির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী ৫ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার মূল্যের সেমিকন্ডাক্টর বিক্রি হয়েছে, যা গত আগস্টের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। আগস্টে বিক্রি পৌঁছেছিল ৫ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে।
২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও (এপ্রিল-জুন) বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজার শক্তিশালী অবস্থায় ছিল। এসআইএর আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই প্রান্তিকে সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিশ্বব্যাপী বিক্রি হয়েছে ১৪ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য। এদিকে সেমিকন্ডাক্টর ইকুইপমেন্ট ও মেটেরিয়ালস ইন্টারন্যাশনালের (সেমি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারকরা ২০২৫-২৭ সালের মধ্যে চিপ তৈরির যন্ত্রপাতিতে ৪০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। এ বিনিয়োগে নেতৃত্ব দেবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মেমোরি স্টোরেজের জন্য চিপের বাড়তি চাহিদা এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ। এআইয়ের প্রভাবে চলতি বছরের বাকিটা সময় সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে আশাবাদী বাজার বিশ্লেষকরা।










