আপনি যদি নতুন হেডফোন কেনার পরিকল্পনা করেন এবং বাইরের শব্দ আটকে দিতে পারে এমন কিছু চান, তবে সাধারণত দুই ধরনের হেডফোনের মাঝ থেকে একটি বেছে নিতে হবে—নয়েজ ক্যান্সেলিং ও নয়েজ-আইসোলেটিং হেডফোন। দুই ধরনের হেডফোনই শব্দ প্রতিরোধ করতে চায়, তবে তা ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে।
নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন বলতে আসলে এএনসি (অ্যাকটিভ নয়েজ ক্যান্সেলেশন) বোঝায়। এটি একটি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি, যা মাইক্রোফোনের সাহায্যে বাইরের শব্দ রেকর্ড করে এবং সে শব্দকে ইনভার্স বা বিপরীত শব্দ তরঙ্গে রূপান্তর করে।
এ বিপরীত শব্দ তরঙ্গ হেডফোনে বাজানো হলে দুটি তরঙ্গ পরস্পরকে বাতিল করে দেয় বলে ব্যবহারকারী আর সে শব্দ শুনতে পায় না।
এএনসির মান হেডফোনের দামের ওপর নির্ভর করে। ব্যয়বহুল মডেল প্রায় সম্পূর্ণভাবে শব্দ প্রতিরোধ করতে পারে। অন্যদিকে এন্ট্রি লেভেল মডেলগুলো কেবল শব্দের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে দেয়। তবে এএনসি প্রয়োগ করা হলে অতিরিক্ত শব্দ তরঙ্গের মান কিছুটা বিকৃত হতে পারে, বিশেষ করে যদি এএনসি প্রযুক্তি নিম্নমানের হয়।
অন্যদিকে নয়েজ-আইসোলেটিং হেডফোনে কেবল হেডফোনের শারীরিক গঠন ব্যবহার করে শব্দ ব্লক করা হয়। উদাহরণস্বরূপ ওভার-ইয়ার হেডফোনে ক্লোজড-ব্যাক ডিজাইন ও প্যাডযুক্ত মোটা ইয়ার কুশন ব্যবহার করা হয়, যা কানের চারপাশে একটি সিল তৈরি করে শব্দ প্রতিরোধ করে। ইয়ারবাডগুলোয় ব্যবহৃত ফোম বা সিলিকন কানের ভেতরের অংশে সিল তৈরি করে বাইরের শব্দ আটকে দেয়।
আপনি যদি দৈনন্দিন যাতায়াত, অফিস বা ভ্রমণের জন্য হেডফোন খুঁজে থাকেন তবে এএনসিযুক্ত একটি মডেল বেছে নিতে পারেন। আশপাশের মানুষ, যানবাহন, ট্রেন বা উড়োজাহাজের অবিরাম শব্দ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এটি আদর্শ। আপনি কোনো শব্দ শুনতে না চাইলে একটি ভালো এএনসিযুক্ত হেডফোনই একমাত্র সমাধান। এছাড়া ওয়্যারলেস হেডফোন ব্যবহার করাও সুবিধাজনক। কারণ এটি তারের ঝামেলা এড়াতে সাহায্য করে।
এ পরিস্থিতিতে ট্রান্সপারেন্সি মোডও একটি কার্যকরী ফিচার। এ বৈশিষ্ট্য আপনাকে হেডফোন খুলে না ফেলেই আশপাশের শব্দ শুনতে সাহায্য করে। এটি এয়ারপডস প্রো ২ ও অন্যান্য উন্নত মানের এএনসি হেডফোনে পাওয়া যায়।
আপনি যদি ঘরে বসে গান শোনা বা গেম খেলার সময় শব্দমুক্ত পরিবেশ চান, নয়েজ-আইসোলেটিং হেডফোনই সেজন্য যথেষ্ট। এগুলো বাইরে, জিমে বা অফিসেও ব্যবহার করা যায়, তবে বাইরের শব্দ পুরোপুরি প্রতিরোধ হবে না। আপনি কিছু বাজাতে শুরু করলে অধিকাংশ শব্দই আর শুনতে পাবেন না।
নয়েজ-আইসোলেটিং হেডফোনের একটি বড় সুবিধা হলো এগুলো তুলনামূলক সস্তা। এছাড়া এগুলোয় ব্যাটারি, মাইক্রোফোন বা মাইক্রোচিপের প্রয়োজন হয় না, যা খরচও কমায়। আরেকটি সুবিধা হলো এসব হেডফোনের শব্দের মান অনেক ভালো থাকে।
খবর: মেকঅবইউজ










