প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যাট গেলসিঞ্জার পদত্যাগ করেছেন। গত রোববার তিনি সিইও পদ থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ও প্রতিষ্ঠানের বোর্ড থেকেও সরে দাঁড়ান। খবর রয়টার্স।
কোম্পানির সূত্র বলছে, গেলসিঞ্জারের অধীনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ তৈরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে ইন্টেল। এমন পরিস্থিতিতে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ প্যাট গেলসিঞ্জারকে অবসর নিতে বলেন, না হলে তাকে অপসারণ করা হতে পারে জানায়। পরে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে কোম্পানিটির নির্বাহী ডেভিড জিন্সনার ও মিশেল জনস্টন হোলথাসকে অন্তর্বর্তীকালীন সহ-সিইও হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। জিন্সনার ইন্টেলের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং হোলথাস কোম্পানির ক্লায়েন্ট কম্পিউটিং গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে চিপ শিল্পে সবচেয়ে সফল ও বড় কোম্পানি ছিল ইন্টেল। ২০২১ সালে প্যাট গেলসিঞ্জার ইন্টেলে সিইও হিসেবে যোগ দেয়ার পর ২০২২ সালের প্রথম দিকে কোম্পানির পিসি চিপের আয় ২৫ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া ইন্টেল ডাটা সেন্টার চিপের বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী এএমডির কাছে শীর্ষস্থান হারায়।
২০২৩ সালে ইন্টেলের আয় ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে নেমে আসে। গত অক্টোবরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ডলারের লোকসানের কথা জানায় ইন্টেল, যা ছিল কোম্পানির ৫৬ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
পদত্যাগের বিষয়ে প্যাট গেলসিঞ্জার বলছেন, ইন্টেলের নেতৃত্ব দেয়া ছিল তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। তার সহকর্মীদের ব্যবসায়ের সবচেয়ে সেরা ও মেধাবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে গত বছরটি তার জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল।
গেলসিঞ্জার ১৮ বছর বয়সে ইন্টেলে যোগ দেন। তিনি ১৯৮৯ সালে কোম্পানির চতুর্থ প্রজন্মের ৮০৪৮৬ প্রসেসর তৈরিতে নেতৃত্ব দেন। ৩২ বছর বয়সে গেলসিঞ্জার ইন্টেলের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সী ভাইস প্রেসিডেন্ট হন।
এদিকে প্যাট গেলসিঞ্জারের বিদায়ের খবরের পর ইন্টেলের শেয়ারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেড়েছে।










