গত বছর র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও এটি এখনো সবচেয়ে ব্যয়বহুল সাইবার হুমকি। সাইবার ইন্স্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান কোয়ালিশনের ২০২৫ সালের সাইবার ক্লেমস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াজুড়ে কোম্পানির নীতিনির্ধারণকারীদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার হামলার মধ্যে র‍্যানসমওয়্যারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। যদিও বার্ষিক হিসাবে ক্ষতিপূরণ দাবির হার ৩ শতাংশ কমেছে এবং ক্ষতির পরিমাণ ৭ শতাংশ কমেছে।

কোয়ালিশনের গ্লোবাল ক্লেমস প্রধান রবার্ট জোন্স বলেন, ‘যদিও সামগ্রিকভাবে ক্ষতিপূরণের আবেদন হার স্থিতিশীল, তবু সাইবার অপরাধীরা, বিশেষ করে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণকারী ব্যবসার জন্য বড় হুমকি। গড় দাবি এখনো মিলিয়ন ডলারের ঘরে।’

তিনি জানান, গত মার্চে র‍্যানসমওয়্যার ঘটনার সংখ্যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল। এ সময় বিজনেস ই-মেইল আপস (বিইসি) ও তহবিল স্থানান্তরসংক্রান্ত জালিয়াতি (এফটিএফ) ছিল সবচেয়ে প্রচলিত সাইবার ঘটনা। ২০২৪ সালে যা ছিল ক্ষতিপূরণ দাবির ৬০ শতাংশ। উল্লেখযোগ্যভাবে ২৯ শতাংশ বিইসি ঘটনার কারণে এফটিএফ ঘটেছে।

গত বছর এফটিএফের ক্ষতিপূরণ দাবির হার বার্ষিক হিসাবে ২ শতাংশ কমেছে। ক্ষতির মাত্রা ৪৬ শতাংশ কমে গড়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ডলার হয়েছে। অন্যদিকে বিইসির দাবির গড় ক্ষতির পরিমাণ ২৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ হাজার ডলার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে গড় ক্ষতি ছিল ৩৬ হাজার ডলার। যেখানে কানাডা ও যুক্তরাজ্যে গড় ছিল ২২ হাজার ডলার।

২০২৪ সালে র‍্যানসম আক্রমণের ক্ষতিপূরণ দাবির গড় পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এ হার ১ মিলিয়নের নিচে নেমে আসে, যা গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত র‍্যানসমওয়্যার ছিল আকিরা (১৩ শতাংশ দাবির জন্য দায়ী)। তবে ব্ল্যাক বাস্তা ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল, গড় ক্ষতিপূরণ দাবি ছিল ৪ মিলিয়ন ডলার।

২০২৪ সালে কোয়ালিশন কর্তৃপক্ষ ও অংশীদারদের সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি দাবির জন্য ২ লাখ ৭৮ হাজার।

সাইবার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন অগ্রগতির কথা জানিয়েছে কোয়ালিশন। কোম্পানিটি নিজস্ব ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্লাটফর্ম ‘কোয়ালিশন কন্ট্রোল’-এর মাধ্যমে সক্রিয় নীতিনির্ধারণকারীদের কাছে ৮৫ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে। এসব সতর্কতার ফলে ৩২ হাজারের বেশি নিরাপত্তা সমস্যা সময়মতো শনাক্ত ও সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

কোয়ালিশন জানায়, ভবিষ্যতে আরো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এ প্লাটফর্মকে আরো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত মাসে আইবিএমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য চুরি করার সফটওয়্যারের ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ৮৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ এখন হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড চুরি করার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে বড় কোম্পানিগুলোয় র‍্যানসমওয়্যার হামলা আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। —খবর টেকমনিটর