২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিগত কম্পিউটার (পিসি) বাজারে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের প্রতিবেদনে প্রাথমিকভাবে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মূলত দুটি কারণে বৈশ্বিক পিিস বাজারে এ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের সাপোর্ট এ বছরের শেষ নাগাদ বন্ধ হচ্ছে। এ ঘোষণার পর পরই বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত তাদের কম্পিউটার আপগ্রেড করতে শুরু করেছে। দ্বিতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্বলিত পিসির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। এছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষের আগাম প্রস্তুতির কারণে বাণিজ্যিক সেগমেন্টেও চাহিদা বেড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির অনিশ্চয়তার কারণে পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কায় প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনছে। এ ধরনের শুল্ক ও সরবরাহসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ২০২৫ সালের পরবর্তী সময়ে বাজারে চাপে ফেলতে পারে।
এ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি এসেছে মূলত বাণিজ্যিক খাত থেকে। বড় বড় করপোরেশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো উইন্ডোজ ১০-এর সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ডিভাইস আপগ্রেড করেছে। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে চিত্র ছিল মিশ্র। মাঝারি দামের ল্যাপটপের বিক্রি কিছুটা বাড়লেও, উন্নত বাজারে প্রিমিয়াম আল্ট্রাথিন মডেলের চাহিদা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।
ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে লেনোভো বাজারে শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোট পিসি চালানের প্রায় ২৫ শতাংশ লেনোভোর দখলে। আগাম শুল্কের প্রস্তুতি, উইন্ডোজ ১০ প্রতিস্থাপন ও এআই পিসির প্রাথমিক চাহিদার কারণে এ সাফল্য এসেছে। এর পরই রয়েছে এইচপি ও ডেল। প্রতিষ্ঠান দুটি করপোরেট পর্যায়ে ভালো চাহিদা পেলেও ছোট কোম্পানির কম দামের কারণে চাপের মুখে পড়েছে। অ্যাপলও তাদের নতুন এম৪ চিপের ম্যাকবুক বিক্রির মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে, তবে আগের প্রান্তিকগুলোর তুলনায় তাদের প্রবৃদ্ধি কিছুটা কম।
কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মিনসু কাং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সম্পর্কিত অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে পিসি চালানে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। আমরা আশা করছি, ২০২৬ সাল থেকে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ ল্যাপটপ এআই প্রযুক্তিতে সজ্জিত হবে।’
বৈশ্বিক পিসি উৎপাদন এখনো চীনকেন্দ্রিক হওয়ায় বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যদিও সাময়িকভাবে ল্যাপটপের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে অচিরেই সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক পিসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীন থেকে উৎপাদন সরিয়ে অন্য দেশে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে। ভিয়েতনাম, ভারত ও মেক্সিকো এখন বিকল্প উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে। তবে এসব দেশেও রয়েছে আলাদা চ্যালেঞ্জ, যেমন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও শুল্ক কাঠামোর পার্থক্য।
বিশ্লেষক ডেভিড নারানজো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এআই পিসির মূল বাজার হলেও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে ২০২৫ সালে অনেক ভোক্তা ও কোম্পানি কেনাকাটায় বিরতি দিতে পারে, যা বাজার প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করবে।’










