অ্যাপলের বিরুদ্ধে কর্মীদের ব্যক্তিগত ডিভাইস ও আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট অবৈধভাবে নজরদারি এবং তাদের বেতন ও কর্মস্থলের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা নিষিদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালতে এসব অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন টেক জায়ান্টটির ডিজিটাল বিজ্ঞাপন বিভাগের এক কর্মী। খবর গেজেটসথ্রিসিক্সটি।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কর্মীদের ব্যক্তিগত ডিভাইসে এমন সফটওয়্যার ইনস্টল করতে বাধ্য করা হয় যা কর্মস্থলের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে অ্যাপল তাদের ই-মেইল, ফটো লাইব্রেরি, স্বাস্থ্য ও স্মার্ট হোম ডাটাসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাকসেস পেয়ে থাকে।

মামলায় আরো বলা হয়েছে, অ্যাপল কর্মীদের জন্য গোপনীয়তার নীতি আরোপ করেছে, যা তাদের কর্মস্থলের শর্তাবলি, গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত তথ্য প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে।

মামলা দায়েরকারী ২০২০ সাল থেকে অ্যাপলে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি পডকাস্ট করে থাকেন। তিনি অভিযোগ করেন, পডকাস্টে তার কাজ নিয়ে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে বলেছে অ্যাপল। এমনকি তার লিংকডইন প্রোফাইলে কর্মস্থলের শর্তাবলি সম্পর্কিত তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যাপলের নজরদারি নীতি ও পদ্ধতি কর্মীদের আইনগতভাবে সুরক্ষিত তথ্য প্রকাশ, প্রতিযোগিতা, চাকরির বাজারে কর্মীদের অবাধ চলাচল ও বাক স্বাধীনতাকে স্থবির এবং অবৈধভাবে সীমাবদ্ধ করে।

তবে অ্যাপল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মামলার অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং কর্মীদের প্রতি বছর তাদের কর্মস্থলের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করার অধিকার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বসেরা পণ্য ও সেবা তৈরিতে মনোযোগী এবং গ্রাহকদের জন্য করা উদ্ভাবনগুলো সুরক্ষিত রাখতে কাজ করি।’

গত জুনে অ্যাপলের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন দুই মার্কিন নারী। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, অ্যাপলের প্রকৌশল, মার্কেটিং ও অ্যাপলকেয়ার বিভাগে নারী কর্মীদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়। এ বিষয়ে অ্যাপল বলেছে, তারা অন্তর্ভুক্তি ও পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রে সমতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এছাড়া অ্যাপলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লেবার বোর্ডে অন্তত তিনটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোয় বলা হয়েছে, কর্মীদের মধ্যে লিঙ্গ ও বেতনবৈষম্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে ও গণমাধ্যমে তা প্রকাশ করতে অবৈধভাবে নিরুৎসাহিত করেছে অ্যাপল। এমনকি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ল্যাকের মতো মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহারে বাধা দেয়া হয়েছে। অবশ্য অ্যাপল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিশেষ আইনের অধীনে দায়ের করা নতুন মামলায় বলা হয়েছে, এ আইন কর্মীদের রাজ্যের পক্ষে তাদের নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার সুযোগ দেয়। মামলায় নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে যেকোনো জরিমানার ৩৫ শতাংশ কর্মীরা পাবেন।