আজকের বিশ্বে ডিজিটাল কার্যক্রম, বিশেষ করে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য অপরিহার্য অবকাঠামো হয়ে উঠেছে ডাটা সেন্টার। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো যারা ডিজিটাল রূপান্তর ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সুবিধা নিতে চায়, তারা দ্রুত এ অবকাঠামো তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা লফেয়ারমিডিয়ার সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, ডাটা সেন্টারগুলো প্রচুর পানি ব্যবহার করে। অনেক দেশ তা না ভেবেই এসব নির্মাণ করছে, যা বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য পানির সংকট সৃষ্টি করতে পারে। এ প্রবণতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় কিছু অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দিয়েছে. যা সামাজিক, রাজনৈতিক ও পরিবেশগত সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডাটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ার পেছনে একটি প্রধান কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। সংশ্লিষ্টদের মতে, পানির ব্যবহারকারী অন্যান্য খাত যেমন গবাদি পশু পালন ও বস্ত্র শিল্পকেও ছাড়িয়ে যাবে ডাটা সেন্টার। তারা বলছেন, একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আর অন্যদিকে সামাজিক সমস্যা সমাধানে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। এ প্রযুক্তি পরিবেশকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকা উচিত।
লফেয়ারমিডিয়া বলছে, পানি সম্পদের ওপর ডাটা সেন্টারগুলোর প্রভাব সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্পষ্ট ধারণা নেই। কারণ পানির ব্যবহার ট্র্যাক ও রিপোর্ট করার জন্য কোনো আদর্শ নিয়ম নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পানির ব্যবহার আরো ভালোভাবে পরিচালনা ও ঘাটতি রোধ করতে, ডাটা সেন্টারগুলোয় এর ব্যবহারের স্বচ্ছতা ও স্পষ্ট প্রতিবেদন থাকা গুরুত্বপূর্ণ৷।
ডাটা সেন্টারগুলো কতটা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরেই। কিন্তু এগুলো যে প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহার করছে, তা নিয়ে এখনো খুব কম আলোচনা হয়েছে। এক মেগাওয়াটের ছোট ডাটা সেন্টার বছরে ২৬০ লাখ লিটার পানি ব্যবহার করতে পারে (ছোট ডাটা সেন্টারের গড় সক্ষমতা এক থেকে পাঁচ মেগাওয়াটের মধ্যে)। এটি প্রায় ৬২টি পরিবারের মোট বার্ষিক পানি ব্যবহারের সমান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ডাটা সেন্টার সক্ষমতা ৪০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি, যা ২০ লাখের বেশি পরিবারের বার্ষিক পানি ব্যবহারের সমান।
লিকুইড কুলড ডাটা সেন্টারগুলো তাদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পানি ব্যবহার করে। সরঞ্জামের ক্ষতি এড়াতে সাধারণত পরিষ্কার, ভালো মানের পানির দরকার হয়। এক্ষেত্রে দুই ধরনের কুলিং সিস্টেম রয়েছে, ক্লোজড লুপ ও ওপেন লুপ। ক্লোজড লুপ সিস্টেমে পাইপের মধ্যে পানি পুনর্ব্যবহার হয়, তাই অপচয় কম হয়। অন্যদিকে ওপেন লুপ সিস্টেমে বাষ্প হয়ে যায়। ক্লোজড লুপ সিস্টেমগুলো ব্যয়বহুল, তাই বেশির ভাগ বড় ডাটা সেন্টারগুলো বাষ্পীভূত শীতলকরণের ওপর নির্ভর করে।










