বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো বাজার অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) ওয়ার্ল্ডওয়াইড সেমি-অ্যানুয়াল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্র্যাকারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এ খাতে ব্যয় ১০০ বিলিয়ন বা ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। খবর আইডিসি।
এআই অবকাঠামো বাজারের প্রবৃদ্ধির হার গত সাড়ে চার বছর ধরে দুই অংকের ঘরে রয়েছে। এ প্রবৃদ্ধি মূলত এআইয়ের উন্নতির জন্য সার্ভারে বিনিয়োগের কারণে সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে এআই খাতে মোট ব্যয়ের ৮৯ শতাংশই সার্ভারে করা হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় ক্লাউডভিত্তিক ও শেয়ার্ড পরিবেশে স্থাপিত এআই অবকাঠামো মোট সার্ভার ব্যয়ের ৬৫ শতাংশ দখল করেছে। হাইপারস্কেলার, ক্লাউড ও ডিজিটাল পরিষেবা প্রদানকারীরা তাদের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ করছে। তবে গতানুগতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এআই অবকাঠামো ব্যবহারে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে কম্পিউট ও স্টোরেজ হার্ডওয়্যার অবকাঠামো খাতে ব্যয় বার্ষিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ১৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
এআই প্লাটফর্মের জন্য অ্যাক্সেলেটর বা উচ্চ গতির চিপযুক্ত সার্ভারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে এ ধরনের সার্ভারের জন্য ব্যয় মোট সার্ভার অবকাঠামো ব্যয়ের ৫৮ শতাংশ ছিল। একই সময় এ খাতে ব্যয় বছরে ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। আইডিসি পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে অ্যাক্সেলেটেড সার্ভার এ খাতে ব্যয়ের ৬০ শতাংশ অতিক্রম করবে এবং ১৯ শতাংশ যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হারে (সিএজিআর) বাড়বে।
এআই অবকাঠামোয় স্টোরেজ ব্যয়ও বেড়েছে। এর পেছনে বড় ডাটাসেট ব্যবস্থাপনার চাহিদা ভূমিকা রেখেছে। এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ডাটা, প্রশিক্ষণের মধ্যবর্তী পর্যায়ের চেকপয়েন্ট ও ইনফারেন্স পর্যায়ের জন্য ডাটা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও এ খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী এআই অবকাঠামো বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর তিন মাসে বৈশ্বিক এআই অবকাঠামো ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে। এরপর চীনে ২৩ শতাংশ, এশিয়া প্যাসিফিক ও জাপানে ১৬ শতাংশ এবং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ১০ শতাংশ ব্যয় হয়েছে। আইডিসি বলছে, আগামী পাঁচ বছরে এপিজে অঞ্চলে ব্যয় ২০ শতাংশ যৌগিক বার্ষিক বৃদ্ধির হারে (সিএজিআর) সবচেয়ে দ্রুত বাড়বে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ শতাংশ, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় ১৩ শতাংশ এবং চীনে ১১ শতাংশ সিএজিআর হারে ব্যয় বাড়বে।
আইডিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে এআই অবকাঠামোয় ব্যয় ১০ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছবে। এ সময় ক্লাউডভিত্তিক সার্ভার বাজারের ৭৫ শতাংশ ও অ্যাক্সেলেটেড সার্ভার প্রায় ৫৬ শতাংশ দখল করবে।
আইডিসির ওয়ার্ল্ডওয়াইড এন্টারপ্রাইজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্র্যাকার্সের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট লিডিসে ফার্নান্দেজ বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী হাইপারস্কেলার, ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারী, বেসরকারি কোম্পানি ও সরকার এআইকে ক্রমবর্ধমানভাবে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এআই অবকাঠামোর জন্য বিদ্যুৎ খরচ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ডাটা সেন্টারগুলোকে আরো কর্মক্ষম করার পাশাপাশি সেগুলোর আর্কিটেকচার ব্যয়সাশ্রয়ী করার জন্য উপায় খুঁজছে কোম্পানিগুলো।’










