২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী টেলিকম টাওয়ারের বাজারে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে গড়ে ৬ শতাংশ হারে। ডাটা এম ইন্টেলিজেন্সের গ্লোবাল টেলিকম টাওয়ার প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাজারটি আকার ৬ হাজার ৭৮৭ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে ডাটা বিশ্লেষণ প্লাটফর্ম প্রেসিডেন্ট রিসার্চ। এ প্রবৃদ্ধির প্রধান কারণ দ্রুততর ইন্টারনেটের চাহিদা বৃদ্ধি, ফাইভজি প্রযুক্তির বিস্তার ও ডিজিটাল যোগাযোগে ক্রমবর্ধমান নির্ভরতা।

টেলিকম টাওয়ারে অ্যান্টেনা ও অন্যান্য যোগাযোগ সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়, যা ওয়্যারলেস সিগন্যাল প্রেরণে কাজে লাগে। এগুলো বড় এলাকাজুড়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক, রেডিও, টেলিভিশন সম্প্রচার ও ইন্টারনেট সংযোগ তৈরিতে ব্যবহার হয়।

প্রেসিডেন্ট রিসার্চের প্রতিবেদন বলছে, গত বছর টেলিকম টাওয়ার বাজারে সর্বাধিক হিস্যা নিয়ে শীর্ষ স্থানে ছিল এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল। ব্যাপকভাবে ফাইভজি প্রযুক্তির বিস্তার ও মোবাইল সংযোগের সম্প্রসারণ এর মূল কারণ। পাশাপাশি চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ নিজেদের টেলিকম অবকাঠামো উন্নত করছে। স্মার্ট সিটি প্রকল্পে বিনিয়োগ, নির্ভরযোগ্য সংযোগের চাহিদা বৃদ্ধি ও টেলিকমিউনিকেশন সেবার প্রয়োজনীয়তা টেলিকম টাওয়ারের বাজার সম্প্রসারণকে ত্বরান্বিত করছে।

আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশনের (আইডিসি) তথ্যানুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ২০২৪ সালে টেলিকমিউনিকেশন পরিষেবায় মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি ডলারে। অর্থের এ পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

আইডিসি বলছে, টেলিকম খাতে সাম্প্রতিক বছরে স্বল্পমেয়াদি কিছু পরিবর্তন দেখা গেলেও পুরো শিল্পটি এখন বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে, যা গ্রাহকসেবা ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি ফাইভজি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগও বাড়ছে। বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানি নিজেদের ব্যবসা ও প্রযুক্তি উন্নত করার জন্য অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে বিশেষ ধরনের সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি করছে। এছাড়া ফাইবার-অপটিক নেটওয়ার্ক ও লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইট প্রযুক্তির বিস্তার এ খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াচ্ছে এবং ইন্টারনেট সংযোগের মান উন্নত করছে।

ডাটা এম ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী ফাইভজি প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে টেলিকম টাওয়ার প্রতিস্থাপন জোরালোভাবে বাড়ছে। পূর্বের প্রযুক্তির তুলনায়, ফাইভজি প্রযুক্তি কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য বেশিসংখ্যক টেলিকম টাওয়ার ও ছোট ছোট সেল নেটওয়ার্ক দরকার হয়। পাশাপাশি টেলিকম কোম্পানিগুলো নতুন নতুন এলাকায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রতিযোগিতা চালাচ্ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে আরো বেশি টেলিকম টাওয়ারের প্রয়োজন হবে।

এরিকসনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এরিক একুডেন বিভিন্ন খাতে ফাইভজির ব্যাপক প্রভাব সম্পর্কে বলেন, ‘দৃঢ় ও উচ্চ কর্মক্ষমতার ফাইভজি নেটওয়ার্ক সামনের বছরগুলোয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে, নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

টেলিকম পরিষেবা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোবাইল পরিষেবাগুলো এখনো সবচেয়ে বড় খাত। কারণ মোবাইল ডাটা ও মেশিন টু মেশিন (এমটুএম) অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার বেড়েছে। যদিও এখন বিশ্বব্যাপী মোবাইল কল ও টেক্সট মেসেজিংয়ের ব্যয় কমছে।

প্রেসিডেন্ট রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, অনলাইন গেমিং ও ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের কারণে মোবাইল ডাটার ব্যবহার অভূতপূর্ব হারে বাড়ছে। এত বেশি ডাটা ট্রাফিক সামলাতে টেলিকম কোম্পানিগুলোকে নেটওয়ার্ক সক্ষমতা বাড়াতে ও ল্যাটেন্সি (ডাটা বা সংকেত পাঠানো থেকে গ্রহণের মধ্যকার সময়) কমাতে হচ্ছে।