র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের পর মুক্তিপণ দেয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান চেইন অ্যানালাইসিস জানিয়েছে, সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে গত বছর ভুক্তভোগীরা প্রায় ৮১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কম। ওই বছর র‍্যানসমওয়্যার মুক্তিপণের পরিমাণ ছিল ১২৫ কোটি ডলার। খবর টেক মনিটর।

চেইন অ্যানালাইসিসের সর্বশেষ ক্রিপ্টো ক্রাইম রিপোর্ট অনুসারে, ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের পর মুক্তিপণের অর্থের পরিমাণ কমেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মুক্তিপণ দিতে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিরোধমূলক মনোভাব এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

চেইন অ্যানালাইসিস বলেছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অভিযান, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধকারী সংস্থা ও ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতায় অনেক র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠীর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে তাদের মুক্তিপণ আদায়ের হারও কমেছে।

সংস্থাটি আরো জানায়, ভুক্তভোগীরাও মুক্তিপণ পরিশোধে প্রতিরোধমূলক মনোভাব দেখিয়েছে। এতে দাবীকৃত মুক্তিপণ ও পরিশোধিত অর্থের ব্যবধান বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে র‍্যানসমওয়্যার সম্পর্কিত মুক্তিপণ আদায়ে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে তা ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। ২০২১ সাল থেকে র‍্যানসমওয়্যার লেনদেন ও অন্যান্য ক্রিপ্টোসংক্রান্ত সাইবার অপরাধের প্রবণতা কমছে।

এদিকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণকারীরা। ২০২৪ সালে তারা আরো উন্নত কৌশল গ্রহণ করেছে। কোড পুনর্ব্যবহার, ফাঁস হওয়া কোড অথবা ক্রয়কৃত কোডের মাধ্যমে র‍্যানসমওয়্যারের নতুন স্ট্রেইন বা ধরন তৈরি করা হচ্ছে। চেইন অ্যানালাইসিস বলছে, ডাটা চুরি হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মুক্তিপণের জন্য দর কষাকষি শুরু হয়। র‍্যানসমওয়্যার ইকোসিস্টেমে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়া গোষ্ঠী, আক্রমণ সহযোগী, স্বতন্ত্র অপরাধী ও ডাটা চুরির মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়কারী গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪ সালে উল্লেখযোগ্য সাইবার হামলার মধ্যে ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারী স্নোফ্লেকের তথ্য ফাঁস অন্যতম।

গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে শীর্ষ র‍্যানসমওয়্যার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আকিরার তৎপরতা বেড়েছে। ২০২৩ সালের মার্চ থেকে গোষ্ঠীটি ২৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালিয়েছে।

অন্যদিকে লকবিট গোষ্ঠীর মুক্তিপণ আদায় ৭৯ শতাংশ কমেছে। ২০২৪ সালের প্রথম দিকে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) অভিযানে এ গোষ্ঠীর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অন্যতম শীর্ষ মুক্তিপণ আদায়কারী আলফভি বা ব্ল্যাকক্যাট গত বছরের জানুয়ারিতে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠিত গোষ্ঠীগুলোর পতনের ফলে নতুন গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে। ‘র‍্যানসমহাব’ নামক একটি আরএএএস অপারেশন ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হয়েছে। গোষ্ঠীটি লকবিট ও ব্ল্যাকক্যাটের পতনের পর তাদের সহযোগীদের নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

চেইন অ্যানালাইসিসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে র‍্যানসমহাব ছিল সর্বোচ্চসংখ্যক আক্রমণ চালানো গোষ্ঠী। এটি শীর্ষ ১০ র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণকারীর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে।