গত ১০ বছরে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি দেখেছে বৈশ্বিক মোবাইল গেমিংয়ের বাজার। স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার ফলে গেম খেলার ব্যবহারকারী বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর বাজারটির আকার দাঁড়ায় ৯ হাজার ৪৮০ কোটি ডলারে, যা ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। বাজার গবেষণা সংস্থা মার্কেটডটইউএসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটি বলছে, মোবাইল প্রযুক্তির অগ্রগতির মাধ্যমে ভিডিও গেমসের মান এবং খেলার অভিজ্ঞতাও অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে মোবাইল গেমিং শিল্প গতিশীলভাবে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতেও এর প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
মোবাইল গেমিং খাতে শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে চীনের টেনসেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড অন্যতম। জনপ্রিয় গেম পাবজি, কল অব ডিউটি, ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান্স, ফ্রি ফায়ার ও ক্যান্ডি ক্রাশ মোবাইল গেমের বাজার সম্প্রসারণে ভূমিকা রেখেছে। মোবাইল গেমিংয়ের বাজারে গত বছর সর্বোচ্চ হিস্যা নিয়ে শীর্ষে ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। এর মূলে রয়েছে দ্রুততর ইন্টারনেট সংযোগ ও ফাইভজি প্রযুক্তির বিস্তার। মার্কেটডটইউএসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৯ সাল নাগাদ প্রায় ৫৪০ কোটি মানুষ ফাইভজি ব্যবহার করবে, যা বিশ্বব্যাপী মোট মোবাইল ব্যবহারকারীর ৫৮ শতাংশের বেশি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, উন্নয়নশীল বাজারগুলোয় স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মোবাইল গেমের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যের মোবাইল ডিভাইস ও ডাটা প্ল্যানের ফলে মোবাইল গেমিং আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
জার্মানিভিত্তিক অনলাইন ডাটা প্লাটফর্ম স্ট্যাটিস্টার তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গেমসের বাজারে গত বছর আয়ের দিক থেকে শীর্ষে ছিল মোবাইল গেমিং। ২০২৪ সালে গেমিং বিভাগটির বার্ষিক আয় ছিল ৯০ বিলিয়ন বা ৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। গেমিং ডিভাইসের এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে কনসোল, যা আয় করেছে ৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি। পিসি গেমিং আছে শেষ স্থানে। বিভাগটি মোবাইল ও কনসোলের তুলনায় কম আয় করেছে।
স্ট্যাটিস্টার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নত হার্ডওয়্যারের কারণে মোবাইল ডিভাইসগুলোয় এখন উচ্চ মানের ও আকর্ষণীয় গেম খেলা যাচ্ছে। পাশাপাশি ফোরজি ও ফাইভজি নেটওয়ার্কের মতো মোবাইল ইন্টারনেটের অগ্রগতির ফলে অনলাইন মাল্টিপ্লেয়ার গেমিং আরো সহজ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোবাইল গেমগুলো প্রায়ই ফ্রি হয়, যা বাড়তি ঝামেলা ছাড়া সহজে ডাউনলোড ও ইনস্টল করা সম্ভব। এছাড়া ক্লাউড গেমিংয়ের উত্থান এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) প্রযুক্তির সমন্বয় মোবাইল গেমিংয়ের ব্যবহারকারী বাড়াতে সাহায্য করছে।









