অনলাইন গেমিংয়ের ওপর ২৮ শতাংশ করারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত শিল্পটির জন্য অস্তিত্বগত হুমকি তৈরি করেছে। এমনকি এর বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংসের দিকেও নিয়ে যেতে পারে। গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (জিএসটি) কাউন্সিলের এ সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় অনলাইন গেমিং প্লাটফর্ম এবং ক্যাসিনোর শেয়ারমূল্যও কমেছে। খবর বিবিসি।
ভারতের ৯০০-এর অধিক গেমিং স্টার্টআপ তাদের প্রতিটি গেম বাবদ যে পরিমাণ অর্থ নেয় তার বিপরীতে খুব সামান্য কর দিয়ে আসছিল। নতুন ব্যবস্থার অধীনে, গেমিং লেনদেনের পূর্ণ অভিহিত মূল্য (ফেসভ্যালু) হিসাবে গেমারদের কাছ থেকে সংগৃহীত সম্পূর্ণ অর্থ এখন করের আওতায় আসবে। এর অর্থ, গেমিং স্টার্টআপগুলো এখন খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত চার্জসহ লেনদেনের সম্পূর্ণ মূল্যের ওপর করারোপ করা হবে। সব মিলিয়ে গেমিং স্টার্টআপগুলোর ওপর করের বোঝা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আইন কার্যকর হলে গেমারদের বিপরীতে মোট কর সংগ্রহ ৫০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। যার মধ্যে জিএসটি, প্লাটফর্ম কমিশন এবং আয়করসহ বেশ কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
জিএসটি হচ্ছে মূল্যসংযোজন কর, যা ভারতের পণ্য ও পরিষেবার সরবরাহের ওপর আরোপিত হয়। গেমিং লেনদেনের ওপর ২৮ শতাংশ জিএসটি আরোপের সঙ্গে লেনদেনের মূল্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ করের আওতায় আসবে। আইনি সংস্থা খৈতান অ্যান্ড কোম্পানির অংশীদার সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বিবিসিকে বলেন, ‘এ পদক্ষেপটি গেমারদের নিরুৎসাহিত করবে। তাছাড়া এটি বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গেও অসংগতিপূর্ণ। এটি গেমিং শিল্পকে সম্পূর্ণ অন্ধ করে দেবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা নাড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি তহবিল সংকট তৈরি করবে।’
ভারতে অনলাইন গেমিং শিল্প গত পাঁচ বছরে ২৮-৩০ শতাংশ বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারের সঙ্গে বড় ধরনের বিকাশ ঘটিয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন ও মোবাইল ডাটা প্যাকেজের সাহায্যে সহজ অ্যাকসেসের দ্বারা চালিত শিল্পটি টাইগার গ্লোবালের মতো প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য উৎস থেকে ২৫০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ আনতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের গেমিং স্টার্টআপগুলোয় বর্তমানে কাজ করছেন ৫০ হাজার কর্মী। ২০২৮ সালের মধ্যে আরো সাড়ে তিন লাখ প্রত্যক্ষ এবং ১০ লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির প্রত্যাশা করছে শিল্পটি। অল ইন্ডিয়া গেমিং ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী রোল্যান্ড ল্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। সরকার যখন এ শিল্পকে সমর্থন করছে, তখন আইনগতভাবে এমন একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল অর্থনীতির স্বপ্নের জন্য যা বিপর্যয়কর।’
বিভিন্ন সভায় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গেমিং শিল্পকে নতুন সম্ভাবনা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি নতুন করারোপের ঘোষণা আসে। ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের নিয়ে গঠিত জিএসটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একটি শিল্পকে কেউ হত্যা করতে চায় না। কিন্তু এটিকে এতটা উৎসাহিত করারও কিছু নেই।
অন্যদিকে অনলাইন গেমিংকে নিষিদ্ধ করার জন্য কাজ করছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্ধার্থ আইয়ার। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘২৮ শতাংশ করারোপ সম্পূর্ণ সঠিক সিদ্ধান্ত।’ গেমিংকে তিনি ফটকা কর্মকাণ্ড বলে মনে করেন।










