দুই-তৃতীয়াংশ ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা (যেমন ব্লগার, ইনফ্লুয়েন্সার ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যক্তিত্ব) অনলাইনে তথ্য শেয়ার করার আগে সত্যতা যাচাই করেন না। সম্প্রতি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সত্য নিরীক্ষার এ অভাব একটি উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারদের সঠিক তথ্য যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে তারা।

ইউনেস্কোর জরিপের তথ্যানুযায়ী, আজকের বিশ্বে যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে, সেখানে উদ্বেগজনক দুই-তৃতীয়াংশ ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা লাখ লাখ মানুষের সঙ্গে যাচাই না করা তথ্য শেয়ার করছেন। ইনফ্লুয়েন্সাররা এখন বিশ্বব্যাপী মানুষের জন্য সংবাদ ও সাংস্কৃতিক তথ্যের প্রধান উৎস। কিন্তু এদের অর্ধেকেরও বেশি তথ্য শেয়ারের আগে প্রাথমিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন না।

ইউনেস্কোর ডিরেক্টর-জেনারেল অড্রে আজউলে বলেন, ‘ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতারা তথ্য জগতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তারা সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতির খবর বড় পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ভুল তথ্য ও অনলাইনে বিদ্বেষপূর্ণ মন্ত্যবের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন।’

৪৫টি দেশের ৫০০ ইনফ্লুয়েন্সার নিয়ে ‘বিহাইন্ড দ্য স্ত্রিনস’ জরিপটি পরিচালনা করেছে ইউনেস্কো। এ গবেষণায় সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বোলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটি।

ইউনেস্কো বলছে, ৬৩ শতাংশ ইনফ্লুয়েন্সার কঠোর তথ্য যাচাইয়ের নিয়ম অনুসরণ করেন না। এছাড়া ৪২ শতাংশ ক্রিয়েটর তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করতে সামাজিক মিডিয়ার ‘লাইক’ ও ‘শেয়ার’-এর মতো মিডিয়া ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করেন। আবার ২১ শতাংশ উত্তরদাতা কেবল বন্ধুদের বিশ্বাস করে বলেই এমন কনটেন্ট শেয়ার করেন। প্রথাগত সংবাদমাধ্যম তথ্য যাচাইয়ের জন্য কম ব্যবহার হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করেন ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ ক্রিয়েটর।

আবার এখানে ডিজিটাল অধিকার সম্পর্কিত জটিলতাও রয়েছে। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রিয়েটর এ-সংক্রান্ত নিয়মকানুন ও আন্তর্জাতিক মান সম্পর্কে জানেন না। ফলে তারা আইনি ঝুঁকি ও অনলাইন হেনস্তার শিকার হন। এক-তৃতীয়াংশ হেট স্পিচের সম্মুখীন হলেও এদের মধ্যে কেবল ২০ দশমিক ৪ শতাংশ জানেন, কীভাবে এসব ঘটনা ঠিকভাবে প্লাটফর্মে রিপোর্ট করতে হয়।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইউনেস্কো ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘নাইট সেন্টার ফর জার্নালিজম’ প্রথমবারের মতো ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে।