চাঁদ
বিবি কিংবা
চাঁদ সুলতানার
কীর্তির বর্ণনায়
কবি কাজী
নজরুল ইসলাম
শ্রেষ্ঠ কিছু
উপমা ঢেলে
দিয়েছেন:
চাঁদের
কন্যা চাঁদ
সুলতানা, চাঁদের
চেয়েও জ্যোতি
তুমি
দেখাইলে মহিমান্বিতা
নারী কি
যে শক্তিমতি।।
শেখালে
কাঁকন চুড়ি
পরিয়াও নারী
ধরিতে
পারে যে
উদ্ধত তরবারি।।
আবার
বলছেন:
তুমি
গোলকুন্ডার কোহিনূর
হীরা সম
আজো ইতিহাসে
জ্বলিতেছ নিরুপম
রণরঙ্গিনী
ফিরে এস
তুমি
ফিরিয়া আসিলে
ফিরিয়া আসিবে
লক্ষ্মী ও
সরস্বতী।।
দক্ষিণাত্যের
রানী চাঁদা
বিবির প্রশংসায়
অনেক কাব্য
ও কাহিনী
রচিত হয়েছে
১৫৫০ থেকে
১৫৯৯-এ।
৪৯ বছরের
ঘটনাবহুল জীবন
তার। আহমদনগরের
রাজকন্যা হিসেবে
আয়েশের জীবন
কাটিয়ে দিতে
পারতেন, কিন্তু
তা পারেননি।
শাসনদণ্ড ও
অস্ত্র দুই-ই
হাতে নিয়েছেন
এবং নির্মম
মৃত্যুর শিকার
হয়েছেন।
তার বাবা
সুলতান প্রথম
হোসাইন নিজাম
শাহ, মা
সুলতানা শাহজাদি
হুমায়ুন। তাদের
চার সন্তানের
প্রথম দুজন—মুর্তজা
প্রথম নিজাম
শাহ এবং
বুরহান দ্বিতীয়
নিজাম শাহ
আহমদনগরের সুলতান
ছিলেন। তার
স্বামী বিজাপুরের
সুলতান প্রথম
আলী আদিল
শাহ। আলী
আদিল শাহের
বাবা ইব্রাহিম
আদিলের সময়
থেকে বিজাপুর
কার্যত তিন
ভাগে বিভক্ত
ছিল সুন্নি,
হাফসি ও
দক্ষিণী (দাক্ষিণাত্যের
অধিবাসী)।
তার দ্বিতীয়
ভাই বুরহান
নিজাম শাহর
স্বল্পকালীন দুর্বল
শাসনের পর
পর মৃত্যু
হলে তার
নাবালক পুত্রকে
সিংহাসনে বসানো
হয় এবং
কার্যত চাঁদ
বিবি রাজ্য
শাসন করতে
থাকেন।
মধ্যযুগের
শেষ ভাগে
দাক্ষিণাত্য পাঁচটি
মুসলিম সালতানাতে
বিভাক্ত ছিল:
আহমদনগরে, বেরার,
বিদার, বিজাপুর
এবং গোলকুন্ডা।
প্রত্যেকটিই পঞ্চদশ
শতকের শেষ
ভাগ থেকে
শুরু করে
ষোড়শ শতকের
প্রথম ভাগের
মধ্যেই সম্পূর্ণ
স্বাধীন সত্ত্বা
নিয়ে আত্মপ্রকাশ
করে। আহমদনগরে
স্বাধীন হয়
১৪৯০ সালে,
তার পরপরই
একই বছর
বিজাপুর এবং
বেরার স্বাধীনতা
লাভ করে।
১৫১৮ সালে
গোলকুন্ডা এবং
১৫২৮ সালে
বিদার স্বাধীনতা
ঘোষণা করে।
এমনকি প্রতাপশালী
দিল্লির সম্রাট
আকবরের সময়ও
এই পাঁচটি
সালতানাত দিল্লির
বশ্যতা স্বীকার
করেনি।
চাঁদ
বিবি একদিকে
ছিলের আহমদনগরের
সুলতানের কন্যা
এবং অন্যদিকে
বিজাপুর সুলতানের
স্ত্রী। কার্যত
তিনিই হয়ে
ওঠেন দক্ষিণাত্যের
রাজশক্তির প্রতীক।
শিক্ষা
ও সংস্কৃতিতেও
তিনি তার
সমকালের বিশিষ্ট
জনদের ডিঙিয়ে
যান। তিনি
আরবি, ফার্সি,
তুর্কি, মারাঠি
ও কন্নড়
ভাষায় পারদর্শিতা
দেখিয়েছেন। তিনি
ছিলেন দক্ষ
সেতারবাদক। তিনি
বড় তুলিতে
ফুল আঁকতে
পছন্দ করতেন।
চাঁদ বিবি
নিজেই ভারতীয়
শিল্পীদের আঁকার
একটি সাধারণ
বিষয় হয়ে
ওঠেন।
সংস্কৃতির
পাশাপাশি তার
দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনৈতিক
ও কূটনৈতিক
বিশ্লেষণ এবং
প্রশাসনিক দক্ষতাই
তাকে প্রথমে
বিজাপুর ও
পরে আহমদপুর
সালতানাত অজস্র
প্রতিকূলতার মধ্যেও
সাফল্যের সাথে
শাসন করার
সুযোগ সৃষ্টি
করেছে। বিজাপুরের
সুলতানের সাথে
তার বিয়ের
ব্যাপরটিও ছিল
মূলত বিজয়নগরে
রাজ্যের আক্রমণ
ও নাশকতা
রোধে আহমদনগরের
সাথে একটি
সামরিক জোট
সৃষ্টি করা।
নয় বছর
বয়সী ইব্রাহিম
আদিল শাহর
সাবালকত্ব অর্জন
পর্যন্ত চাঁদ
বিবি অন্তত
তিনটি অভ্যুত্থান
ঠেকিয়ে বিজাপুর
সালতানাতকে সংহত
রেখেছেন। কিন্তু
অভিজাতদের ষড়যন্ত্রের
বিরুদ্ধে তিনি
নিজও একসময়
কৌশলগত চক্রান্তে
জড়িয়ে পড়েন,
তার প্রণোদনায়
কয়েটি হত্যাকাণ্ডও
ঘটে। ক্ষমতার
জন্য হত্যাকাণ্ড,
বিশেষ করে
সফল মানুষের
বেলায় অপরাধ
হিসেবে বিবেচিত
হয়নি। তিনিও
ষড়যন্ত্রের শিকার
হন। ১০
বছর শাসনের
পর (১৫৮০-১৫৯০)
ক্ষমতা হারান।
দুর্গে বন্দি
জীবনযাপন করেন।
এরপর তিনি
বিজাপুর ছেড়ে
আহমদনগরে চলে
আসেন। ১৫৯৬
থেকে ১৫৯৯
পর্যন্ত তিনি
এখানেও রিজেন্ট
হয়ে রাজক্ষমতা
প্রয়োগ করেন।
তার অন্যতম
সাফল্য ১৫৯৫
সালে সফলতার
সাথে মুঘল
আক্রমণ প্রতিহত
করা। আহমেদনগর
দুর্গ রক্ষায়
যুদ্ধের কৃতিত্ব
তারই। এই
অভাবনীয় সাফল্য
তাকে রাজনীতির
সাথে রক্ষণের
নায়িকাও করে
তোলে।
আহমদনগর
দুর্গ দ্বিতীয়বার
আক্রান্ত হলে
নিজস্ব সেনাধ্যক্ষসহ
প্রতিবেশী সালতানাতগুলোও
বিশ্বাসঘাতকতা করে।
তবু তিনি
চার মাসের
অধিক সময়
দুর্গ ধরে
রেখেছেন। প্রথম
আক্রমণের সময়
বেরার সালতানাতের
অংশ মুঘলদের
হাতে তুলে
দিয়ে তিনি
নিজ রাজ্য
রক্ষা করেছেন।
দ্বিতীয়বার অবরুদ্ধ
হয়ে তিনি
একই সাথে
মুক্তির পথ
খুঁজছিলেন। কিন্তু
এখানেও তার
নিজস্ব বিশ্বস্তজন
বিশ্বাসঘাতকতা করে।
১৫৯৯ সালে
তিনি দুর্গের
ভেতর নিহত
হন। তখনকার
সময়ে কোনো
রাষ্ট্রের ক্ষমতা
অধিকারী তার
মতো সাহসী
ছিলেন না।
চাঁদা বিবি
চাঁদ সুলতানা
নামেই বহুল
পরিচিত। নজরুল
তাকে নিয়ে
লিখেছেন:
তুমি
দেখালে নারীর
শক্তি স্বরূপ-
চিন্ময়ী কল্যাণী
ভারত
জয়ীর দর্প
নাশিয়া মুছালে
নারীর গ্লানি।
চাঁদ বিবি
যখন ক্ষমতায়
নারীকে সহস্র
প্রতিকূলতা ঠেলে
ক্ষমতাসীন হতে
হয় এবং
সে ক্ষমতা
ধরে রাখতেও
ঘরে বাইরে
সংগ্রাম অব্যাহত
রাখতে হয়।
চাঁদ বিবিকেও
প্রবল প্রতিকূলতা
মোকাবেলা করতে
হয়েছে। ঘাতকের
হাতে তার
মৃত্যুও ঘটে।
তার শাসনকালীন
সময় ১৫৮০
থেকে ১৫৯০
সালে দ্বিতীয়
দফায় ১৫৯৬
থেকে ১৫৯৯।
এ সময়
যেসব নারী
ভারতের বাইরে
ক্ষমতাশীল ছিলেন
তাদের কয়েকজনের
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
উপস্থাপন করা
হচ্ছে।
n ইথিউপিয়ার
সম্রাজ্ঞী মরিয়ম
সেনা সাম্রাজ্যের
নৈরাজ্য ও
অস্থিতিশীল অবস্থায়
যথেষ্ট রাজনৈতিক
ক্ষমতা খাটাতেন
(১৫৭৯-১৫৯৭)।
n ডেনমার্কের
অন্যতম শেরিফ
বিয়র্স কাস-এর
স্ত্রী ব্রিজিত
রোজেনক্রানজ যথেষ্ট
ক্ষমতা খাটাতেন।
কিন্তু স্বামীর
চাচাত ভাই
গিয়র্ড কাস-এর
সাথে সম্পর্ক
গড়ে তোলায়
রাজা চতুর্থ
ক্রিশ্চিয়ানের নির্দেশে
তাকে ফাঁসিতে
ঝোলানো এবং
গিয়র্ডকে ১৭
বছরের নির্বাসন
খাটিয়ে দেশে
এনে ফাঁসিতে
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
করা হয়।
(১৫৮০-১৫৯৭)
n প্রিন্সেস
অ্যাবেস ফ্রান্সের
একাংশের পূর্ণ
ক্ষমতাশালী সম্রাজ্ঞী
হয়ে উঠেছিলেন।
পোপ নারী
শাসককে স্বীকৃতি
না দিলেও
কার্যত তিনি
শাসনকার্য চালিয়েছেন
(১৫৮০-১৬০২)।
n তিন সন্তানের
জননী মার্গারিতা
কোর্ডে-রিয়েল
স্বামীর সাথে
পর্তুগালের টেরেসিয়া
ঠিক যৌথভাবে
শাসন করেন
(১৫৮১-১৬০২)।
n ম্যাক্সিমিলিয়ান
ফন পাপেনহেইন
ভাইয়ের মৃত্যুর
পর জার্মানির
স্টুলিনজেস্কের সার্বভৌম
শাসক হিসেবে
আত্মপ্রকাশ করেন
(১৫৮২)।
n থাইল্যান্ডের
রাজকুমারী রাজা
ইজায়ু নাম
ধারণ করে
কুড়ি বছর
ধরে দুর্বল
শাসনের পর
নিহত বড়
ভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত
হলেন এবং
অল্প সময়ে
নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা
করলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে
থাইল্যান্ডে অনেক
এগিয়ে যায়।
মালয়ে ঘাঁটি
তৈরি হয়।
চীনাদের সাথে
ব্যবসা দেশের
আর্থিক সমৃদ্ধি
আনে। রাজা
ইজায় বনায়ন
কর্মসূচি নিয়ে
দেশকে সবুজাভ
করে ফেলেন।
বিদেশীরা তাকে
‘গ্রিন
কুইন’ আখ্যা
দেন। (১৫৮৪-১৬১৬)
n সুইডেনের গোটস্যান্ড
রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত
শাসক ল্যাডি
হিলেবর্গ। স্বামীর
মৃত্যুর পর
তার উত্তরাধিকারীর
ফয়সালা না
হওয়া পর্যন্ত
তিনি সফলতার
সাথে শাসনকাজ
চালিয়ে যান।
(১৫৮৪)
n রাশিয়ার জারিমা
ইরিনা গডুনোভা
জার ফিওদার
আইভানোভিচের বিধবা
স্ত্রী তার
মৃত্যুর সাথে
সিংহাসনে আসীন
হন। কিন্তু
তিনি সন্ন্যাসিনী
হওয়ার সিদ্ধান্ত
নেন, মাত্র
১০ দিন
পর তার
ভাই বরিস
গুভোনোভের কাছে
ক্ষমতা হস্তান্তর
করেন। (১৫৯৮)
n বেলজিয়ামের প্রিন্সেস
ম্যাভেলিন তার
পূর্বসূরী দ্বিতীয়
ম্যারির পদত্যাগের
পর স্বাভাবিক
নিয়মে ক্ষমতাসীন
হন। (১৫৯৫)
n শ্রীলংকার ক্যান্ডিতে
রাজা বান্দারার
যখন মৃত্যু
হয় তার
কন্যা কুসুমাসন
দেবীর বয়স
মাত্র তিন
বছর। তিনি
পর্তুগালে বড়
হন। এক
সময় পর্তুগিজরা
তখন ক্যান্ডি
রাজত্ব জবর
দখল করে
কুসুমাসন দেবীকে
সিংহাসনে বসিয়ে
একটি পুতুল
সরকার প্রতিষ্ঠা
করে।
n মাওয়ান লুন্ডজি
রমিজ কঙ্গোর
ক্ষমতাসীন রানী
ছিলেন। তার
স্বামী ইয়ান
লুন্ডজি রাভিজ
তার কাছ
থেকে ক্ষমতা
গ্রহণ করে
এবং দুজন
মিলে ১৫৯০
থেকে ১৬৬০
পর্যন্ত কঙ্গো
শাসন করেন।
n ব্রাজিলের এসপিরিতু
সাপ্তোর গভর্নর
ভাস্কো ফার্নান্দেজ
মৃত্যুবরণ করলে
পর্তুগালের রাজা
(ব্রাজিল তখন
পর্তুগালের উপনেবিশ)
তার স্ত্রী
লুইসা গ্রিনালদাকে
গভর্নর নিয়োগ
করেন। কিন্তু
কয়েক বছর
শাসন করার
পর তিনি
আগ্রহ হারিয়ে
ফেলেন। (১৫৮৯-১৫৯৩)
অনেক
উদাহরণ তুলে
ধরা হলো।
তাদের কাউকেই
ক্ষমতা ধরে
রাখার জন্য
যুুদ্ধ করতে
রণাঙ্গণে নামতে
হয়নি, জীবনও
দিতে হয়নি।
চাঁদ সুলতানা
উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম।
কবিতার নাম
চাঁদ বিবি:
কবি বিজাপুরের সুলতান
চাঁদ বিবির
চেয়ে ১৯
বছরের ছোট
ইব্রাহিম আদিল
শাহ। তিনি
আদিল শাহ
রাজবংশে ১৫৭০
সালে জন্মগ্রহণ
করেন। তিনি
ছিলেন বিজাপুরের
সুলতান। তার
সময়ে বিজাপুর
রাজ্যে বৈশ্বিক
সংস্কৃতির সহাবস্থান
ও বিকাশ
ঘটে। তিনি
সুলতান হলেও
শাসন পরিচালনা
করেন চাঁদ
বিবি। তিনি
তানপুড়া বাজিয়ে
গান গাইতেন।
তিনি গীতিকবিও
ছিলেন। তিনি
প্রকাশ্যেই জানিয়ে
দেন তার
কাজ কেবল
বিদ্যার্জন করা,
সংগীত সাধনা
করা এবং
কর্ণাটকের গুলবার্গের
পীর হজরত
বান্দা নওয়াজের
খেদমত করা।
তিনি বহু
ভাষা জানতেন
এবং চর্চা
করতেন। চাঁদ
সুলতানকে নিয়ে
তিনি ফার্সি
ভাষায় কবিতা
লেখেন। এটি
ফার্সি থেকে
ইংরেজিতে অনুবাদ
করেন এইচ
কে সিলকম।
কবিতাটি বাংলায়
ভাষান্তরিত হলো:
যারা
আশীর্বাদ পুষ্ঠ
তাদের বাগানে,
যেখানে সুখী
হুরিদের বাস
পুরুষের
প্রাঙ্গণে পৃথিবীর
শ্রেষ্ঠতম, সুন্দরে
দেখা যেখানে
মেলে
অথবা
বিজাপুরের প্রিয়তম
রানী মহিয়সী
চাঁদ সুলতানা
যেখানে।
যদিও
রণাঙ্গনের তাণ্ডবে
তার সাহসের
ঘাটতি ঘটেনি
কখনো
শান্তির
কোমল শিল্পকৌশল
তিনি শান্ত
ও স্নিগ্ধ
নারী
যাদের
দুর্বল চিত্ত
কোমল হূদয়,
যেমননি হোক
তার ধরন
বিজাপুরের
প্রিয়তম রানী,
মহিয়সী চাঁদ
সুলতানা
যেমন
চাম্পক-ফুলের
সুঘ্রাণ-সুমিষ্ট
ফুল বয়ে
যায়
সরলবর্গীয়
বৃক্ষ যেমন
তার সব
গাছকে ছাড়িয়ে
যায়
কী অমায়িক
আমন্ত্রণ, তার
সৌন্দর্যের সমকক্ষ
কেউ নেই
মহতী
রানীর প্রশংসার
জন্য মানুষের
কণ্ঠই যথেষ্ট
নয়
বিচিত্র
সংকটে পড়ে
থাকা জমিনে
তিনি আছেন
এতিমের পাহাড়ায়
আমি দ্বিতীয়
ইব্রাহিম, এই
ক্ষীণকায় পঙিক্তগুলো
লিখি
রাজন্যা
ও সম্ভ্রান্ত
নারী চাঁদকে
সম্মান জানাই।
এমএ মোমেন: সাবেক সরকারি কর্মকর্তা





