তিনি ছিলেন ভারতের দাক্ষিণাত্যের রানী। ১৫৮০-এর সময়কালে তার সাহসীকতার কাহিনী দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। অর্জন করেন অসামান্য খ্যাতি। চাঁদ বিবি ছিলেন বিজাপুরের সুলতান প্রথম আলী আদিল শাহর সহধর্মিণী। পরাক্রমশালী মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তিনি। নারী হয়ে প্রবল নির্ভীকতার জন্য ইতিহাসের পাতায় যোদ্ধা রানী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

চাঁদ বিবির স্বামী বিজাপুরের সুলতান আলী আদিল শাহ বিত্ত বৈভবের মধ্যে ভীষণ সমৃদ্ধ ও ঘটনাবহুল এক জীবন কাটিয়েছেন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম অথচ ছিলেন বিজয়নগরের হিন্দু শাসকের দত্তক পুত্র। যদিও তার এ পরিচয় ১৫৬৫ সালে দুই দলের সৈন্যদের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি টানতে সমর্থ হয়নি। এছাড়া ছিলেন দারুণ শিল্পানুরাগী। বিজাপুরে তার শাসনকালেই পারসিক সচিত্র পাণ্ডুলিপি নুজুম-আল-উলুম রচিত হয়। যেখানে গাভী সদৃশ স্বর্গদূত থেকে নিয়ে হালুয়া, শরবতের মতো বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে নিপুণ পাণ্ডিত্যের প্রকাশ ঘটানো হয়েছে। বইটি তার এতটাই প্রিয় ছিল যে সব সময় কাছে কাছে রাখতেন। সঙ্গে বয়ে বেড়াতেন। এমনকি এক লড়াইয়ের ময়দানে ৮০ হাজার অশ্বারোহী সৈন্যদলের নেতৃত্ব দান কালেও পুস্তকটিকে তিনি কখনো কাছ ছাড়া করেননি। তার নামের পতাকা বহনকারী শত শত রণতরী সমুদ্রে ভেসেছে। তাকে নিয়ে প্রশংসা স্তূতি রচনা করেছেন দূর-দূরান্তের কবিকুল। ভোজন-আহারের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন বেশ ব্যতিক্রম। শোনা যায় সকালের নাসতাতে কমপক্ষে ১২টি ডিম না থাকলে নাকি তার ঠিকঠাক উদরপূর্তি হতো না।

এই আলী আদিল শাহ ১৫৮০ সালে মৃত্যুবরণ করেন, যদ্যপি বর্ণাঢ্য জীবনের মতোই তার মৃত্যুও ছিল ঘটনায় মোড়া। বলা হয় দুজন হিজরার হাতে খুন হন তিনি, যারা দীর্ঘদিন ধরে তাকে মনোরঞ্জন জুগিয়ে আসছিল। কথিত আছে, কোনো এক সন্ধ্যায় সুলতান তাদের কাছে তার বিকৃত মনোবাসনা পূরণের প্রস্তাব রাখলে তারা ছুরি চালিয়ে দেয় আলীর বুকে। এভাবেই জীবনাবসান ঘটে তার। কিন্তু যে মানুষটি তার শিল্পবোধ দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন, তিনি কীভাবে তার বিকৃত বাসনার কাছে এতটা পরাজিত হলেন! তাই তার মৃত্যুর এহেন ব্যাখ্যায় কিছুটা ভ্রু কুঁচকে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। মূলত এটি ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু মৃত্যুর পর তার চরিত্রের ওপরে কালিমা লেপনের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অপব্যাখ্যা ছড়ানো হয়েছিল। কেননা রাজনৈতিক এ হত্যাকাণ্ডের মোড় ঘোরাতে খারাপ চরিত্রের মানুষ হিসেবে তাকে আখ্যা দেয়া খানিকটা সহজ ছিল তখন। আদিলের হত্যাকে ঘিরে এক ধরনের নেতিবাচক কাহিনী ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে মূলত বিজাপুরের শান্ত পরিবেশকে আচমকা অস্থির করে তোলা হয়েছিল সে সময়।

তাছাড়া আলী আদিল শাহর কোনো ছেলে সন্তান ছিল না, তাই তার স্থলে সিংহাসনে বসানো হয় তার-ই নয় বছরের ভাগ্নে দ্বিতীয় ইব্রাহিম আদিল শাহকে। পরবর্তী সময় বহু বছর ধরে উচ্চপদস্থদের মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে কেবল। যাদের মধ্যে থেকে দুজনকে প্রত্যাশিত ভয়াবহ পরিণতির শিকারও হতে হয়। যোগ্য উত্তরাধিকারী প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর তার হাত ধরে বিজাপুরের স্থিতিশীলতা ফিরতে তাই বহু সময় গুনতে হয়। তবে বিশৃঙ্খলার ওই দিনগুলোয় সাহসিকতা ও যুদ্ধের ময়দানে নির্ভীকতার জন্য একজন নারী তখন তুমুল খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তিনি শুধু দাক্ষিণাত্যেই নয়, দূর আগ্রার মুঘলদেরও ঘুম হারাম করেছিলেন।

আহমেদনগরের সুলতান প্রথম হুসাইন নিজাম শাহ তার কন্যা চাঁদ বিবিকে আদিলের হাতে তুলে দেন ১৫৬৫ সালের বিজয়নগর যুদ্ধের এক সন্ধ্যায়। আলী আদিল শাহের সঙ্গে বিবাহ সূত্রে আবদ্ধ হন চাঁদ বিবি। কিশোরী বয়সেই তিনি রাজনৈতিক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন।

পারিবারিক পরিমণ্ডলে বাবা ও মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত অনুপ্রেরণা চাঁদ বিবির ব্যক্তিত্ব গঠনে বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। নিজের ব্যক্তিত্ব আর মর্যাদাকে কখনই ক্ষুণ্ন হতে দেননি তিনি। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সঙ্গে আলীর ঘনিষ্ঠতা বিষয়ক গুজব স্বামীর সঙ্গে তার সু-সম্পর্কে বিন্দুমাত্র চিড় ধরাতে পারেনি। তিনি শুধু দরবারে আলী আদিল শাহকে সঙ্গ-ই দেননি, দরবারের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়েও তাকে সহযোগিতা করেছেন। আলী যেমন শিল্পের অনুরাগী ছিলেন, চাঁদ বিবিও তেমন সংস্কৃতিমনা ছিলেন। চমত্কার সেতার বাজাতে পারতেন। উৎসাহ ছিল বহিরঙ্গন ক্রীড়া-কৌশলে। তাই বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে আলী ও চাঁদ বিবি ছিলেন সমপর্যায়ের। তাছাড়া চাঁদ বিবি পাঁচটি ভাষা—আরবি, ফার্সি, তুর্কি, কন্নড় ও মারাঠি জানতেন।

আলী আদিল শাহের হত্যাকাণ্ডের পর লাইমলাইটে চলে এসেছিলেন চাঁদ বিবি। শুরুতে তিনি বিজাপুরে থেকেই স্বামীর উত্তরাধিকার রক্ষার্থে বিভিন্ন কৌশল খাটিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রথমে ক্ষমতা দখলকারী এক অভিজাত রাজপ্রতিনিধিকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত করেন, কিন্তু পরে চাঁদ বিবিকেও বন্দি করা হয়। তাতে তিনি দমে যাননি। কারাগারে বন্দি থেকেও চৌকশ চাঁদ বিবি আরেকটি সেনাদলের সঙ্গে যোগসাজশে লিপ্ত হন এবং সে দলের নেতা কারাগার থেকে তাকে উদ্ধারের অভিপ্রায়ে যাত্রা করে।

বলতে গেলে এতকিছুর পরও বিজাপুরে চাঁদ বিবির কোনো ভবিষ্যৎ ছিল না। ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দ্বিতীয় ইব্রাহিম আদিল শাহ তার নিজের সন্তান নন। তাছাড়া আলী আদিল শাহর মৃত্যুর পর তিনি এখানে অনেকটা বহিরাগত হিসেবেই বিবেচিত হতে শুরু করেন। তার নিজস্ব পৈত্রিক রাজ্য আহমেদনগরের সঙ্গে বিজাপুরের রেষারেষি শুরু হওয়ায় চাঁদ বিবির আনুগত্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে শুরু করে। তাছাড়া একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক জোটের অংশ হিসেবেই আহমেদনগরের এ রাজকুমারীকে বিজাপুরের সুলতানের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছিল, তাই সেনাদল পরিবেষ্টিত করে চাঁদ বিবিকে আবার তার মাতৃভূমিতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এখানেই তিনি তার দিন কাটিয়েছেন যতদিন পর্যন্ত না দাক্ষিণাত্যের ট্র্যাজিক কুইন হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছিলেন ততদিন পর্যন্ত।

১৫৮০-এর দশকের আহমেদনগর ছিল রীতিমতো এক রাজনৈতিক দুঃস্বপ্নের নাম। চাঁদ বিবির ভাই নিজের মাকে বন্দি করেন, পরবর্তী সময় পুত্রের শয়ন কক্ষে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন। সভাসদরা তাকে পাগল বলে আখ্যায়িত করত। ভ্রকুটিও করত কোনো একজন ভৃত্যের প্রতি তার অনুরাগের জন্য। এদিকে চাঁদ বিবির তৃতীয় সহোদর বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং মুঘল দরবারে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে তার সহোদরটি নিজের পরিকল্পনায় সফল হন ও ১৫৯১ সালে আহমেদনগরের সুলতান হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। যদিও নির্বাসনের দিনগুলোতে তিনি সম্রাট আকবরের অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়েছিলেন এবং দাক্ষিণাত্যের দিকে আগ্রার মনোযোগ আর্কষিত করেছিলেন। তবে ক্ষমতায় আরোহণের পর তিনি সম্রাটের আনুগত্য অস্বীকার করেন ও মুঘল সামাজ্যের অধীনে থাকতে অস্বীকৃতি জানান। মুঘলরা মনে করতেন, চাঁদ বিবির ভাইয়ের উচিত ছিল মুঘল সম্রাটের প্রতি তার কৃতজ্ঞতাবোধ ও ভক্তি বাড়ানো। কিন্তু সাফল্য তাকে এমনভাবে অন্ধ করে দিয়েছিল যে তিনি এসব বিষয় উপলব্ধি করতে অক্ষম ছিলেন। তবে পরে চাঁদ বিবিকে এর মূল্য চুকাতে হয়েছে।

যেমনটা ঘটেছিল মুঘলরা ১৫৯৫ সালে আহমেদনগর আক্রমণ করে। ততদিনে মুঘল আনুগত্য অস্বীকারকারী চাঁদ বিবির ওই সহোদরের মৃত্যু হয়েছে। দরবার অশান্ত। চাঁদ বিবিকে আবারো মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হয়েছে। একদিকে দরবারের সভাসদদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা, অন্যদিকে নগরীকে সুরক্ষিত রাখার সব বন্দোবস্ত সম্পন্ন করার কাজটিও করতে হয়েছে এ নারীকে। আক্রমণের এক পর্যায়ে মুঘলরা যখন একের পর এক গোলা ছুড়ে আহমেদনগরের সুরক্ষা দুর্গ ভেঙে ফেলার আয়োজনে ব্যস্ত, চাঁদ বিবি তখন ঘোড়ার পিঠে তলোয়ার হাতে সেনাদের সঙ্গে নিয়ে মুঘলদের প্রতিহত করতে এগিয়ে চলেছেন। যুদ্ধের ময়দানে তার নেতৃত্বে তুমুল লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারেনি মুঘল সেনারা। চাঁদ বিবির কাছে পরাস্ত হয়ে বিতাড়িত হতে হয় তাদের। তার সাহসীকতাপূর্ণ লড়াইয়ের কারণে যুদ্ধ পরবর্তী সমঝোতার সময় চাঁদ বিবিকে ‘চাঁদ সুলতান’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।

যুদ্ধের ময়দানে এমন পারমঙ্গতা দেখানোর পরও খোদ চাঁদ বিবির সেনাপতিদের মধ্যে অনেকেই নিজেকে একজন নারী নেতৃত্বের কাছে সমার্পিত করতে রাজি ছিলেন না। ‘তুমি যদি নারী নেতৃত্বের কাছে নতি স্বীকার করো তবে তুমি নপুংসক, হিজড়া।’ এভাবেই পৌরুষের দোহাই দিয়ে চাঁদ বিবির শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করা হয়। তাছাড়া নারী নেতৃত্বের অধীনে থাকাকে সতর্ক করা হয়েছিল বিভিন্নভাবে। বলে বেড়ানো হতো, ‘আপনারা একটু ভেবে দেখুন, দাক্ষিণাত্যের কাক-চিলেরা কীভাবে তৈমুরের বংশধরদের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম হবে?’

শেষ পর্যন্ত তিনি পারেনি। মুঘলদের দাক্ষিণাত্য থেকে বিতাড়িত করার বহু চেষ্টা সত্ত্বেও চাঁদ বিবি সফল হননি। ১৫৯৯ সাল। আবারো শত্রুরা আহমেদনগরে ফিরে আসে। এ সময় চাঁদ বিবির নিজ দুর্গের মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দুর্গের মধ্যে ও দুর্গের বাইরে লড়াই করতে করতে এক সময় তিনি শর্তসাপেক্ষে মুঘলদের সঙ্গে মধ্যস্থতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হামিদ খান নামের তারই এক সভাসদ বা সেনাপতি মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেন যে চাঁদ বিবি মুঘলদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। মূলত সমঝোতার সিদ্ধান্তের কারণে হত্যা করা হয় তাকে। বাইরের আক্রমণকারীদের দ্বারা নয়, দরবারের মধ্যে তার সৈন্যবাহিনীর একদল বিপথগামী সৈনিক হত্যা করে তাকে। কী নির্মম! মুঘল শক্ররা নয়, নিজের সেনারাই চাঁদ বিবির হন্তারক। আহমেদনগরের একদল উত্তেজিত সেনা, যারা রানী চাঁদ বিবিকে তার মহৎ গুণের জন্য এতদিন ধরে ভক্তি ও শ্রদ্ধা দেখিয়ে আসছিল, কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে অতীতের সবকিছু ভুলে প্রসাদে ছুটে গিয়ে তারা চাঁদ সুলতানের রক্তে নিজের হাত রাঙাল। চাঁদ বিবির ব্যক্তিগত কক্ষে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করা হয়। তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল কক্ষেই একটি পানিভর্তি চৌবাচ্চার মধ্যে। রানীর রক্তে চৌবাচ্চাটি যেন একটি রক্ত পুকুরে পরিণত হয়েছিল সেদিন। জনৈক্য ইতিহাসবিদ চাঁদ বিবি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চাঁদ বিবি, ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক চরিত্র।’

চাঁদ বিবির এমন করুণ পরিণতির ফল ভোগ করতে হয়েছিল আহমেদনগরকে। মৃত্যুর পর তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের ন্যায়বিচার তিনি পেয়েছিলেন মুঘলদের আগমেদনগর দখলের ঘটনার মাধ্যমে। তার মৃত্যুর কয়েক মাসের মধ্যেই মুঘল শক্তি আহমেদনগর দখল করে নেয়। দখলের পর মুঘলরা প্রথম যে কাজটি সম্পন্ন করে, তাহলো চাঁদ বিবির ঘাতকদের ফাঁসিতে চড়িয়ে দেয়া। পরিশেষে বলা যায়, সময়ের পালাবদলে নিজাম শাহের কন্যা, আলী আদিল শাহের সহধর্মিণী চাঁদ বিবি সবকিছু ছাপিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন। যুদ্ধের ময়দানে চাঁদ বিবির লড়াই ও নির্ভীকতার কৃর্তী যুগে যুগে স্মরণীয় ও উদযাপিত হবে।

দি আইভরি থ্রোন ও রেবেল সুলতানস গ্রন্থের লেখক মনু এস পিল্লাইয়ের নিবন্ধ অবলম্বনে

 

রুহিনা ফেরদৌস: লেখক ও সাংবাদিক