একলা তিনজন
বহুদিন তার সঙ্গে কোথাও দেখা হয় না আর
স্মৃতিও ফেরে না তার কথা মনে রেখে অবসরে
আমাকেও তার আর মনে হয় না বছর বছর
তবুও টিনের চালে টিয়া বসে মশকরা করে;
তার ক’টা ছেলে মেয়ে, স্বামী কিংবা পরকীয়া—
টিয়াকে বলি তার নাম রিয়া, টিয়া বলে ‘হিয়া’
এইভাবে টিয়া রিয়া হিয়া নিয়া আমাদের যায়;
তিনজন এক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি তিন রাস্তায়।
দেখা আর লেখা
এতটা নিকটে থাকি যে আমার নিঃশ্বাস তার
প্রশ্বাস ছুঁয়ে যায়
কেউ তাতে হাবুডুবু খায় কেউ ডুবে সাঁতরায়;
দেখি তাকে বাই-ফোকাল লেন্সের ভিতর দিয়া
টিয়াকে যত বলি নাম তার রিয়া, টিয়া বলে হিয়া
এইসব দৃশ্যাবলি চপলা চঞ্চলা গোধূলিকে নিয়া
বসি রোজ দূর বারান্দায় —
আঁকাবাঁকা এই বাক্য ঘোরতর, তাকে লেখা যায়
আমি রোজ তাকায়ে তাকায়ে দেখি—
দেখা যদি অমৃত হয়, অমৃতার ঠিকানাটা কি!
গোপনীয়েষু
অক্ষরের আদলে ছাপা গোপনে কবির মুখ
তোমরা পড়ো তার প্রেমিকার নামে;
তার তো বাঁকাচোরা হাসি, লুকানো অসুখ
সুচিত্রা সেনের মতো ভাঁজ ভাঙা গলার স্বরে
নিজের কথাই কয় অভিনয় করে
লেখা আর অভিনয় দৃশ্যত আলাদা;
দেহের পাঁজরে লেখা বিদেহীর ধাঁধা।
নশ্বরী
এই যে গোধূলি আমার
আধুনিকা,
যে পাখিটা উড়ে গেল তার নাম রিকা;
গ্লাসে পান করি কাঁটা চামচে মাংসের কারবার
তোমার সঙ্গে সখ্য বেশ কুকুর ছানার;
আমি তো তোমার কাছে ছানাটি হতে আসি
নিচু স্বরে বলা যায় উঁচু কথা, ভালোবাসি;
বলি এও
গোধূলির পরে তারা ফিরে যাবে,
আমাকেও নিও।





