রাজায় রাজায় যুদ্ধ বাধিলে কিনা উলুখড়ের বিপদ। রাজায় রাজায় গলাগলিতেও যে উলুর মাঠ, তাহার পরের শ্মশানবাড়ি আর সুখসায়র নদী এবং তাহার পরের শকুনখাগী বনের রেখা এবং সেই বনের সকল পশুরও বিপদ, তাহার গল্প বলিব। কাহারও ক্লেশ হইতে পারে সন্দেহে এই অধম গলবস্ত্র হইয়া পূর্বেই ক্ষমাপ্রার্থনা করিয়া লইল।
পাশাপাশি দুইখানা রাজ্য। রামগড় আর সোনাঝারি। রামগড় রাজ্যখানি সুবিশাল, প্রভাতসূর্য উদিত হইয়াই তথাকার বিপুল কর্মযজ্ঞ দেখিয়া হাসে, অজস্র প্রজা মিলিয়া রাজার কীর্তিস্তম্ভ গড়ে, রাজাই কিনা ভাগ্যবিধাতা। রাত্রির আকাশে চাঁদ রাজার যশ-ইন্দু বই নহে, ঢোল-ডগরে রাজার কাহিনী বই বাজে না। সোনাঝারি রাজ্যখানা রামগড় রাজত্বের মতন বড় নহে, তবে বড় মনোহর, নিশীথের তারার পুঞ্জ আর দিবসের সোনার সূর্য সেইখানে ঋতুর জপমাল্য জপিয়া চলে, শস্যের শ্যামলিমায় আর দিগন্তের নীলিমায় গলাগলি। নদীর জল ছলছল করে, দুই পাড়ে আম-কাঁঠালের বিস্তর
বাগান, জ্যোত্স্না-খলখল রাতে সেথায় উঠান জুড়িয়া ছোট ছোট পরী খেলিতে নামে। রাখাল সেই দেশে প্রান্তরে পিঠাগাছে পিঠা ফলায়, লোকমুখে শোনা যায় সেই রসগর্ভ পিঠার স্বাদ ভুলিতে না পারিয়া পৌষলক্ষ্মী বারে বারে ফিরিয়া আসে। অবশ্য সোনাঝারির লোকে বড় বড় কথা বলিতে ভালোবাসে, লোকের দেখাদেখি ছাগলেও সেইখানে ‘পঞ্চাশ বাঘে মোর একেক গরাস’ ভঙ্গিতে চলে।
আহা, রাজা যেমন, প্রজা তো তেমন হইবেই। রাজা আপন রাজকোষ হইতে রৌপ্যচক্র আত্মসাৎ করিয়া ভাবেন খুব জিতিলাম। প্রজাও তেমন তেমন। আপনার গাঁট হইতে টাকা চুরি না করিতে পারিলে অন্যের গাঁট কাটে। এত গাঁট কাটার শাস্তি রাজা কী করিয়া দেবেন? দুষ্কৃতিকারীকে উল্টা গাধার পিঠে চড়াইয়া আর কত রাজ্যপারে দূর করিবেন, গাধাও তো এত পালে পালে জন্মে না। কত মাথা মুড়াইবেন— নাপিত যে পলায়, ঘোল ঢালিতে ঢালিতে ঘোষপাড়ার লোকে ক্লান্ত।
দুর্জনের অপ্রমেয় বল এবং চোর-বাটপারের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হইয়া সোনাঝারির রাজা গিয়া পড়িলেন রামগড়ের রাজার নিকটে। রামগড়ের রাজার চোখ মিটিমিটি করে আর একটিপ নস্য নিয়া রাজা বুদ্ধির গোড়ে সুড়সুড়ি দেন। অবশেষে রামগড়ের রাজা সোনাঝারির রাজাকে বলিলেন, ‘লোকে যাহাই বলুক, আমাদের সম্প্রীতির তো অভাব নাই। বড় রাজ্যের রাজাকে লোকে বেশি মানে, তুমি আপনার রাজ্য লইয়া ভাইয়ের মতন আমার রাজ্যে মিশিয়া যাও। আমরা দুইজনে খুব করিয়া রাজ্য শাসন করিব।’ সোনাঝারির রাজার এই কথা মনঃপূত হইল না। তিনি অধোবদনে রহিলেন, কিয়ত্কাল পরে রামগড়ের রাজাকে ধীরস্বরে স্নিগ্ধভাবে বলিলেন, ‘‘কুলোকে কুকথা বলিলে, আমার শৌর্য-বীর্য খাটো করিয়া দেখিলে কিসের ভয় দেখাইব? লোকে বহুকাল কোতোয়ালকেই আর ডরায় না। ছেলেখাগী ডাইনিকেও না, খোঁনা গলায় ডাইনি আসিয়া যদি বলে— ‘চোঁখ তুঁলে দ্যাঁখো নাঁ কেঁ এঁসেছে’, লোকে তবু ভাবে ডাইনি নহে, কুমার শানু গান গাহিতেছে!” রামগড়ের সহিত সাম্রাজ্য মিলাইয়া দিলে তাঁহার আপনার রাজত্বের অধিকার বজায় থাকিবে কিনা, সেই বিষয়ে তিনি যে সন্দিহান তাহা গোপন করিলেন। রামগড়ের রাজা বলিলেন, ‘আচ্ছা, তাহা হইলে দুষ্ট লোককে শায়েস্তা করিবার জন্য চৌরাশিটা নরকের কুণ্ড স্থাপন করো। তাহাতে পাতকীদিগের মুণ্ডু চাপিয়া ধরিবে। যাইবার আগে রাজপণ্ডিতের নিকট হইতে কুণ্ডের যথাবিহিত মাপ লইয়া যাইও, মাপ ঠিক হওয়া চাই।’ রামগড়ের রাজা উঠিলেন, রানী আজ সোনাঝারির রাজার আনা ভেট হইতে পদ্মঢাকাইখানা পরিয়া এই বেলা আপন হাতে আলোচালের পিঠালি গুলিয়া আলেপনা দিয়া রাজার খাইবার চৌষট্টি পদ লইয়া অপেক্ষা করিতেছেন, এতক্ষণে নির্ঘাত শঙ্খছাপ-সন্দেশে পিঁপড়া হাঁটিয়া যাইতেছে, পানের বাটায় মিঠাপাতিয়া পান শুকাইতেছে। সোনাঝারির রাজা পিছু ডাকিলেন, ‘এতগুলি কুণ্ডে অনল জ্বলিবে কীরূপে? জ্বালানি কোথায় মিলিবে?’
রামগড়ের রাজা বিরক্তি চাপিয়া বলিলেন, ‘আচ্ছা আচ্ছা, আমার হীরকখনিগুলি হইতে জ্বালানি লইয়া যাইও। খনিমজুররা বেগার খাটিবে।’ বলিয়া রাজা হনহন করিয়া চলিয়া যাইতেছেন, সোনাঝারির রাজা আবার ডাকিলেন, ‘এতগুলি কুণ্ডের অগ্নিভস্মে তিষ্টিতে না পারিয়া তো প্রজারা দেশত্যাগ করিবে!’
রামগড়ের রাজা দাঁত কিড়মিড় করিয়া বলিলেন, ‘দেশত্যাগ আর নতুন কী সংবাদ! তাহাদের বলিবে, ধূলি-ভস্ম এইসব পুণ্য বস্তু। পদধূলি-তীর্থের ধূলি কত কিছু মাথায় নেয় লোকে। পুণ্যবন্ত ঋষিরা ভস্ম মাখিতেন, সাধকরা শ্মশানভস্ম মাখিতেন, ধুলামাটির ঢিবি ভাবিয়া হ্যাক-ছিঃ করিতে নাই, তাহার ভিতরে চ্যবনঋষিও তো থাকিতে পারেন! আর তাহাতেও না মানিলে বলিও স্ত্রীলোকের প্রসাধনে লোধ্ররেণুর পরিবর্তে আজকাল ভস্ম মাখাই দস্তুর। অন্দরমহলকে বুঝাইও, অন্দর বুঝিলেই সদর আপনি বুঝিয়া যাইবে এবং যথার্থ কার্য করিবে।’ এতেও হইল না, সোনাঝারির রাজা
ব্যাকুল হইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘দেশময় চাষের জমি। চাষাই আমাদিগের শস্যলক্ষ্মী, চাষাই আসল অন্নপূর্ণা। কুণ্ড বানাইবার প্রান্তর কোথা পাই?’
রামগড়ের রাজা এইবার বিরক্তি লুকাইতে পারিলেন না, রাগ করিয়া বলিলেন, ‘শকুনখাগীর বনে গিয়া কুণ্ড বানাও। আমি চলিলাম।’ সোনাঝারির রাজা রামগড়ের রাজার উষ্মা বুঝিতে পারিলেন না, তিনি ভাবিলেন রাজা বুঝি পথ বাতলাইয়া দিলেন। সোজা গাধার পিঠে সওয়ার হইয়া তিনি অতিথিশালায় গেলেন। সোনার পিঞ্জরে সেথায় সোনার শুক ডাকিতেছে, সোনার কমল ফুটিয়াছে সোনা-বাঁধানো ঘাটে, ঘাটের পৈঠায় সোনার অঙ্গ আলো করিয়া রামগড়িয়া সুন্দরীরা সোন্দা-মেথি-হলুদ-চন্দন মাখিতেছে, স্বর্গ-মর্ত্য-রসাতলে এহেন মনোলোভা সুন্দরী নাই। রাজদাসী স্বর্ণচরী পরিয়া অন্ন-ব্যঞ্জন সাজাইয়া রাজার আসিবার অপেক্ষা করিতেছে, সোনার পাতে ফলমূল-দধি-পরমান্ন। এই সমারোহে সোনাঝারির রাজা আপনার রাজ্যে দুর্বৃত্তের সংখ্যাধিক্যের সমস্যা ভুলিয়া গেলেন।
রামগড়ে জন্মশোধ আরাম-আদর পাইয়া রাজা সোনাঝারিতে ফিরিয়া আসিলেন, আসিয়া ঘোষণা করিলেন, শকুনখাগীর বনে পাতকীদের পোড়াইবার চৌরাশিটি কুণ্ড নির্মাণ করা হইবে। রাজ্যশুদ্ধ লোকে ছি ছি করিল না, ঢি ঢি পড়িয়া গেল না, তাহারা কিছু না বুঝিয়া প্রতিদিনকার মতো সমস্বরে রাজার জয়ধ্বনি দিল। জ্ঞানীরা বরং বলিল, পূর্বে মহাপাপীরা নরকের কুমিরের কামড়, অন্ধকার কূপ ইত্যাদির ভয় করিত না, এখন ভয় ফিরিয়া আসিবে, জীবদ্দশায় নরকভোগের ভয় ফিরিয়া আসিলে দেশে শান্তি স্থাপিত হইবে, শান্তি আসিলে তাহার সহোদরা স্বস্তিও আসিবে। কেহ কেহ বলিল, শকুনখাগীর বনে দুঃখীদের ছেলেরা ফল পাড়িতে যায়, কাঠকুটা কুড়াইতে যায়, জলার শাক তুলিতে যায়, মৌচাক ভাঙিয়া মধু সঞ্চয় করে। শকুনখাগী তো এই বনের আদি নাম নয়, শকুন্ত মানে পাখি, মায়াপাখি উড়িয়া আসিয়াছিল এই বনে, সেই পাখির মায়া ডানায় আশ্রয় পাইয়াছিল দুঃখীদের গ্রাম।
এই বন কাটিয়া কুণ্ড বানাইবে কে? বনের ভেতরে কাহাদের চোখ জোড়ায় জোড়ায় আগুনের ভাঁটার মতন জ্বলে, তাহা কি কেহ জানে না? অন্যরা তাহাদের বলিল, চুপ, চুপ! ষাঠ, ষাঠ!
বন কাটিতে তো রাজা যাইবেন না, দুঃখীদের একটি দলকেই পাঠানো হইল। বাগদীদের ছেলেরা খেপলা জাল দিয়া মাছ ধরিতেছিল, তাহারাও দলে ভিড়িল। তাহারা মায়ের হাতে মোষের দই আর মোটা দানার চিনি খাইয়া, হাতে বিপত্তারণ কবচ বাঁধিয়া, কোঁচড়ে মুড়ি নিয়া, লাঠি-ঠেঙা-কুঠার হাতে বন কাটিয়া উজাড় করিতে চলিল। আকাশ-বাতাস শোঁ শোঁ করিয়া বলিল, ‘সাবধান, যাইও না!’
নদীর জল সরসর করিয়া বলিল, ‘যাইও না!’ দ্রৌপদীর শাড়ি ধরিয়া দুঃশাসন টান দেবার সময় যেমন পেঁচক ডাকিয়া উঠিয়াছিল, গাধার ডাক শোনা যাইতেছিল, তেমন শোনা গেল। উলুর মাঠ জ্বলিল। শ্মশানের হাড়কাঁটা-খুলি পায়ে দলিয়া দুঃখীর দল শকুনখাগী বনে চলিল। পথে সর্বরোগহরা রুদ্রমাধবীর ঝাড় মুড়াইল। যে শটিফুল দুগ্ধে ফুটাইয়া পায়স করিয়া তাহাদের মায়েরা এতকাল পথ্য রাঁধিয়া দিয়াছে, সেই শটিফুলের পাড় মুড়াইল। চিরযৌবনার ঝোরা পার হইল, শুখানহর পার হইল। অবশেষে বন শুরু হইল। পেঁচা আর গাধা ডাকিতেই থাকিল, দ্রৌপদীর শাড়ির মতন বনের শুরুও আর ফুরায় না, দুঃখীরা যাইতেই থাকে, বনও পিছাইতেই থাকে। দুঃখীরা কুঠার হাতে ডাকে, ‘আসো, নিকটে আসো গো বনলক্ষ্মী, মায়াপাখির ডানা!’ এতকাল আকাশে ভগবতীর স্তনের মতন ভার মেঘ করিয়া দেও ডাকিলে বন তাহাদের আশ্রয় দিয়াছে, সুখসায়রে বান ডাকিলে সুমিষ্ট বনফল আর আত্মরক্ষার মগডাল দিয়াছে, বাঁদরে হাত বাড়াইয়া দিয়াছে সখার মতন, সজারুর কাঁটা দিয়া মেয়েরা পশম বুনিয়াছে, পাতা দিয়া পরিপাটি করিয়া ঘর ছাইয়াছে, এই বনচ্ছায়ায় সব জাতের লোক মিলিয়া জোয়ারের জলে পীরফকিরের নাম লইয়া ভাসিয়াছে! এই বনে চাঁদ-সুরজ আর দিকপবন সাথী করে কাটাইয়াছে কত কাল, সেই বন কাটিয়া খাক করিতে যাইতেছে বলিয়া তাহাদের চোখে জল আসে নাই— এ কথা রাজসমাচারদর্পণে প্রকাশ করা হইল, অথচ দর্পণসাহিত্যে যাহা প্রকাশিত, তাহা সত্য নহে।
বনমধ্যে দুঃখীদের দল অবশেষে বাঘের দলের মুখে পড়িল, বাঘের বপু আকাশ ঢাকিয়া ফেলে, নিঃশ্বাসের গরমে রোম পুড়িয়া যায়, চুমুক দিলে একগালে গোটা সুখসায়রের জল রাখিতে পারে, চোখগুলো আগুনের ভাঁটার মতন জ্বলে, বাঘেরা গোঁফ চুমরাইয়া বলিল, ‘রে পাষণ্ড, মাতৃঘাতী হইতে আসিয়াছিস! আজ তোদের নিস্তার নাই।’
দুঃখীর দল কাঁপিতে কাঁপিতে করজোড়ে বলিল, ‘বড় শেয়াল, অপরাধ নিবেন না। রাজা দুর্বৃত্ত মারিতে এই পথ বাছিয়া নিয়াছেন, এই পন্থায় আমাদের শান্তি-স্বস্তি আসিবে!’
বাঘ হুংকারে ডংকা বাজাইয়া দিয়া বলিল, ‘দুর্মতি রাজাকে গিয়া বল্ তাহার দুর্বৃত্ত ঠেঙাইবার ইচ্ছা তো রাজসভাতেই তো উহাদের ছড়াছড়ি, বনে দুর্বৃত্ত খুঁজিতে আসে কেন? বনে দুর্বৃত্তনিবারণী কুণ্ডই বা হইবে কেন? সেই কুণ্ডের মাপ রামগড়ের রাজাই বা দেবেন কেন?’
নিরক্ষর দুঃখীরা এত ভেদজ্ঞান রাখে না, এতকাল তাহারা বাঘের গল্প শুনিয়া ঠাকুমার কোলে ঘুম গিয়াছে কেবল, বাঘের রণমূর্তি দেখিয়া অবধি তাহাদের প্রাণভয়ে ভীত হূদয়ে পূজার ভাব দেখা দিয়াছে। বাঘেরা তাহা দেখিয়া বলিল, ছোঃ! হাতজোড় করিতে তোদের ক্ষণকাল ব্যয় করিতে হয় না।
আজ রাজাকে দেখাইব মজা... ইত্যাদি।
দুঃখীদের সহিত বাঘেদের কি কথা হইয়াছিল তাহা জানা যায় না, গহিন বনে মায়াপাখির ডানার আড়ালে বনের সন্তানরা একে অন্যের সহিত কোন ভাষায় মনোভাব ব্যক্ত করে, কোন মনোভাবইবা ব্যক্ত করে, কিছুই জানা যায় না। দুঃখীরা কিন্তু ফিরিল না। রাজসমাচারদর্পণ চাউর করিল যে, তাহারা বাঘের চাপড় খাইয়া মরিয়াছে।
শোনা যায়, রামগড়ের রাজার প্রেরিত সৈন্যরাও কেহ বন কাটিতে সফল হয় নাই। তাহারা যত আগাইয়াছে, বন আপনা হইতে তত পিছাইয়াছে। এইভাবে বনকে ধাওয়া করিতে করিতে একদিন খবর হইল সোনাঝারির রাজপুরে এক বাঘ আসিয়া রাজকন্যার ওপর ভর করিয়াছে। রাজকন্যা কাঁচা মাস ছাড়া কিছু খান না। সমস্ত দেহ রোমে ভরিয়া গিয়াছে, হাত-পায়ে ডোরা, ডাইনের কানে তিনি দুঃখীদের আর্তরব শোনেন, বাঁয়ের কানে শোনেন পশুর ডাক। দাসদাসী সব পলাইয়াছে, গাঁক গাঁক হুংকারে মহল কাঁপে। রাজ্যে অরাজকতা ছাইয়া গিয়াছে। সোনায় উজল দিবা নাই, রূপো-ঢালা রাতি নাই। শান্তি-স্বস্তি দুই বোন কেহ সোনাঝারিতে ফিরে নাই। শকুনখাগী বন পায়ে পায়ে সুখসায়রের তলায় চলিয়া গিয়াছে, সুখসায়র মিলাইয়াছে সাত পাথারে। বনফল নাই, মিষ্টজলের ইঁদারা নাই, বেনুবনের ছায়া নাই, মেঘ নাই, রাখালদের বাঁশী বানাইবার জো নাই, দুঃখীরা একে অন্যকে কাটে।





