‘লেখক পেরুমল মুরুগান মারা গেছেন। তিনি ঈশ্বর নন, তাই নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করতে যাচ্ছেন না। তিনি অবশ্য পুনর্জন্মে বিশ্বাসও করেন না। এখন থেকে পেরুমল কেবল একজন শিক্ষক হিসেবেই বেঁচে থাকবেন।’— ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এভাবেই নিজের লেখকসত্তা মৃত্যুর ঘোষণা দিয়েছিলেন ভারতের তামিল ভাষার বিশিষ্ট সাহিত্যিক পেরুমল মুরুগান। লেখকের মাধোরুবাগান (ইংরেজিতে ওয়ান পার্ট ওম্যান) উপন্যাসটি হিন্দুত্ববাদীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে এবং তাদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে লেখক এ ঘোষণা দেন। তবে মাস দুয়েক আগে পেরুমলের লেখকসত্তা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। মাদ্রাজ হাইকোর্ট উপন্যাসটির পরিপ্রেক্ষিতে পেরুমলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলা থেকে তাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন এবং তার সংশ্লিষ্ট বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিকেও নাকচ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে আদালত পেরুমলকে পুনরায় লেখালেখি শুরুর অনুরোধ করেছেন। রায়ে স্বভাবতই খুশি হয়েছেন লেখক এবং তিনি পুনরায় লেখালেখি শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

শুধু খালাসই নয়, সঙ্গে সঙ্গে আদালত তাদের পর্যবেক্ষণে লেখক ও শিল্পীদের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, শিল্পের কাজ উসকানি দেয়া। কোনো বই আপনার পছন্দ না হলে সেটা পড়া থেকে বিরত থাকুন। কিন্তু তাই বলে লেখককে হুমকি দেয়া বা বই নিষিদ্ধ করার দাবি বাস্তবায়নে সহিংস কর্মকাণ্ড করা যাবে না।

পেরুমলের মাধোরুবাগান উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ২০১০ সালে। এর পর ২০১৩ সালে বইটির ইংরেজি অনুবাদ ওয়ান পার্ট ওম্যান প্রকাশিত হয়। বইটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সূচনা হয় এই ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের পর থেকে। নিঃসন্তান এক দম্পতির সন্তান নেয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। বিশেষ এক ধর্মীয় উত্সবে মন্দিরে অপরিচিত নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়। নিঃসন্তান সেই নারী এক অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে সন্তান ধারণের চেষ্টা করেন। এতে মন্দির, নারী ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে অবমাননা করা হয়েছে বলে বই এবং লেখকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো। তামিলনাড়ুর কায়লাসানাথর মন্দির এবং তার নারী ভক্তদের অবমাননার অভিযোগে বিক্ষোভ দেখায় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপি। পেরুমলের বই পোড়ানো হয় এবং তাকে গ্রেফতারের দাবি ওঠে। বিক্ষোভের মুখে স্থানীয় প্রশাসন একটি শান্তি সমাবেশ ডাকে এবং সেখানে পেরুমলকে তার সব বই বাজার থেকে তুলে নেয়ার ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয়। এর পর নিজের লেখকসত্তার মৃত্যু ঘোষণা দেন পেরুমল। সে ঘোষণায় তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘আমার অন্য বইগুলোও বিক্ষোভের ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। তাই আমি আমার সব বই বাজার থেকে তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি প্রকাশকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেব।’ এমনকি যারা তার বই পুড়িয়েছেন, তাদেরও তিনি ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। সে সময় পেরুমলের বন্ধুরাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের লেখক, শিল্পীরা তার সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিলেন। বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ তখন লিখেছিলেন, ‘তামিলনাড়ুতে যেটা ঘটল, সেটা উত্তর কোরিয়ার মতো সর্বগ্রাসী দেশেই সম্ভব। সংঘ পরিবারের সদস্যরা তামিলনাড়ু, ভারত এবং গণতন্ত্রকে কালিমালিপ্ত করেছে।’

লেখক পেরুমল মুরুগানের জন্ম তামিলনাড়ুর এক কৃষিজীবী পরিবারে। শৈশব কেটেছে সিনেমা হলের বাইরে বাবার সোডার দোকানে কাজ করে। মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে একটি কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। মার্ক্সবাদ দ্বারা প্রভাবিত এ লেখকের লেখায় তার রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা উঠে এসেছে। সব হুমকির মুখেও তিনি তার জন্মস্থান ছেড়ে অন্য রাজ্যে যাননি।

লেখক পেরুমল মুরুগানের পক্ষে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ে মত প্রকাশে লেখক ও শিল্পীর স্বাধীনতার কথা উঠে এসেছে। রায়ের কিছু নির্বাচিত অংশ নিম্নরূপ:

মূল বক্তব্যটি উল্লেখপূর্বক রায়ের বিবরণ শুরু করা হচ্ছে— সবাইকে সবকিছু পড়তে হবে এমন কোনো কথা নেই। যে বই সংবিধানের নীতি ভঙ্গ করেনি— এমন বই থেকে আঘাত পেলে আপনার প্রতিক্রিয়া হবে বইটি পাঠ বন্ধ করে দেয়া।

কোনো সমাজ একটি নির্দিষ্ট বই পাঠে প্রস্তুত কিনা এবং আঘাতপ্রাপ্ত না হয়ে বইয়ের বিষয়বস্তু গ্রহণ করতে পারবে কিনা— এ বিতর্কটি বহুদিনের। সময় বদলেছে। একসময় যা গ্রহণযোগ্য ছিল না, তা এখন গ্রহণ করা হচ্ছে। লেডি চ্যাটারলি’জ লাভার এমনই একটি ক্লাসিক্যাল উদাহরণ। বই বাছাই করার বিষয়টি একেবারেই পাঠকের ব্যাপার। আপনার যদি কোনো বই ভালো না লাগে তাহলে সেটা ছুড়ে ফেলে দিন। একটি বই পড়ার জন্য তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সাহিত্যের রুচি ভিন্ন হতেই পারে— একজনের কাছে যেটা সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য, সেটা অন্যজনের কাছে নাও হতে পারে। তাই লেখার অধিকারে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।

এখানে আরো উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যৌনতা ও অশ্লীলতার প্রশ্ন এলেই ভারতীয় সংস্কৃতিকে যাচাই না করে ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতা অনুসরণের কথা ওঠে। মনে হচ্ছে, আমাদের নিজস্ব সাহিত্য ও শাস্ত্র থেকে প্রেরণা না নিয়ে আমাদের সমাজ ডুবে আছে ভিক্টোরিয়ান দর্শনে বা হতে পারে এমন ভাবনার মানুষ সমাজে গুটিকয়, কিন্তু তাদের আওয়াজ এতটাই উচ্চ যে, সেটা এমন ধরনের একটা হট্টগোল পাকিয়ে বসতে পারে।

যৌনতা কখনই অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল না। বরং শুরু থেকেই এটা সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মহাভারতসহ ভারতের বিভিন্ন শাস্ত্রে বিবাহবহির্ভূত যৌনতার উদাহরণ পাওয়া যায়, বিশেষত বংশরক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত সন্তান উত্পাদনের লক্ষ্যে। সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে সমাজের উচ্চ ও নিম্ন উভয় শ্রেণীর মাঝেই এ চর্চা প্রচলিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে একজন আদর্শ রাজা খুঁজে পাওয়া। আমরা কি বলতে পারি যে, এখানে মহাভারত বা অন্য যেসব সাহিত্যের কথা উল্লেখ করা হলো, সেগুলো আমাদের ইতিহাসের অংশ— এসব গ্রন্থে কাম-সম্পর্কিত বিভিন্ন কথাবার্তা আছে এবং তাই সেগুলো নিষিদ্ধ করা উচিত? 

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র কারো কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে পারে না। কারণ একদল মানুষ সহিংস হওয়ার হুমকি দিচ্ছে মানে এই নয় যে, শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশ করছে এমন কাউকে সরকার নিষিদ্ধ করবে।

আমরা শুরুতেই বিষয়টা লক্ষ করেছি যে, এ ধরনের বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ দ্বারা সমস্যায় পড়েছি। এখানে যে সরকার শান্তির জন্য দূতিয়ালি করছে বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। সমাজে বিভিন্ন ধরনের চিন্তাপ্রক্রিয়া থাকে এবং প্রত্যেকেই তার নিজস্ব চিন্তা দিয়ে পরিচিত হন কিন্তু কেউ কারো টুঁটি চেপে ধরতে পারেন না। এখন আমরা বই, ফিল্ম, চিত্রকর্ম, ভাস্কর্য ও শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রচারণা দেখতে পাচ্ছি।

শিল্প প্রায়ই মানুষকে উসকানি দেয় এবং তাই তা সবার জন্য নয়, অন্যদিকে শিল্প পুরো সমাজকে নিজেকে দেখতে বাধ্য করে না। বাছাইয়ের ভারটা দর্শকদের হাতেই থাকে। একদল মানুষ একটি শিল্প নিয়ে উত্তেজিত বোধ করা মানে এই নয় যে, তারা সহিংস উপায়ে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়ে গেল এবং এই সহিংস দর্শকদের সামলানোর ব্যর্থতার পক্ষে রাষ্ট্র কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে পারে না... কোনো একদল মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব রাখবে— এ রকম একটি ধোঁয়াশাপূর্ণ চিত্রের কারণে একজন শিল্পীকে তার মত প্রকাশ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আমাদের মতো গণতান্ত্রিক দেশে তো নয়ই।

কালেক্টরেটের বাইরে জড়ো হওয়া জনতা লেখকের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছে এবং শহরে হরতাল ও ধর্মঘট করার হুমকি দিয়েছে। এ রকম উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকারের দায়িত্ব যেকোনো মূল্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, তবে এজন্য আইন হাতে নেয়া ব্যক্তিদের শান্ত রেখে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে মত প্রকাশকারীকে শাস্তি দিয়ে তা করা উচিত নয়।

কালেক্টরেটের বাইরে যখন তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’ হচ্ছিল, তখন সমাবেশের একদল লোক লেখককে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে। যদিও লেখক ক্ষমা চাইতে মোটেও আগ্রহী ছিলেন না কিন্তু সহিংস আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তার সামনে আর কোনো সুযোগ ছিল না। তখন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভেঙে পড়া ঠেকাতে দরকার ছিল আইনসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমরা এটা বলছি না যে, শান্তি সমাবেশের উদ্যোগটা নিজেই ত্রুটিপূর্ণ কিন্তু সেটা যে চেহারা ধারণ করেছিল, তা উচিত হয়নি। আমরা আরো বলতে চাই যে, এ ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় মূল্যায়নের জন্য রাষ্ট্র কিংবা পুলিশ যথাযথ কর্তৃপক্ষ নয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় বিচারের ভার সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের প্রজ্ঞার ওপর ছেড়ে দিলে এবং প্রয়োজন হলে আদালতের শরণাপন্ন হওয়া।

এ নির্দেশ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের প্রশ্নটি নিয়ে আলোচনা করেছে। কোনো একটা বই নিষিদ্ধ করে দিলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পাবলিক ডোমেইনে আসে না।

মাধোরুবাগান গ্রন্থে ড. পেরুমল কোনো মিথকে উন্মোচন বা নিন্দা করেননি। তিনি একটি জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তার বিশ্বাস যে, সেটি ‘উদ্ঘাটিত সত্য’ হিসেবে উঠে আসা উচিত। তিনি ফ্যাক্টকে অনুসরণ করে এগিয়েছেন এবং সেগুলো তাকে যেখানে নিয়ে যায়, সেখানে গেছেন। এ কারণেই তার মানহানি করা হয়েছে।

তামিল ভাষায় প্রকাশের পর উপন্যাসটিতে বর্ণিত একটি বিষয়কেও সিরিয়াসলি চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। সমস্যার শুরু হয় বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশের পর থেকে। অর্থাত্ এ অনুবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো ব্যাপারটা অন্ধকারেই থেকে যেত। উপন্যাসটি নিষিদ্ধ করা মানে কি বইয়ে যে প্রেক্ষিত এবং গল্পটি বলা হয়েছে, তা সমাজে দৃষ্টিগোচর হবে না?

সমাজের একটি অংশের ক্রোধের কারণে অন্য একজনের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেয়া যায় না। সমাজের একটি অংশের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলেই সেই লেখাকে অশ্লীল, অমার্জিত, বর্জিত, কামোদ্দীপক ও অনৈতিক হিসেবে আখ্যা দেয়া যাবে না। বর্তমান ঘটনায় লেখকের কোনো অসত্ উদ্দেশ্য নেই, বরং তার লেখায় যারা অনুভূতিতে আঘাত পেয়েছেন, তাদের ক্ষত প্রশমনের জন্য তিনি পিছু হটেছেন। যে শহরে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে, তিনি সেই শহরেই শিক্ষালাভ করেছেন এবং বেড়ে উঠেছেন। বহু সংস্কৃতির এ সভ্যতায় নতুন করে কোনো বিশুদ্ধতাবাদী আন্দোলন হতে পারে না।

লেখালেখির প্রতি সহিষ্ণু মনোভাব থাকতে হবে— যা এখানে বহুকাল ধরে বজায় আছে। চিরাচরিত পথের বাইরে কিছু চিন্তা করলেই শিল্পী বা পেরুমলের মতো লেখকদের নিত্য আতঙ্কের মধ্যে রাখা যাবে না। উপন্যাসের বিরোধিতাকারীদের অবশ্যই সমালোচনা করার অধিকার আছে, ঠিক একইভাবে তার পক্ষের মানুষের অধিকার আছে বইটির প্রশংসা করার। কিন্তু শহরের জীবনযাত্রা বন্ধ করার ভয় দেখানো কিংবা লেখককে হুমকি দেয়াটা সঠিক পথ নয়।

পরিশেষে এই বেঞ্চ মুরুগানকে পুনরায় লেখালেখি শুরু করার আহ্বান জানাচ্ছে।

লেখক ও অধ্যাপক পেরুমল মুরুগানকে ভয়ের মধ্যে রাখা যাবে না। তার লেখালেখি করা এবং তার লেখার ক্যানভাসটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। এমনকি যদি অন্যরা তার লেখার বিষয় ও শৈলীর সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেন, তার পরও তার লেখা সাহিত্যের জন্য অবদান বলে বিবেচিত হবে। লেখক নিজেই নিজের লেখকসত্তাকে মৃত ঘোষণা করছেন— এমনটা হতে পারে না। এটা তার স্বাধীন সিদ্ধান্ত ছিল না, বরং তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

সময় দারুণ উপশমকারী, আমাদের ধারণা এটা পেরুমল মুরুগান এবং তার বিরোধীদের জন্য সত্য হবে। আমরা আশা করি, উভয় পক্ষই এরই মধ্যে তাদের নিজ নিজ জীবনক্ষেত্রে আলাদাভাবে চলতে পারা এবং একটি বিকাশমান ও জীবন্ত গণতন্ত্রের বাসিন্দা হিসেবে বিষয়টিকে মাটি চাপা দেয়াটা শিখে গেছে। আমরা আশা করি, এ রায় উভয় পক্ষের অন্তদৃষ্টিসহকারে ইস্যুটির পরিসমাপ্তি ঘটাবে। সময় আমাদের ভুলে যেতে, ক্ষমা করতে এবং ধ্বংসস্তূপ এড়িয়ে সামনে দেখতে শেখায়।

আমরা যদি সময়কে একটু সুযোগ দিই তাহলে তা আমাদের সুন্দর এক পথে নিয়ে যেতে পারে। আমরা শেষ করছি এই পর্যবেক্ষণ থেকে— ‘লেখককে সেই ক্ষেত্রে পুনরুজ্জীবিত হতে দেয়া হোক, যা তিনি সবচেয়ে ভালো পারেন— সেটা হচ্ছে লেখালেখি।’