ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানোভ (১৮৭০-১৯২৪), যিনি বিশ্ববাসীর কাছে ‘লেনিন’ নামেই পরিচিত, আনুমানিক একশ সাড়ে তিন বছর আগে অর্থাৎ ১৯১৭ সালের মধ্য এপ্রিলে তিনি সুইজারল্যান্ডের নির্বাসন থেকে সহকর্মী বিপ্লবীদের নিয়ে অত্যন্ত গোপনে জার্মান ট্রেনে চেপে জুরিখ থেকে যাত্রা করে তত্কালীন রাশিয়ার পেট্রোগ্রাদে (পরে নাম হয়েছিল লেলিনগ্রাদ এবং বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গ) পৌঁছেছিলেন। পেট্রোগ্রাদে পৌঁছানোর দিনটি ছিল সোমবার এবং তারিখ ছিল ১৯১৭ সালের ১৬ এপ্রিল। ইতিহাসের পাতায় সেই দিনটি একাধিক কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, লেনিনের সেই ঐতিহাসিক ট্রেন যাত্রার আড়ালে ছিল তত্কালীন রাশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জার্মানির স্বার্থ। কেননা বার্লিন বিবেচনা করেছিল, ‘জার্মান সরকারের স্বার্থ রুশ বিপ্লবীদের সমান’। তাই ঐতিহাসিক কারণে লেনিনের ট্রেন যাত্রার গুরুত্ব অপরিসীম।

গত শতকের প্রথম দশকের শুরুর দিকে লেনিন ছিলেন বিশিষ্ট সমাজতান্ত্রিকদের একজন। তিনি যুদ্ধের বিরোধিতা করতেন এবং সর্বদা বিশ্বাস করতেন যে বিপ্লব সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চাবিকাঠি। কিন্তু যখন প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়, তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হন। কেননা তার সহকর্মী সমাজতান্ত্রিকরা যুদ্ধের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য তাদের সরকারের সঙ্গে জোট বাঁধেন। তিনি তার সঙ্গীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে নির্বাসন জীবন গ্রহণ করেন।

যাহোক, নির্বাসনে থাকার সময় ১৯১৭ সালের ১৫ মার্চ বিকালে পোলিশ বিপ্লবী মিয়েকজিসল ব্রনস্কি সিঁড়ি দিয়ে লেনিনের এক কামরার অ্যাপার্টমেন্টে যান। তখন লেনিন ও তার স্ত্রী নাদেজদা ক্রুপস্কায়া দুপুরের খাবার শেষ করেছেন। ‘আপনি কি খবরটা শোনেননি?’ ব্রনস্কি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘রাশিয়ায় বিপ্লব শুরু হয়ে গেছে!’ সেদিন লেনিন খাদ্য সংকটের কারণে রাশিয়ায় বিশৃঙ্খলার খবর শুনে স্তম্ভিত হন এবং এক সময় জুরিখের লেকের পাশে যান। কেননা সেখানে জনসাধারণের পড়ার জন্য সংবাদপত্র ঝুলিয়ে রাখা হতো। পরবর্তী কয়েক দিন তিনি একই সংবাদ দেখতে পেলেন। তিনি ভাবতে থাকেন, এখন কি ফিরে যেতে পারবেন? তার সম্মুখে এক নতুন পৃথিবী যেন উঁকি দিচ্ছিল, যদিও তার কাছে তখন প্রায় তা অবাস্তব ছিল। তার মনের ভাব প্রকাশ করে তিনি এক বন্ধুকে লিখেছেন, ‘আমাদের যেকোনো উপায়ে ফিরে (রাশিয়ায়) যেতে হবে, যদি তা জাহান্নামের মধ্য দিয়ে হয় তাহলেও।’ কিন্তু কীভাবে? সংক্ষেপে বলা যায়, তিনি একটি বিমান ভাড়া করে ইউরোপের আকাশ ঘুরে রাশিয়ায় অবতরণ করার পরিকল্পনা করেন। আলেকজান্ডার কেসকুলা, যিনি এস্তোনিয়ান, জার্মানির গুপ্তচরের বাহিনীর একজনকে পরামর্শ দেন যে জুরিখে নির্বাসিত লেনিনকে রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার সুব্যবস্থা করা হলে জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করে তিনি সুফল বয়ে আনতে সক্ষম হবেন। সেখানে যুদ্ধবিরোধী শিবির শক্তিশালী করলে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে এবং আমেরিকা যুদ্ধে প্রবেশের আগেই ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে পরাজিত করার জন্য জার্মানি সময় পাবে। ফলে জার্মানির যুদ্ধ জয় শিগগিরই নিশ্চিত হয়ে যাবে।

এদিকে যখন বিপ্লবের সংবাদ সুইজারল্যান্ডে নির্বাসিত লেনিনের কাছে পৌঁছায়, তখন তিনি বেশ অস্থির হয়ে ওঠেন এবং রাশিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। সেই সময়ই তার কাছে জার্মানির প্রস্তাব আসে এবং তিনি তা গ্রহণ করেন। তবে জানা যায়, লেলিনের সঙ্গে জার্মানির চুক্তি সমঝোতা করতে মাত্র দুই সপ্তাহ লেগেছিল। লেনিন জোর দিয়ে বলেছিলেন, ট্রেনটিকে একটি ‘বিদেশী স্থাপনা’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। জার্মান সরকার তার শর্ত মেনে নিয়েছিল।

বিশ্বযুদ্ধের সেই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে রাশিয়ায় ফিরে আসার জন্য লেনিনের মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্থিরতাকে শ্রমিক বিপ্লবে পরিণত করা, সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করার চেষ্টা করা, যা পুঁজিবাদকে উত্খাত করবে এবং কার্ল মার্ক্স ও ফ্রেডরিখ এঙ্গেলসের তাত্ত্বিক ‘প্রোলেতারিয়েতের একনায়কতন্ত্র’ ঘোষণার মাধ্যমে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করার জন্য তিনি ৩১ জন সহকর্মী (যাদের মধ্যে তার স্ত্রী নাদেজদা ক্রুপস্কায়াসহ ২৯ জন রুশ নির্বাসিত বিপ্লবী, একজন পোল ও একজন সুইস ছিলেন) নিয়ে জুরিখ থেকে সিল করা ট্রেনে চড়ে রাশিয়ার তত্কালীন পেট্রোগ্রাদের ফিনল্যান্ড স্টেশনে যাত্রা করেন। যাত্রাপথে তারা জার্মানি অতিক্রম করেছিলেন, ফেরি করে বাল্টিক সাগর পাড়ি দিয়েছিলেন এবং স্টকহোম থেকে সুইডেনের প্রত্যন্ত কোণে টানা ১৭ ঘণ্টা ট্রেনে চড়েছিলেন।

জুরিখ থেকে লেনিনের রাশিয়া প্রত্যাবর্তন যাত্রা হয়েছিল ১৯১৭ সালের ৯ এপ্রিল। সেদিন জুরিখ স্টেশনে আনুমানিক ১০০ জন রাশিয়ান জড়ো হয়েছিলেন। তারা ছিলেন ক্ষুব্ধ। বিক্ষোভ প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে তারা জার্মান শত্রুর সঙ্গে সমঝোতা করে ফিরে যাওয়ার জন্য লেনিনদের উপহাস করেন। বিক্ষোভকারীরা চিত্কার করে, ‘প্ররোচক! গুপ্তচর! শূকর! বিশ্বাসঘাতক! কাইজার যাত্রার জন্য টাকা দিচ্ছে। তারা তোমাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখবে...।’ ট্রেন স্টেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় লেনিন জানালা দিয়ে এক বন্ধুকে বিদায় জানান এবং ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, ‘হয় আমরা তিন মাসের মধ্যে ফাঁসি থেকে দোলনায় দুলব, নয়তো আমরা ক্ষমতায় থাকব।’ অবশেষে সেদিন ৩টা ১০ মিনিটে জুরিখ থেকে ট্রেনযাত্রা করেন।

লেনিন ও তার সঙ্গীদের ট্রেনে বেশ কয়েকটি দ্বিতীয় শ্রেণীর কম্পার্টমেন্ট এবং শৌচাগার ছিল। সেটা ছিল গোপন ট্রেনযাত্রা। সুতরাং ট্রেনের মধ্যে ছিল অত্যন্ত কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা, যার মধ্যে ছিল ঘুমের রোস্টার অর্থাৎ কে কখন ঘুমাবে, তার তালিকা। এছাড়া লেনিন কম্পার্টমেন্ট বা করিডোরে ধূমপান নিষিদ্ধ করেন, যা তার কিছু কমরেডদের জন্য মেনে চলাটা বেশ কঠিন ছিল, বিশেষ করে যারা চেইন-ধূমপায়ী ছিল। তিনি বেশকিছু নিয়ম আরোপ করেছিলেন, যার মধ্যে ছিল কারফিউ এবং ধূমপানের আদেশ চালু করার জন্য একটি বিশেষ নিয়ম। বিপ্লবীরা যারা চেইন-ধূমপায়ী ছিলেন, তারা ট্রেনে শৌচাগার ব্যবহার করতেন। কিন্তু তাতে একটা সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল, যখন আরেকজনকে জরুরি ভিত্তিতে শৌচাগার ব্যবহার করার প্রয়োজন দেখা দিত। সেই সমস্যা মোকাবেলার জন্য লেনিন একটি টিকিট সিস্টেম চালু করেন। তিনি ট্রেনের মধ্যে যেকোনো ধরনের আনন্দ-ফূর্তি কিংবা কোনো ধরনের উদযাপন নিষিদ্ধ করেন।

যেহেতু লেনিন একটি মিশনে ছিলেন এবং তাদের পরিকল্পনা যাতে উন্মোচিত না হয়, তাই তাদের মিশন নিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়, কোনো খোঁজখবর না নিয়েই জার্মান সমাজতন্ত্রীদের একজন তাদের ট্রেনে ভ্রমণের চেষ্টা করে,ন কিন্তু লেনিন তাকে ধরে ট্রেন থেকে ফেলে দেন। আরেকটি উদাহরণ, লেনিন অন্য আরেকজন জার্মান সমাজতান্ত্রিক কর্মীকে মারধর করার হুমকি দেন, যিনি ট্রেনে উঠে তাকে হ্যালো বলতে চেয়েছিলেন। ট্রেনযাত্রা সময় লেনিন বোশর ভাগ সময় তার সঙ্গীদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ ও নতুন কৌশল নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেন।

তবে সবচেয়ে কৌশলগত অংশ ছিল সুইডেন থেকে রাশিয়া যাত্রা। সেই ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ট্রেন যাত্রার ওপর ভিত্তি করে ক্যাথরিন মেরিডেল একটি অসাধারণ বই লিখেছেন, ‘লেনিন অন দ্য ট্রেন’, যা ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয়। মেরিডেল তার গ্রন্থে সেই ট্রেন যাত্রাকালীন বিভিন্ন সীমান্তে কী ঘটনা ঘটেছিল, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। যেমন লেনিন ও তার দল জোর দিয়ে বলেছে, তারা সাংবাদিক এবং বাড়ি ফিরে যাচ্ছিল। একজন ব্রিটিশ গুপ্তচর, যাকে পাসপোর্ট কন্ট্রোল অফিসার হিসেবে ক্রসিংয়ে পাঠানো হয়েছিল, ধানাই-পানাই করে তাদের দেরি করানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পেট্রোগ্রাদের কর্তৃপক্ষ বিশ্বাস করেছিল যে একটি গণতান্ত্রিক দেশের নিজস্ব নাগরিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।

তিনদিন জার্মানির মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে ট্রেন যাত্রার পর বিপ্লবীরা অবশেষে স্ট্রালসুন্ড এবং বাল্টিক সাগরের রুগেন দ্বীপে পৌঁছেন এবং সেখান থেকে তারা একটি ফেরিতে চড়ে সুইডেনে যান। নিরপেক্ষ সুইডেনে পৌঁছে তারা খানিকটা স্বস্তি বোধ করেন। লেনিন রাশিয়া পৌঁছানোর জন্য এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে তিনি তার চেহারার যত্ন-আত্তি করেননি। তার পরনে ছিল পুরনো পোশাক। কার্ল রাদেক, যিনি লেনিনের সঙ্গে সেই ট্রেনযাত্রা করেন, লেনিনের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এবং কিছু স্থানীয় রাশিয়ানদের দান করা তহবিল দিয়ে স্টকহোমে নতুন পোশাক ও জুতা ইত্যাদি কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু লেনিন রাদেককে বলেন, তার রাশিয়া যাওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য একটি বিপ্লব শুরু করা এবং তিনি তার চেহারা নিয়ে চিন্তিত নন। যাহোক, কার্ল রাদেক একজন রাশিয়ান নাগরিক হয়েও লেনিনের সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়ার পরিবর্তে তিনি নিরপেক্ষ সুইডেন থেকে বলশেভিজম প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেন।

অবশেষে ১৯১৭ সালের ১৬ এপ্রিল রাত ১১টা নাগাদ লেনিন ও তার সহকর্মীরা পেট্রোগ্রাদ ট্রেন স্টেশনে পৌঁছেন। সেদিন পেট্রোগ্রাদের রেলস্টেশনে লেনিনের জন্য অপেক্ষা করেছিল এক চরম নাটকীয় মুহূর্ত। মার্চিং ব্যান্ডের হাতে ছিল ‘La Marseillaise’ এবং তাদের কণ্ঠে ছিল বিপ্লবী বামপন্থীদের অন্যান্য গান। এছাড়া লেলিন ও বিপ্লবীদের স্বাগতম জানানোর জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। যাহোক, ট্রেন স্টেশন থেকে বেরিয়ে লেনিন দেখলেন যে তার অনেক অনুগামী তার জন্য অধীর অপেক্ষায়। তার বলশেভিক সহকর্মীরা যে অপ্রত্যাশিত অভ্যর্থনা জানিয়েছিল, তাতে অভিভূত বা বিস্মিত না হয়ে তিনি একটি সশস্ত্র গাড়িতে লাফ দিয়ে ওঠেন। তারপর উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে এক জ্বালাময়ী তাত্ক্ষণিক বক্তৃতা দেন। সেই বক্তৃতায় তিনি রাশিয়াকে যুদ্ধ থেকে বের করে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিগত সম্পত্তি কেড়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি ঘোষণা করেন, ‘অস্থায়ী সরকার, শান্তি ও ভূমির প্রতি তার কোনো সমর্থন নেই!’ তার বিপ্লবী বার্তাটি ছিল আশাবাদী ও আকর্ষণীয়—‘শান্তি, রুটি, জনগণের কাছে ক্ষমতা এবং সম্পদের আমূল পুনর্বণ্টন, সামাজিক সম্পর্কের রূপান্তর। জনগণের শান্তি দরকার, জনগণের রুটি দরকার, জনগণের জমি দরকার এবং (অস্থায়ী সরকার) আপনাকে যুদ্ধ, ক্ষুধা, কোনো রুটি দেবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই সামাজিক বিপ্লবের জন্য লড়াই করতে হবে... প্রোলেতারিয়েতের সম্পূর্ণ বিজয় পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব দীর্ঘজীবী করুন!’ পরে তা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে যথেষ্ট সহিংসতার মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যাপক হত্যা, অর্থনৈতিক বিচ্যুতি, রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিলুপ্তি। সে বছরে অক্টোবর বিপ্লবের পর লেনিন এবং বলশেভিকরা রাশিয়ায় ক্ষমতা দখল করে নেয় এবং সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করে।

ইতিহাসের পাতায় লেনিন ও তার সহকর্মী বিপ্লবীদের সেই ট্রেন যাত্রার আড়ালে রয়েছে দুনিয়ার অন্যতম ঐতিহাসিক বাঁক বদলকারী কাহিনী। কেননা সেই ট্রেনযাত্রা ছিল কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র, গুপ্তচরবৃত্তি, উঁচু ব্যক্তিত্ব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সামরিক ইতিহাস ও মতাদর্শের সমন্বয়। লেনিনের সমালোচকরা বলেন, ‘লেনিন রাশিয়ায় যা এনেছিলেন শ্রেণী ঘৃণা, জার্মান অর্থ এবং রাশিয়ায় মার্ক্সবাদের প্রয়োগের ওপর বিস্তারিত কাজ’ যেমনটা পেট্রোগ্রাদের পুলিশ প্রধান বলেছেন (যদিও লেনিনকে অর্থায়ন করার বিষয়টি আজও বিতর্কিত)।


তথ্যসূত্র:


১. Ted Widmer, Lenin and the Russian Spark, The New York Times, Published April 20, 2017.

২. Joshua Hamner, Vladimir Lenin’s Return Journey to Russia Changed the World Forever, Smithsonian Magazine, March 2017.

৩. Financial Review, How Vladimir Lenin’s train journey from Switzerland to Russia changed history, Updated Nov 1, 2016.

৪. Vejas Liulevicius, Lenin’s Return to Russia and the Beginning of a New Regime, From the lecture series: The Rise of Communism¦From Marx to Lenin, July 28, 2020.

৫. Catherine Merridale, Lenin on the Train, Published by Allen Lane, October 2016.


ফজল হাসান: লেখক ও অনুবাদক