ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের সূচনা হতেই তাদের ব্যবসা ও শাসনের কেন্দ্র ছিল কলকাতা। পরবর্তী সময়ে তাই পশ্চিমবঙ্গে একটি শিক্ষিত ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণী গড়ে ওঠে যারা বঙ্গীয় রাজনীতির প্রধান পুরুষ হয়ে উঠেছিলেন। অন্যদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতির চিত্রে দেখা যায় সেখানে ব্যবসায়ী, আইনজীবী এবং বিলাতফেরত ব্যক্তিদের প্রাধান্য ছিল যাদের অনেকেরই চিন্তাভাবনা বিলেতি ধারা থেকে কখনো বের হয়নি। এসব আলোচনার মধ্যে যে বিষয়টি আড়ালে পড়ে যায় তা হলো বাংলার একটা অংশ, অর্থাৎ পূর্ব বাংলার কৃষককুল অবহেলিত রয়ে যাচ্ছে। এর পরও বাংলা অখণ্ডই ছিল আর তা ধরে রাখার দায়িত্ব ছিল ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে থাকা আইনসভা ও মন্ত্রিপরিষদ নেতাদের। কিন্তু তারা সেখানে ব্যর্থ হয়েছেন।

কৃষক প্রজা পার্টি এ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ১৯২৯ সালে বঙ্গীয় আইন পরিষদের ১৮ সদস্য উদ্যোগী হয়ে ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ গঠন করেন। স্যার আবদুর রহিম ছিলেন সভাপতি। ফজলুল হক প্রথমে এর সহসভাপতি ছিলেন। ১৯৩৫ সালে তিনি সভাপতি হন এবং পরের বছর কৃষক প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। মূলত বাংলার কৃষকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের এজেন্ডা নিয়ে এ দলের আত্মপ্রকাশ।

যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে সে সময়ে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব ছিল। কংগ্রেস যে সর্বভারতীয় রাজনীতি নিয়ে এসেছিল তা এ সময়ের মধ্যে অনেকটাই ভেঙে যায়। নির্বাচনের কেবল এক বছর আগে গঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ১৯৩৭-এর নির্বাচনে ৩৬টি আসন নিয়ে তৃতীয় স্থান লাভ করে। ৪৭টি আসন নিয়ে কংগ্রেস প্রথম ও ৩৯টি আসন নিয়ে মুসলিম লীগ দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোয়ালিশন সরকার গঠন ছাড়া উপায় ছিল না ও এখান থেকেই কৃষক প্রজা পার্টির ভাঙনের সূচনা। বাংলার অখণ্ডতাও সে সময়েই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির কাছে মানুষের যে বিপুল রাজনৈতিক প্রত্যাশা ছিল তা ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে ইতিহাস গবেষক সেমন্তী ঘোষ তিনটি পর্যায়কে শনাক্ত করেছেন। প্রথম পর্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে বনিবনা না হওয়া, দ্বিতীয় মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন করলেও তা কার্যকর না হওয়া ও তৃতীয় পর্যায়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে মন্ত্রিসভা গঠন করে ব্যর্থ হওয়া। এ প্রতিটি পর্যায়ের পেছনে নানাবিধ কারণ ছিল। এক্ষেত্রে কখনো কেউ সরাসরি ফজলুল হককে দায়ী করেছেন, কেউ তৎকালীন রাজনীতির চলমান গতিকে দায়ী করেছেন। Different Nationalisms : Bengal 1905-1947 বইয়ে সেমন্তী ঘোষ লিখেছেন, ‘কৃষক প্রজা পার্টি তৎকালীন সর্বভারতীয় দুদল অর্থাৎ কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণে নানা পর্যায়ে ব্যর্থ হয়েছে।’

প্রথমেই কংগ্রেস কোয়ালিশন করতে অস্বীকৃত হলে কৃষক প্রজা পার্টি স্বাভাবিকভাবেই মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন করেছিল। কংগ্রেসের এ অস্বীকৃতির কারণে এ কে ফজলুল হক হতাশ হয়েছিলেন। মূলত কংগ্রেস যে আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করে, কৃষক প্রজা পার্টির আদর্শ ছিল তা থেকে ভিন্ন। এ সময় দলটি গণমানুষের রাজনীতি শুরু করে যেখানে কংগ্রেসের নীতিতে এ ‘গণমানুষ’ ধারণাটি অস্পষ্ট রাখা হয়েছিল। অগত্যা মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন করে ফজলুল হক প্রধানমন্ত্রী হলেন। কিন্তু মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির আদর্শ ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। মুসলিম লীগ একদিকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং অন্যদিকে সরকারে থাকার উদ্দেশ্যে কোয়ালিশন গঠন করল।

১১ জনের মন্ত্রিসভায় কৃষক প্রজা পার্টির ছিলেন মাত্র দুজন, বাকিরা ছিলেন মুসলিম লীগ ও সংখ্যালঘু দলগুলোর। মুসলিম লীগ প্রথম সুযোগেই প্রজা পার্টির আদর্শের ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেয়। ফলে কৃষক প্রজা পার্টির অভ্যন্তরেই ভাঙন ধরে। ১৯৩৭ সালের শেষের দিকে দলের ১৭ জন সদস্য ফজলুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে। তার পক্ষে ছিলেন মাত্র ১৯ জন। কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার, এ ১৯ সদস্যের সমর্থন নিয়ে ফজলুল হক দুদফায় মোট সাত বছরের মতো সময় অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার মানুষের প্রয়োজন ছিল এমন একটি আইনসভা যা তাদের আশা দেবে যে তারাও কলকাতার শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মতো সুযোগ সুবিধা পাবেন। ফজলুল হক ও কৃষক প্রজা পার্টির কারণে কোয়ালিশন সরকারের দলের প্রতি পূর্ববঙ্গের শ্রমজীবীদের আস্থা তৈরি হয়েছিল। সাংবাদিক মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ লিখেছেন, ‘বৈদিক যুগ থেকে কলি যুগ পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষ কখনো নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেনি। ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমি এ নির্বাচনের ঘটনাকে বাল্মীকির রামায়ণ, অশোকের কলিঙ্গ অভিযান, আলাউদ্দিন খিলজির বাজার ব্যবস্থা, শের শাহর গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড, আকবরের দ্বীন-ই-ইলাহী কিংবা শাহজাহানের তাজমহল নির্মাণের চেয়ে ছোট করে দেখি না।’ অর্থাৎ ওয়ালিউল্লাহর মতো একজন সাংবাদিকের যদি এ ধরনের মত হয়, বোঝাই যায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল আরো বেশি।

সে প্রত্যাশা খোদ ফজলুল হক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। বিশের দশকের স্বদেশী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট হাওয়াকে তিনি ঘুরিয়ে ফেলেছিলেন এ সময়। কংগ্রেস, মুসলিম লীগ যখন বড় বড় ভাবগম্ভীর কথা বলে চলেছে ফজলুল হক তখন বললেন, ‘ডাল-ভাত আর মোটা কাপড়ের সমস্যা সমাধান না করে অন্য সমস্যার দিকে এগোনো যাবে না।’ সাধারণ মানুষও ভেবেছিল কৃষক প্রজা পার্টিকে ভোট দিয়ে নিজেদের ডাল-ভাত নিশ্চিত করবে। পরে একটা সময়ে হক সাহেবের এ তত্ত্বকে অনেকে ‘ডাল-ভাতের রাজনীতি’ বলে বিদ্রূপ করেছেন, এখনো করে থাকেন। কিন্তু কৃষক প্রজা পার্টির ম্যানিফেস্টো মূলত বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে ১২ দফার মধ্যে জমিদারি বিলোপ, কৃষকের ওপর খাজনা হ্রাস, জমিদারি সেরেস্তায় নজর, সেলামি, ভেট প্রভৃতি বিলোপ, কৃষকের ঋণ সমস্যার সমাধান প্রভৃতির কথাই গুরুত্ব সহকারে বলা হয়েছিল।

কিন্তু হক সাহেব তথা কৃষক প্রজা পার্টি প্রথমেই সমালোচিত হলো এর সরকার গঠনের কোয়ালিশনের কারণে। যে দলটি জমিদারি বিলোপের কথা বলছে সে দলই জমিদার, জোতদার, তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত মুসলিম লীগের সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে। এ মন্ত্রিসভার ১১ সদস্যের মধ্যে নয়জনই ছিলেন ধনিক শ্রেণীর। মুসলিম লীগের সঙ্গে কৃষক প্রজা পার্টির আত্মিক সমন্বয় কখনো সম্ভব ছিল না। কেননা মুসলিম লীগের ভিত্তি ছিল সৈয়দ, নওয়াব, খান বাহাদুর ঘরানার সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা। আর ফজলুল হকের দলটি এদেরই স্বার্থবিরোধী কর্মসূচির অঙ্গীকার করেছিল।

বিখ্যাত সাংবাদিক-রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ দলটিকে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, ‘মূলত মধ্যবিত্ত মুসলিমদের একটি দল যা তৎকালীন হিন্দু ও মুসলিম উভয় ঘরানার সামন্ততান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।’ কিন্তু সেটি পরিপূর্ণ রূপে করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকার গঠনের পর লীগের সঙ্গে অবনিবনার মধ্যে ফজলুল হক ‘ফ্লাউড কমিশন’ নামে একটি কমিশন গঠন করে জমিদারি প্রথা বিলোপের সুপারিশ করেন। যদিও ফ্লাউড কমিশন জমিদারি বিলোপের পক্ষে রিপোর্ট প্রদান করে, ফজলুল হক তা কার্যকর করতে অক্ষম হন। কেননা জমিদার মন্ত্রীরা কখনো জমিদারি বিলোপে রাজি ছিলেন না।

রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত উভয় সিদ্ধান্তের কারণেই ফজলুল হকের ‘ক্যারিশমা’ দিয়ে কৃষক প্রজা পার্টিকে টিকিয়ে রাখা যায়নি। দলের সদস্যের অনাস্থা এবং তার মুসলিম লীগে যোগদানের পর কৃষক প্রজা পার্টি মূলত ভেঙে গিয়েছিল। তিনি মুসলিম লীগের দিকে ঝুঁকে পড়েন ও পরবর্তী সময়ে ‘বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ’-এর সভাপতি হয়ে বসেন।

মোটামুটি বছর তিনেক কাটিয়ে এ কোয়ালিশনও ব্যর্থ হলো। জিন্নাহ তথা লীগকে না জানিয়ে ফজলুল হক ‘ওয়ার কমিশন’-এ যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৪১ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মুসলিম লীগ থেকে তার পদত্যাগ, পুনর্নিয়োগ ও পুনঃপদত্যাগের নাটক চলতে থাকে। অবশেষে এ বছরই লীগের সঙ্গে তার সম্পর্ক চুকে যায়। এর পর পরই ফরোয়ার্ড ব্লক, হিন্দু মহাসভার সঙ্গে তিনি মৈত্রী করেন। ১৯৪১-৪৩ পর্যন্ত মহাসভার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে চলা সরকার আজও ‘শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা’ নামেই অধিক পরিচিত।

এ দুজনের নাম থাকলেও কোয়ালিশনে ফজলুল হক ও শ্যামাপ্রসাদের সঙ্গে সুভাষ চন্দ্র বসুর ফরোয়ার্ড ব্লক, কৃষক প্রজা পার্টির অপর একটি অংশ, তফসিলি সম্প্রদায়ও যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এ কোয়ালিশন সরকার বা মন্ত্রিসভায় আট মন্ত্রী ছিলেন। লক্ষ করলে দেখা যাবে, এ কোয়ালিশনে বিভিন্ন ঘরানার মানুষ এক হয়েছিলেন। তাদের ছিল ভিন্ন ভিন্ন মত, আদর্শ ও উদ্দেশ্য। আমরা জানি, এ সময়ের মধ্যে (১৯৪১-৪৩) সুভাষ বসুর নেতৃত্বে হলওয়েল মনুমেন্ট উৎপাটন, সিরাজদ্দৌলার স্মরণে সিরাজ দিবস পালন প্রভৃতির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই ভিন্ন ভিন্ন আদর্শের মধ্যে উপযুক্ত সমঝোতা না হওয়া এবং নানা বাহ্যিক চাপের কারণে এ কোয়ালিশনও দৃঢ় হয়নি।

কোয়ালিশনের চেষ্টায় প্রথমে কংগ্রেসের উন্নাসিক আচরণ, পরবর্তী সময়ে লীগ কর্তৃক প্রজা পার্টিকে গ্রাস করার থাকলেও ১৯৩৭ সালের নির্বাচন-পরবর্তী মানুষের আকাঙ্ক্ষা ব্যর্থ হওয়ার দায় কৃষক প্রজা পার্টি, আইনসভা ও মন্ত্রিসভা এড়াতে পারে না। শ্যামা-হক মন্ত্রিসভা সম্পর্কে আলোচনার জন্য আরো বিস্তৃত পরিসর প্রয়োজন। তবে অনেকেই বলে থাকেন, লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর লীগ এই মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেছিল। ইস্পাহানী, আদমজী প্রমুখ ব্যবসায়ীর আনুকূল্যে মুসলিম লীগ কৃষক প্রজা পার্টি এবং হক সাহেবের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে আরম্ভ করে এবং তারা সফলও হয়েছিল।

এসব বিষয়কে মোটামুটি সরাসরি চিহ্নিত করা চলে। কিন্তু সেমন্তী ঘোষ তার লেখায় বেশকিছু নেপথ্য কারণ উল্লেখ করেছেন। সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত না করলেও তৎকালীন হিন্দু সমাজে শুরু হওয়া হিন্দুত্ববাদের চর্চা, বঙ্কিমের আনন্দমঠ নিয়ে পুনরায় আলোচনা, শিবাজিকে হিন্দু রাজা হিসেবে একটি সর্বভারতীয় চরিত্র দেয়া, বন্দেমাতরমকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণের প্রস্তাব প্রভৃতি বিষয় একটি হিন্দু-মুসলিম সংকট তৈরি করেছিল যা শ্যামা-হক মন্ত্রিসভার জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। কোয়ালিশন মন্ত্রিপরিষদ এ বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করতে পারেনি কিংবা পারলেও শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছিল।

১৯৩৭ থেকে গঠিত তিনটি মন্ত্রিসভা বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের দল হয়ে উঠতে পারত। আর সেটা হলে পূর্ববঙ্গের মানুষের সমর্থন তারা লাভ করত। এতে ‘বাঙালি-মুসলমান’ বলে যে রাজনৈতিক শক্তি পরবর্তী সময়ে উঠে এসেছিল, তা আরো আগে সর্বভারতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হতো।

বলা চলে, ১৯৩৭ সফল হলে হয়তো ’৪৭-এর ইতিহাসও ভিন্ন হতো। এত কিছু না হলেও প্রথমে কংগ্রেসের সঙ্গে কোয়ালিশন হলে একটি শান্ত, স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি সম্ভব হতো। হয়তো বাংলাও অখণ্ড থাকত। কিন্তু উপমহাদেশের রাজনীতির নানা সমীকরণ, নিয়তি আর বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

মাহমুদুর রহমান: লেখক ও সাংবাদিক